লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান আরও তীব্র করার ঘোষণা দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। এই ঘোষণার পরপরই লেবাননের বিভিন্ন অঞ্চলে নতুন করে ব্যাপক বিমান হামলা শুরু করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। বিশেষ করে পূর্ব লেবাননের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বেকা উপত্যকাসহ বেশ কিছু এলাকায় এই জোরালো অভিযান চালানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। নতুন
লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান আরও তীব্র করার ঘোষণা
দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। এই ঘোষণার পরপরই লেবাননের
বিভিন্ন অঞ্চলে নতুন করে ব্যাপক বিমান হামলা শুরু করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। বিশেষ করে
পূর্ব লেবাননের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বেকা উপত্যকাসহ বেশ কিছু এলাকায় এই জোরালো
অভিযান চালানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। নতুন
করে এই সামরিক পদক্ষেপের ফলে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা আরও বৃদ্ধির চরম আশঙ্কা
তৈরি হয়েছে।
সোমবার রাতে এক ভিডিও বার্তায় নেতানিয়াহু স্পষ্ট করেন যে, তার দেশ বর্তমানে
হিজবুল্লাহর সঙ্গে বড় ধরনের সংঘাতে লিপ্ত এবং সামরিক বাহিনীকে শত্রুর শক্তি গুড়িয়ে
দেওয়ার স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি দাবি করেন, এ পর্যন্ত হিজবুল্লাহর
বিরুদ্ধে অভিযানে ৬০০টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তু বা প্রতিরোধক সফলভাবে নির্মূল করেছে
ইসরায়েল। চলমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং সীমান্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করতে
হামলার তীব্রতা আরও বাড়ানোর ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী।
চলতি মাসের শুরুর দিকে দুই দেশ ৪৫ দিনের জন্য যুদ্ধবিরতি বাড়াতে সম্মত হলেও বাস্তবে
তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। গত ১৬ এপ্রিলের পর থেকে ইসরায়েলি সামরিক তৎপরতা মূলত
দক্ষিণ লেবাননের সীমান্ত এলাকায় সীমাবদ্ধ থাকলেও সোমবার রাতের হামলাটির পরিধি
বেড়েছে। সিরিয়া সীমান্ত সংলগ্ন পূর্ব লেবাননের বেকা উপত্যকায় আক্রমণ চালানোর বিষয়টি
ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, সংঘাতের পরিধি এখন বিস্তৃতির পথে। ইসরায়েলের দাবি, ওই অঞ্চল থেকে
ড্রোন ও রকেট হামলা চালানো হচ্ছিল, যা প্রতিহত করতেই এই অভিযান।
দীর্ঘস্থায়ী এই সংঘাতে এ পর্যন্ত লেবাননের প্রায় ৩ হাজারেরও বেশি মানুষ প্রাণ
হারিয়েছেন এবং সাম্প্রতিক ইসরায়েলি অভিযানে ৪ শতাধিক ব্যক্তি নিহত হওয়ার খবর পাওয়া
গেছে, যাদের মধ্যে জরুরি সেবা কর্মীরাও রয়েছেন। অন্যদিকে, প্রাথমিক যুদ্ধবিরতি
কার্যকর হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ১০ জন ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছেন বলে সরকারি তথ্যে
জানানো হয়েছে। এছাড়া ইসরায়েলি বাহিনীর পক্ষ থেকে অনবরত সরে যাওয়ার নির্দেশের কারণে
দক্ষিণ লেবাননের প্রায় ১০ লাখের বেশি মানুষ বর্তমানে বাস্তুচ্যুত হয়ে মানবেতর জীবন
যাপন করছেন।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ইরান সরকার সব পক্ষকে
পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার আহ্বান জানালেও ইসরায়েল হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে
অভিযান বন্ধে নারাজ। লেবানন সরকার বর্তমানে হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার এবং
পরিস্থিতি শান্ত করার জন্য অভ্যন্তরীণ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে কূটনৈতিক
বিশ্লেষকদের মতে, একটি দীর্ঘমেয়াদী ও কার্যকর যুদ্ধবিরতি ছাড়া এই জটিল রাজনৈতিক ও
সামরিক সংকট নিরসন করা সম্ভব নয়। বর্তমান সংঘাতের যে ধারা লক্ষ্য করা যাচ্ছে, তাতে
পুরো অঞ্চলটিতে একটি পূর্ণ মাত্রার যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বেড়েই চলেছে।











