বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতে করপোরেট কর ২০ শতাংশ করার প্রস্তাব

বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতে করপোরেট কর ২০ শতাংশ করার প্রস্তাব

বাংলাদেশে বৈদেশিক বিনিয়োগের পথ সুগম করতে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার লক্ষ্যে ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে একগুচ্ছ সংস্কার প্রস্তাব পেশ করেছে জাপান-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (জেবিসিসিআই)। সংগঠনটি বর্তমান করপোরেট করহার কমিয়ে ২০ শতাংশে নামিয়ে আনার জোরালো সুপারিশ করেছে। তাদের মতে, বিদ্যমান উচ্চ করহার বিনিয়োগকারীদের জন্য বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে এবং এটি

বাংলাদেশে বৈদেশিক বিনিয়োগের পথ সুগম করতে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশকে

আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার লক্ষ্যে ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে একগুচ্ছ

সংস্কার প্রস্তাব পেশ করেছে জাপান-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি

(জেবিসিসিআই)। সংগঠনটি বর্তমান করপোরেট করহার কমিয়ে ২০ শতাংশে নামিয়ে আনার জোরালো

সুপারিশ করেছে। তাদের মতে, বিদ্যমান উচ্চ করহার বিনিয়োগকারীদের জন্য বাড়তি চাপ

সৃষ্টি করছে এবং এটি ২০ শতাংশে পুনর্নির্ধারণ করা হলে দীর্ঘমেয়াদে দেশে ১০ থেকে ১৫

শতাংশ পর্যন্ত বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি ব্যাপক শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানের

সুযোগ সৃষ্টি হবে।

রবিবার রাজধানীর বারিধারা কূটনৈতিক এলাকার একটি অভিজাত হোটেলে আয়োজিত এক সংবাদ

সম্মেলনে জেবিসিসিআই-এর পক্ষ থেকে এসব বাজেট প্রস্তাবনা উপস্থাপন করা হয়। অনুষ্ঠানে

সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি তারেক রফিক ভূইয়া এবং বিস্তারিত বাজেট প্রস্তাবনা

তুলে ধরেন মহাসচিব মারিয়া হাওলাদার। অটোমোবাইল খাতের অমিত সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা

করতে গিয়ে সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও উত্তরা গ্রুপের চেয়ারম্যান মতিউর রহমান

বলেন, ‘স্থানীয় উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো গেলে বছরে শত কোটি ডলারের বিনিয়োগ আকর্ষণ করা

সম্ভব।’ এ সময় তিনি উন্নত প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং সরকারের পক্ষ থেকে জোরালো নীতিগত

সহায়তার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

জেবিসিসিআই-এর বিশ্লেষণে উঠে এসেছে যে, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রতিযোগী

দেশগুলোর সাথে পাল্লা দিতে হলে বাংলাদেশের কর কাঠামোকে আরও সহজ ও যৌক্তিক করা

অপরিহার্য। বর্তমানে প্রতিবেশী দেশগুলোতে গড় করপোরেট কর ১৫ থেকে ২৫ শতাংশের মধ্যে

সীমাবদ্ধ থাকায় বাংলাদেশ ২০ শতাংশ হার নির্ধারণ করলে বিনিয়োগ আকর্ষণে অনেক এগিয়ে

থাকবে। এছাড়া সংগঠনটি উৎসে কর বা টিডিএস কমানোর ওপরও জোর দিয়েছে। তাদের দাবি

অনুযায়ী, অতিরিক্ত টিডিএসের কারণে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর নগদ প্রবাহে ৮ থেকে ১২

শতাংশ পর্যন্ত নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে, যা উৎপাদন ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে।

ভ্যাট ব্যবস্থাপনার আমূল সংস্কার চেয়ে জেবিসিসিআই দ্রুততম সময়ে একটি স্বয়ংক্রিয়

ভ্যাট রিফান্ড পদ্ধতি চালুর দাবি জানিয়েছে। বর্তমানে এই রিফান্ড পেতে দীর্ঘ সময়

ব্যয় হওয়ায় ব্যবসায়িক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে; ডিজিটাল পদ্ধতি চালু হলে তা ৩০ থেকে

৪৫ দিনের মধ্যে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে বলে উদ্যোক্তারা মনে করেন। পাশাপাশি দেশের

প্রধান রপ্তানিমুখী খাত হিসেবে তৈরি পোশাক, তথ্যপ্রযুক্তি ও ওষুধ শিল্পের জন্য

বিশেষ শুল্ক ছাড় ও প্রণোদনা বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে যাতে বিশ্ববাজারে

বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পায়।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা স্পষ্টভাবে জানান যে, একটি স্থিতিশীল ও বিনিয়োগবান্ধব

রাজস্ব কাঠামো ছাড়া দেশের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা অসম্ভব। কর ও ভ্যাট

ব্যবস্থাকে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করা গেলে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বহুগুণ

বাড়বে। অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্যে পরিচালক মনাবু সুগাওয়াড়া দুই দেশের বাণিজ্যিক

সম্পর্ক সুদৃঢ় করতে সঠিক নীতি সহায়তার ওপর গুরুত্ব দেন। জেবিসিসিআই আশা প্রকাশ করে

যে, আগামী বাজেটে এই বাস্তবমুখী সংস্কারগুলো প্রতিফলিত হলে দেশে বিদেশি বিনিয়োগের

জোয়ার আসবে এবং জাতীয় অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে।

Staff Reporter
ADMINISTRATOR
PROFILE

Posts Carousel

Latest Posts

Top Authors

Most Commented

Featured Videos