নাহিদ রানার পাঁচ উইকেট: মিরপুর টেস্টে ১০৪ রানে হারল পাকিস্তান

নাহিদ রানার পাঁচ উইকেট: মিরপুর টেস্টে ১০৪ রানে হারল পাকিস্তান

মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে পেসার নাহিদ রানার বিধ্বংসী বোলিংয়ে পাকিস্তানকে পাত্তাই দিল না বাংলাদেশ। সিরিজের প্রথম টেস্টে সফরকারীদের ১০৪ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে শুভসূচনা করেছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। ২৬৮ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে নাহিদ রানার গতির ঝড়ে পাকিস্তান মাত্র ১৬৩ রানেই গুটিয়ে যায়। এই জয়ের মাধ্যমে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে

মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে পেসার নাহিদ রানার বিধ্বংসী বোলিংয়ে

পাকিস্তানকে পাত্তাই দিল না বাংলাদেশ। সিরিজের প্রথম টেস্টে সফরকারীদের ১০৪ রানের

বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে শুভসূচনা করেছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। ২৬৮ রানের লক্ষ্যে

খেলতে নেমে নাহিদ রানার গতির ঝড়ে পাকিস্তান মাত্র ১৬৩ রানেই গুটিয়ে যায়। এই জয়ের

মাধ্যমে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি পাকিস্তানের

বিপক্ষে টানা তৃতীয় টেস্ট জয়ের নতুন এক মাইলফলক স্পর্শ করল টাইগাররা।

ম্যাচের শেষ দিনে জয়ের জন্য পাকিস্তানের প্রয়োজন ছিল ২৬৮ রান। তবে ইনিংসের প্রথম

ওভারেই আঘাত হানেন তাসকিন আহমেদ; ওপেনার ইমাম-উল হককে মাত্র ২ রানে সাজঘরে ফিরিয়ে

তিনি শুভসূচনা করেন। দলীয় ৬৮ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে পাকিস্তান যখন চরম বিপর্যয়ে, তখন

আব্দুল্লাহ ফজল ও সালমান আগা মিলে ৫১ রানের একটি প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন। লড়াকু

৬৬ রান করা ফজলকে তাইজুল ইসলাম এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেললে এই জুটি ভেঙে যায়। এরপরই

শুরু হয় নাহিদ রানার তাণ্ডব। তিনি নিয়মিত বিরতিতে মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সৌধ শাকিলের

মতো থিতু হওয়া ব্যাটারদের ফিরিয়ে দিয়ে পাকিস্তানের ব্যাটিং মেরুদণ্ড ভেঙে দেন।

বল হাতে বাংলাদেশের এই ঐতিহাসিক জয়ের মূল কারিগর ছিলেন তরুণ গতিদানব নাহিদ রানা।

মাত্র ৪০ রান খরচায় তিনি একাই শিকার করেন ৫টি উইকেট, যা তার টেস্ট ক্যারিয়ারের

প্রথম ‘ফাইফার’। নাহিদ রানার তোপ সামলাতে না পেরে পাকিস্তানের শেষ দিকের ব্যাটাররা

দ্রুতই আত্মসমর্পণ করেন। রানাকে যোগ্য সঙ্গ দিয়েছেন তাসকিন আহমেদ ও তাইজুল ইসলাম;

তারা প্রত্যেকে দুটি করে উইকেট নিয়ে সফরকারীদের রানের লাগাম টেনে ধরেন। অফ-স্পিনার

মেহেদী হাসান মিরাজও একটি উইকেট নিয়ে দলের জয়ে অবদান রাখেন।

মিরপুর টেস্টের শুরু থেকেই বাংলাদেশের আধিপত্য ছিল লক্ষ্যণীয়। প্রথম ইনিংসে অধিনায়ক

নাজমুল হোসেন শান্তর সেঞ্চুরি এবং মুমিনুল হক ও মুশফিকুর রহিমের জোড়া

হাফ-সেঞ্চুরিতে বাংলাদেশ ৪১৩ রানের বিশাল সংগ্রহ পায়। জবাবে আজান আওয়াইসের

সেঞ্চুরিতে পাকিস্তান ৩৮৬ রান করলে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ ২৭ রানের লিড পায়।

নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে শান্তর ৮৭ এবং মুমিনুলের ৫৬ রানের ওপর ভর করে ৯ উইকেটে ২৪০

রানে ইনিংস ঘোষণা করে টাইগাররা। ফলে পাকিস্তানের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ২৬৮ রান, যা

তাড়া করতে নেমে নাহিদ রানার গতির কাছে হার মানে পাকিস্তান।

এই জয়টি বাংলাদেশের ক্রিকেটে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম

টেস্ট জয়ের জন্য বাংলাদেশকে দীর্ঘ ২৩ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছিল, যে সময়ে ১১টি ম্যাচে

পরাজয় বরণ করতে হয়েছে। অবশেষে ২০২৪ সালে পাকিস্তানের মাটিতে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ

জয়ের পর মিরপুরে এই জয়টি ছিল পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের টানা তৃতীয় টেস্ট জয়।

আগামী ১৬ মে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুরু হতে যাওয়া দ্বিতীয় ও শেষ

টেস্টে এই জয়ের আত্মবিশ্বাস নিয়ে সিরিজ জয়ের লক্ষ্যেই মাঠে নামবে বাংলাদেশ দল।

Staff Reporter
ADMINISTRATOR
PROFILE

Posts Carousel

Latest Posts

Top Authors

Most Commented

Featured Videos