প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টির সব ষড়যন্ত্র রুখে দেবে জনগণ। জনগণ যতক্ষণ সমর্থন দেবে আমরা বিএনপি জনগণের জন্য, দেশের জন্য ইনশাল্লাহ কাজ করে যাব। এর থেকে এক বিন্দুও এদিক-ওদিক হবে না। শনিবার (১৬ মে) বিকাল পৌনে ৫টায় চাঁদপুর সদর উপজেলার শাহ মাহমুদপুর ইউনিয়নের কুমারডুলি গ্রামের ঘোষের হাটসংলগ্ন ‘বিশ্ব খাল’ পুনঃখননের
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে বাধা
সৃষ্টির সব ষড়যন্ত্র রুখে দেবে জনগণ। জনগণ যতক্ষণ সমর্থন দেবে আমরা বিএনপি জনগণের
জন্য, দেশের জন্য ইনশাল্লাহ কাজ করে যাব। এর থেকে এক বিন্দুও এদিক-ওদিক হবে না।
শনিবার (১৬ মে) বিকাল পৌনে ৫টায় চাঁদপুর সদর উপজেলার শাহ মাহমুদপুর ইউনিয়নের
কুমারডুলি গ্রামের ঘোষের হাটসংলগ্ন ‘বিশ্ব খাল’ পুনঃখননের উদ্বোধন শেষে এক সমাবেশে
তিনি এসব কথা বলেছেন।
সরকার নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন শুরু করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন
আমরা যখন খাল কাটা শুরু করেছি, আমরা ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড দেয়া শুরু করেছি,
যখন ইমাম-মোয়াজ্জিনদের রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সম্মানী ভাতা দেয়া শুরু করেছি,
বৃক্ষরোপণ অভিযান শুরু করেছি- তখন কিছুসংখ্যক মানুষ এ নিয়ে বিভ্রান্তিকর কথা বলছে।
এর বিরোধিতা শুরু করেছে।
তিনি বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে দেশের মানুষ সচেতন ছিল বলেই তারা বিএনপির
পক্ষে রায় দিয়েছে। তাই পরিষ্কারভাবে হাজারো মানুষের সামনে আমি বলে দিতে চাই, আমরা
মানুষের পক্ষ থেকে যেই সমর্থন পেয়েছি, আমরা এক এক করে সেই কাজগুলো বাস্তবায়ন করব,
সেই পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করব।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, কেউ যদি এ কাজ বাধাগ্রস্ত করতে চায়, আমাদের কিছু করা লাগবে না,
বাংলাদেশের মানুষই তাদের সেই পরিকল্পনা অবশ্যই রুখে দেবে। তাই আসুন, যে
কর্মসূচিগুলো বাস্তবায়ন করলে এ দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে, আমরা সেসব কাজে
নেমে পড়ি।
তিনি বলেন, আমরা সবাই মিলে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হই, আমরা সবাই এলার্ট থাকব, সচেতন থাকব।
ওই বিভ্রান্তকারীদের বিভ্রান্তির ফাঁদে আমরা পা দেব না।
প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত হাজারো মানুষের উদ্দেশে বলেন, আমাদের সবাইকে সজাগ থাকতে হবে,
যাতে খাল খনন কর্মসূচিতে কেউ বাধা দিতে না পারে, মা-বোনদের হাতে ফ্যামিলি কার্ড
পৌঁছে দেওয়ার যে কর্মসূচি সেই কর্মসূচি যাতে কেউ বাধাগ্রস্ত করতে না পারে। আমাদেরকে
সজাগ থাকতে হবে কৃষক কার্ড কৃষক ভাইদের কাছে পৌঁছে দেবার যে পরিকল্পনা সেই
পরিকল্পনা যাতে কেউ বাধাগ্রস্ত করতে না পারে। আমরা দেশের বেকারদের কর্মসংস্থানের
জন্য যে সব কর্মসূচি নিয়েছি সেগুলো যাতে বাধাগ্রস্ত করতেন না পারে, সে ব্যাপারে
আপনাদেরকে সচেতন থাকতে হবে।
দেশ গঠনের তাগিদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, আমাদের সামনে উদ্দেশ্য,
লক্ষ্য একটাই। এ দেশকে পুনর্গঠন করতে হবে, এ দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে
হবে এবং সেই কাজ আমরা শুরু করেছি। বিএনপি সব সময় একটি কথা বলে থাকে, জনগণই হচ্ছে
বিএনপির সব রাজনৈতিক শক্তির উৎস এবং সেই জন্যই জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আমরা এসব কর্মসূচি
শুরু করেছি, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আমরা ফ্যামিলি কার্ডের কর্মসূচির কাজ শুরু করেছি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ দেশকে ১৯৭১ সালে আমাদের মুক্তিযোদ্ধারা যুদ্ধ করে স্বাধীন
করেছিলেন। কাজেই এখন আমাদের এ দেশকে গড়ে তোলার পালা। আমরা সবাই মিলে আমাদের প্রিয়
মাতৃভূমিকে ইনশাআল্লাহ আমাদের সেই প্রত্যাশিত বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলব।’
ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন: চাঁদপুর সরকারি কলেজ মাঠে গতকাল বিকেলে
ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিএনপির
দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনের রাজনীতি করে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন,
‘বিএনপির রাজনীতি মানে খাল খনন, কৃষির উৎপাদন বৃদ্ধি, নতুন মিল কারখানা তৈরি,
মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা, স্বাস্থ্যের ব্যবস্থা করা, মানুষের নিরাপত্তা
নিশ্চিত করা।’ সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের এই
অনুষ্ঠান হয়।
চাঁদপুর ছাড়াও আরও ২০টি জেলায় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের এই
কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। অনুষ্ঠানে ১০ জন নারী- হাসিনা
খাতুন, সোহাগী আখতার, ফাতেমা খাতুন, আমেনা খাতুন, মোসেদা বেগম, মনোয়ারা বেগম,
মাহমুদা খাতুন, রুমা আখতার, নাজমা বেগম এবং তাসলিমার হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেন
প্রধানমন্ত্রী।
খোর্দ্দ খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গতকাল দুপুরে
চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে টামটা দক্ষিণ ইউনিয়নের উয়ারুক বাজারের ‘খোর্দ্দ খাল’ পুনঃখনন
স্থলে পৌঁছে ফলক উন্মোচন করে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। ফলক উন্মোচনের পরে খালের
পাড়ে নেমে নিজের হাতে কোদাল দিয়ে মাটি কাটেন প্রধানমন্ত্রী। পরে তিনি খালের পাড়ে
বৃক্ষরোপণ করেন।
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ১৯৭৮ সালে এই খোর্দ্দ খাল খনন করেছিলেন। ৪৮ বছর পর
সেই খাল পুনঃখনন করলেন তার ছেলে তারেক রহমান।
কৃষককে পাশে বসিয়ে কথা শুনলেন প্রধানমন্ত্রী : চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে খাল পুনঃখনন
কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে বিশাল সমাবেশে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময়
সমাবেশ থেকে সাইফুল ইসলাম লিটন নামের এক সাধারণ কৃষককে ডেকে নিজের পাশে বসান
সরকারপ্রধান, কথা বলেন তার সঙ্গে। অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে তার সুখ-দুঃখের কথা
শোনেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রীর এমন অভূতপূর্ব ও সাধারণ আচরণে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন কৃষক সাইফুল।
তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া যে আমাকে এমন একটি
অনন্য সুযোগ করে দিয়েছেন। দেশের প্রধানমন্ত্রীর পাশে বসতে পারা এবং নিজের কথা
সরাসরি তাকে বলতে পারা আমার জীবনের অন্যতম একটি স্মরণীয় মুহূর্ত হয়ে থাকবে।
খোর্দ্দ খাল পুনঃখনন ও প্রধানমন্ত্রীর এই সমাবেশ ঘিরে পুরো জেলায় উৎসবমুখর পরিবেশ
সৃষ্টি হয় এবং সকাল থেকেই প্রিয় নেতাকে একনজর দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে আসা মানুষের
ঢল নামে সমাবেশস্থলে।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপি সভাপতি শেখ ফরিদ
আহমেদ মানিক। এছাড়া চাঁদপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ও শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক
মিলন, কৃষি এবং প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, ত্রাণ ও দুর্যোগ
ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী আসাদুল হক দুলু, সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী
অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন,
শরীয়তপুর সদর আসনের সংসদ সদস্য মিয়া নুরুদ্দিন অপু, সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য
রাশেদা বেগম হীরা, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও অর্থনৈতিক অঞ্চল
কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীসহ জেলা বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা এ সময়
উপস্থিত ছিলেন।
কুমিল্লা বিভাগ করার প্রতিশ্রুতি দিলেন প্রধানমন্ত্রী: জনগণের দাবি ও প্রয়োজনের
ভিত্তিতেই কুমিল্লাকে বিভাগে উন্নীত করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে জানিয়ে
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, জনগণের দাবি হয়ে থাকলে কুমিল্লা বিভাগ হবে। দেশ
পুনর্গঠনের অঙ্গীকার পুনরায় ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সবার
আগে দেশ— এবং দেশটা সবার। গতকাল কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার লক্ষ্মীপুর বাজার মাঠে এক
পথসভায় তিনি বলেন, জনগণের দেওয়া ম্যান্ডেটের ভিত্তিতে যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া
হয়েছে তা বাস্তবায়ন করা হবে। সভায় উপস্থিত জনতা ‘কুমিল্লা বিভাগ চাই’ দাবি তুললে
তিনি বলেন, সবাই একমত হলে তা বাস্তবায়ন করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী মঞ্চে উঠলে উপস্থিত সমর্থকরা মুহুর্মুহু করতালিতে তাকে স্বাগত জানান।
তিনি হাত নেড়ে নেতাকর্মীদের শুভেচ্ছার জবাব দেন। এর আগে সকাল থেকেই
ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে ছোট ছোট মিছিলে নেতাকর্মী ও সমর্থকরা মাঠে জমায়েত হতে
থাকেন। সাড়ে ১০টার মধ্যেই সভাটি হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে বড় সমাবেশে রূপ নেয়।
পথসভায় বক্তব্য রেখে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, আমরা আমাদের যেসব পরিকল্পনা
মানুষের সামনে উপস্থাপন করেছিলাম তার ভিত্তিতে মানুষ আমাদের ভোট দিয়েছে। যে ওয়াদা
করেছি তা বাস্তবায়ন করব।
সভায় জনতার পক্ষ থেকে কুমিল্লা বিভাগ প্রতিষ্ঠার দাবি ওঠে। জবাবে প্রধানমন্ত্রী
বলেন, ঠিক আছে। সবাই যদি এই দাবির সঙ্গে একমত হন, তাহলে বাস্তবায়ন হবে।











