দক্ষিণ কোরিয়ার উত্থানে ভারতের অবনমন

দক্ষিণ কোরিয়ার উত্থানে ভারতের অবনমন

বাজার মূলধনের দিক থেকে বৈশ্বিক শেয়ারবাজারের তালিকায় সপ্তম স্থানে নেমে এসেছে ভারত। গত মঙ্গলবার দক্ষিণ কোরিয়া ভারতকে পেছনে ফেলে এগিয়ে গেছে। মূলত বিদেশি বিনিয়োগকারীদের শেয়ার বিক্রির প্রবণতা, দুর্বল আয় এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিতে আশানুরূপ বিনিয়োগ না থাকাকে ভারতের এই বিপর্যয়ের প্রধান কারণ হিসেবে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা। রয়টার্স সূত্রে এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

বাজার মূলধনের দিক থেকে বৈশ্বিক শেয়ারবাজারের তালিকায় সপ্তম স্থানে নেমে এসেছে

ভারত। গত মঙ্গলবার দক্ষিণ কোরিয়া ভারতকে পেছনে ফেলে এগিয়ে গেছে। মূলত বিদেশি

বিনিয়োগকারীদের শেয়ার বিক্রির প্রবণতা, দুর্বল আয় এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)

প্রযুক্তিতে আশানুরূপ বিনিয়োগ না থাকাকে ভারতের এই বিপর্যয়ের প্রধান কারণ হিসেবে

মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা। রয়টার্স সূত্রে এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

বর্তমানে এআই চিপের বাজারে দক্ষিণ কোরিয়ার শক্তিশালী অবস্থান দেশটিকে ভারতের চেয়ে

এগিয়ে রেখেছে। চলতি বছর দক্ষিণ কোরিয়ার শেয়ারবাজারে ব্যাপক উত্থান পরিলক্ষিত হয়েছে।

দেশটির কসপি, কসদাক ও কোনেক্স সূচকে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর সম্মিলিত বাজারমূল্য

দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক শূন্য ১ ট্রিলিয়ন ডলারে। অন্যদিকে ভারতের ন্যাশনাল স্টক

এক্সচেঞ্জের (এনএসই) তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর মোট মূল্য এখন ৪ দশমিক ৮৫

ট্রিলিয়ন ডলারে নেমেছে। উদীয়মান বাজারগুলোর মধ্যে জনপ্রিয় হওয়া সত্ত্বেও মাত্র দুই

সপ্তাহের ব্যবধানে বৈশ্বিক তালিকায় দুই ধাপ নিচে নেমে গেছে ভারত। এর আগে গত মাসেই

দেশটি তাইওয়ানের কাছে নিজের অবস্থান হারিয়েছিল।

বার্নস্টেইনের বিশ্লেষক ভেনুগোপাল গ্যারে ও নিখিল আরিলা জানিয়েছেন, প্রায় ১৮ মাস

আগেও ভারতের শেয়ারবাজারের মূলধন দক্ষিণ কোরিয়ার চেয়ে সাড়ে তিন গুণ এবং তাইওয়ানের

তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি ছিল। তবে ২০২৬ সালের প্রথম পাঁচ মাসের মধ্যেই ভারতের সেই

বিশাল ব্যবধানের লিড পুরোপুরি হাতছাড়া হয়ে গেছে। চলতি বছর ভারতের প্রধান শেয়ারবাজার

সূচক নিফটি ৫০ ১০ দশমিক ১ শতাংশ এবং বিএসই সেনসেক্স ১২ দশমিক ৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।

বিশেষ করে ভারতের আইটি খাতের সূচক ১৯ শতাংশ কমেছে, যা মূলত দুর্বল আয়ের পূর্বাভাস ও

বিদেশি বিনিয়োগকারীদের শেয়ার বিক্রির চাপের ফল।

২০২৬ সালের এ পর্যন্ত বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ভারতের শেয়ারবাজার থেকে রেকর্ড ২ হাজার

৬৪০ কোটি ডলার তুলে নিয়েছেন। এর আগে ২০২৫ সালে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৮৯১ কোটি ডলার তুলে

নেওয়ার রেকর্ড ছিল। এর ফলে এমএসসিআই গ্লোবাল স্ট্যান্ডার্ড ইনডেক্সে ভারতের হিস্যা

২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরের সর্বোচ্চ ২১ শতাংশ থেকে কমে এখন ১২ দশমিক ৩ শতাংশে

দাঁড়িয়েছে। ফরাসি সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান কার্মিনিয়াকের ফান্ড ম্যানেজার

নাওমি ওয়েস্টেল একে একটি “স্মরণীয় পতন” হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

দক্ষিণ কোরিয়ার চিপ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান স্যামসাং ইলেকট্রনিকস ও এসকে

হাইনিক্সের শেয়ারদর আকাশচুম্বী হওয়ায় দেশটির প্রধান সূচক কসপি ১০৭ শতাংশ বৃদ্ধি

পেয়েছে। অন্যদিকে এআই প্রযুক্তির ব্যাপক চাহিদার কারণে তাইওয়ানের প্রধান সূচক

বেড়েছে ৫৯ শতাংশ। বিশ্লেষকদের মতে, এআই প্রযুক্তি থেকে ভারত পর্যাপ্ত সুবিধা নিতে

পারছে না। বর্তমানে বিশ্বে এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার চাহিদা তুঙ্গে থাকলেও চিপ

তৈরির মূল কেন্দ্র হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে তাইওয়ান ও দক্ষিণ কোরিয়া। তবে লাইটহাউজ

ক্যান্টনের প্রধান বিনিয়োগ কর্মকর্তা অভয় লাইজাওয়ালা মনে করেন, “এআই ইকোসিস্টেম বা

ডেটা সেন্টার পরিচালনার জন্য প্রচুর বিদ্যুৎ, কুলিং সিস্টেম ও ভৌত অবকাঠামোর

প্রয়োজন হয়। ভারত এসব খাতে বিনিয়োগের মাধ্যমে এআই যুগে নিজেদের অর্থনীতিকে এগিয়ে

নেয়ার ভালো সুযোগ পেতে পারে।”

Staff Reporter
ADMINISTRATOR
PROFILE

Posts Carousel

Latest Posts

Top Authors

Most Commented

Featured Videos