‘হক’ সিনেমার জন্য চার মাস কোরআন পাঠ শেখেন ইয়ামি গৌতম

‘হক’ সিনেমার জন্য চার মাস কোরআন পাঠ শেখেন ইয়ামি গৌতম

অভিনেত্রী ইয়ামি গৌতম তাঁর প্রায় দুই দশকের ক্যারিয়ারে সবচেয়ে বেশি প্রশংসা কুড়িয়েছেন ‘হক’ সিনেমার মাধ্যমে। এই চলচ্চিত্রে সাজিয়া বানু নামের এক মুসলিম নারীর চরিত্রে তাঁর অভিনয় দর্শকদের মুগ্ধ করেছে। চরিত্রটিকে পর্দায় নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলতে ইয়ামি ব্যাপক পরিশ্রম করেছেন। বিশেষ করে একজন মুসলিম নারীর বিশ্বাস ও সংস্কৃতি সঠিকভাবে উপস্থাপনের জন্য তিনি টানা চার মাস পবিত্র কোরআন

অভিনেত্রী ইয়ামি গৌতম তাঁর প্রায় দুই দশকের ক্যারিয়ারে সবচেয়ে বেশি প্রশংসা

কুড়িয়েছেন ‘হক’ সিনেমার মাধ্যমে। এই চলচ্চিত্রে সাজিয়া বানু নামের এক মুসলিম নারীর

চরিত্রে তাঁর অভিনয় দর্শকদের মুগ্ধ করেছে। চরিত্রটিকে পর্দায় নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে

তুলতে ইয়ামি ব্যাপক পরিশ্রম করেছেন। বিশেষ করে একজন মুসলিম নারীর বিশ্বাস ও

সংস্কৃতি সঠিকভাবে উপস্থাপনের জন্য তিনি টানা চার মাস পবিত্র কোরআন পাঠ করা

শিখেছেন, যা তাঁর অভিনয়কে এক অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

সিনেমার পরিচালক সুপর্ণ ভার্মা সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন যে, সাজিয়া বানুর

আবেগ ও ধর্মীয় বিশ্বাসকে পর্দায় বিশ্বাসযোগ্যভাবে তুলে ধরাই ছিল তাঁদের প্রধান

লক্ষ্য। ইয়ামি কেবল তাঁর সংলাপগুলো মুখস্থ করেননি, বরং চিত্রনাট্যে ব্যবহৃত বিভিন্ন

আয়াত এবং সেগুলোর অর্থ গভীরভাবে বোঝার চেষ্টা করেছেন। এই দীর্ঘ প্রস্তুতির কারণেই

পর্দায় চরিত্রটি অত্যন্ত জীবন্ত ও নির্ভরযোগ্য হয়ে উঠেছে বলে নির্মাতা মনে করেন।

কেবল ইয়ামি গৌতম একা নন, এই সিনেমার লেখক ও নির্মাতা দল প্রায় দেড় বছর ধরে ইসলামি

শরিয়াহ আইনের বিভিন্ন দিক নিয়ে নিবিড় গবেষণা করেছেন। সিনেমার গল্পটি যেহেতু আইনি

লড়াই ও সামাজিক ন্যায়বিচারের ওপর ভিত্তি করে তৈরি, তাই কোনো ভুল তথ্য যেন দর্শকদের

কাছে না যায়, সেদিকে কড়া নজর ছিল তাঁদের। পরিচালক জানান, বর্তমানে বিভিন্ন বিষয়ে

প্রচুর ভুল তথ্য প্রচলিত থাকায় তাঁরা চেয়েছিলেন ‘হক’ সিনেমাটি যেন তথ্যের বিশুদ্ধতা

ও যুক্তির একটি বলিষ্ঠ মাধ্যম হয়ে ওঠে।

সিনেমার গল্পটি ১৯৬৭ সালে উত্তর প্রদেশের একটি বাস্তব ঘটনা এবং ‘বানু: ভারত কি

বেটি’ বইয়ের ছায়া অবলম্বনে তৈরি হয়েছে। এখানে দেখা যায়, আইনজীবী আব্বাস খানের সঙ্গে

বিয়ে হওয়া সাজিয়া বানুর সাজানো সংসার তছনছ হয়ে যায় যখন তাঁর স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে

করেন। সন্তানদের ভরণপোষণের অধিকার আদায়ে সাজিয়া আইনি লড়াই শুরু করেন। পারিবারিক

আদালতে প্রত্যাখ্যাত হয়ে এবং স্বামীর কাছ থেকে তালাক পেয়েও তিনি দমে যাননি। প্রায়

এক দশকের দীর্ঘ সংগ্রামের পর ভারতের সুপ্রিম কোর্টে নিজের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেন

তিনি, যা দেশটির আইনি ইতিহাসে এক অনন্য দৃষ্টান্ত।

গত বছরের ৭ নভেম্বর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির পর থেকেই সিনেমাটি ইতিবাচক সাড়া পেতে শুরু

করে। তবে চলতি বছরের ২ জানুয়ারি নেটফ্লিক্সে আসার পর এটি বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন

সৃষ্টি করে। ভারত ছাড়াও আন্তর্জাতিক অঙ্গন এবং বাংলাদেশের দর্শকদের কাছেও এই

কোর্টরুম ড্রামাটি দারুণ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। ইয়ামি গৌতমের পাশাপাশি এই সিনেমায়

সাজিয়ার স্বামী আব্বাস খানের চরিত্রে অভিনয় করেছেন ইমরান হাশমি, যাঁর নেতিবাচক

চরিত্রটিও বেশ সমাদৃত হয়েছে।

Staff Reporter
ADMINISTRATOR
PROFILE

Posts Carousel

Latest Posts

Top Authors

Most Commented

Featured Videos