কর্ণফুলীতে ঈদুল আজহা উপলক্ষে কোরবানির পশুর কোনো ঘাটতি নেই

কর্ণফুলীতে ঈদুল আজহা উপলক্ষে কোরবানির পশুর কোনো ঘাটতি নেই

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে কর্ণফুলী উপজেলায় কোরবানির পশু নিয়ে জমে উঠেছে প্রস্তুতি। গবাদিপশু প্রস্তুত করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন উপজেলার খামারিরা। তবে এবার স্থানীয় চাহিদার তুলনায় পশুর সরবরাহ বেশি হওয়ায় ন্যায্য দাম পাওয়া নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন খামারি ও পশু ব্যবসায়ীরা। উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এবার কর্ণফুলীতে কোরবানির জন্য দেড় হাজারের বেশি ছোট-বড় খামারে

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে কর্ণফুলী উপজেলায় কোরবানির পশু নিয়ে জমে উঠেছে

প্রস্তুতি। গবাদিপশু প্রস্তুত করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন উপজেলার খামারিরা। তবে

এবার স্থানীয় চাহিদার তুলনায় পশুর সরবরাহ বেশি হওয়ায় ন্যায্য দাম পাওয়া নিয়ে শঙ্কায়

রয়েছেন খামারি ও পশু ব্যবসায়ীরা।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এবার কর্ণফুলীতে কোরবানির জন্য দেড়

হাজারের বেশি ছোট-বড় খামারে প্রায় ৩৩ হাজার পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। স্থানীয় চাহিদা

পূরণের পরও বিপুলসংখ্যক পশু দেশের অন্যান্য এলাকায় সরবরাহ করা সম্ভব হবে।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের হিসাব অনুযায়ী, বিক্রির জন্য প্রস্তুত রয়েছে— ১৪

হাজার ৫২টি ষাঁড়, ৫ হাজার ৮৪৩টি বলদ, ১ হাজার ৯৪৩টি গাভী, ১ হাজার ৬৩৫টি মহিষ, ৮

হাজার ৩৬০টি ছাগল এবং ৫৮৬টি ভেড়া। গত বছর এ এলাকায় কোরবানির পশুর চাহিদা ছিল প্রায়

২৭ হাজার ৯৬০টি। সে হিসাবে চলতি বছরে চাহিদার তুলনায় প্রায় ৫ হাজার পশু উদ্বৃত্ত

থাকবে।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. রাকিবুল ইসলাম জানান, গত বছরের তুলনায় এবার

পশুপালনের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তিনি বলেন, “উপজেলা ভেটেরিনারি হাসপাতাল

থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ১০ জন কর্মী নিয়মিত খামারিদের সেবা দিচ্ছেন। এছাড়া কোরবানির

পশুর হাটে ১০ সদস্যের মেডিক্যাল টিম ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দল দায়িত্ব পালন করবে, যাতে

কোনো পশু অসুস্থ হয়ে পড়লে দ্রুত চিকিৎসা দেওয়া যায়। ক্রেতা ও বিক্রেতাদের

সুবিধার্থে সার্বক্ষণিক সেবা নিশ্চিত করা হবে।”

তিনি আরও বলেন, “খামারেই পর্যাপ্ত পশু উৎপাদন হওয়ায় এবার সরবরাহ বেশি থাকবে বলে আশা

করছি। পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে গরু না এলে স্থানীয় খামারিরা ন্যায্য মূল্য ও ভালো

মুনাফা পাবেন।”

বিশ্লেষকদের মতে, কোরবানির পশুর হাট দেশের অন্যতম বড় মৌসুমি অর্থনৈতিক কার্যক্রম। এ

হাটকে কেন্দ্র করে লাখো মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয় এবং গ্রামীণ অর্থনীতি সচল

থাকে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সজীব কান্তি রুদ্র বলেন, “সরকার নির্ধারিত স্থান ছাড়া

কোথাও পশুর হাট বসতে দেওয়া হবে না। এতে যানজট, জনভোগান্তি ও অনিয়ম কমবে।” তিনি আরও

জানান, হাটগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন থাকবে। চাঁদাবাজি ও জাল টাকা প্রতিরোধে

নেওয়া হচ্ছে বিশেষ ব্যবস্থা। পাশাপাশি সিসিটিভি ক্যামেরা ও স্বেচ্ছাসেবক টিম রাখার

পরিকল্পনাও রয়েছে।

কর্ণফুলীর ফকিনীরহাট, ফাজিলখাঁর হাট, কলেজবাজার ও মইজ্জ্যারটেকসহ স্থানীয়

হাটগুলোতেও চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক মনিটরিং

করা হবে এবং দায়িত্ব পালন করবেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।

অন্যদিকে ক্ষুদ্র খামারি মোহাম্মদ ইদ্রিস বলেন, “বছরজুড়ে যত্নে লালন-পালন করা পশু

বিক্রির অপেক্ষায় রয়েছি। যদিও পশুখাদ্যের উচ্চমূল্য ও চিকিৎসা ব্যয় নিয়ে কিছুটা

দুশ্চিন্তা রয়েছে। ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পশু আসতে শুরু করেছে। তবুও

শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি নিয়ে আলহামদুলিল্লাহ্।”

খামারিদের প্রধান দাবি, বাজারে পশুর ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা। তাদের মতে, সুষ্ঠু

বাজার ব্যবস্থাপনা ও অনুকূল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় থাকলে তারা লাভবান হবেন।

কর্ণফুলী ডেইরী ফার্ম অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোঃ ছালেহ জহুর বলেন, আশা করা যাচ্ছে

স্থানীয় খামারিরা তাদের উৎপাদিত পশুর ন্যায্য মূল্য পাবেন এবং এতে স্থানীয়

অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। তবে চাহিদার তুলনায় অতিরিক্ত পশু সরবরাহ থাকায় শেষ

পর্যন্ত বাজার পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, তা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে।

Staff Reporter
ADMINISTRATOR
PROFILE

Posts Carousel

Latest Posts

Top Authors

Most Commented

Featured Videos