পদত্যাগ করলেন নেপালের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

পদত্যাগ করলেন নেপালের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বিনিয়োগ-সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বিতর্কের জেরে নিয়োগের এক মাসেরও কম সময়ের মাথায় পদত্যাগ করেছেন নেপালের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুধন গুরুং। বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। পোস্টে তিনি লেখেন, ‌‌‘আমার বিরুদ্ধে ওঠা বিষয়গুলোর সুষ্ঠু তদন্ত এবং আমার পদের কারণে তদন্ত প্রক্রিয়ায় যেন কোনোভাবেই প্রভাবিত কিংবা স্বার্থের সংঘাত তৈরি না হয়, তা নিশ্চিত করতে

বিনিয়োগ-সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বিতর্কের জেরে নিয়োগের এক মাসেরও কম সময়ের মাথায়

পদত্যাগ করেছেন নেপালের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুধন গুরুং। বুধবার সামাজিক

যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

পোস্টে তিনি লেখেন, ‌‌‘আমার বিরুদ্ধে ওঠা বিষয়গুলোর সুষ্ঠু তদন্ত এবং আমার পদের

কারণে তদন্ত প্রক্রিয়ায় যেন কোনোভাবেই প্রভাবিত কিংবা স্বার্থের সংঘাত তৈরি না হয়,

তা নিশ্চিত করতে আজ আমি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করছি।’

গুরুং বলেছেন, শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ ও অন্যান্য বাবসায়িক কার্যক্রম নিয়ে সাম্প্রতিক

জনমনে ওঠা প্রশ্নগুলোকে তিনি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘আমার কাছে পদের চেয়ে নৈতিকতা বড় এবং জনআস্থার চেয়ে বড় কোনো শক্তি নেই।

দেশে চলমান ‘জেন জি’ আন্দোলন, যা সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা দাবি করছে; সেটিও

এই বার্তাই দিয়েছে, জনজীবন অবশ্যই পরিচ্ছন্ন এবং নেতৃত্বকে জবাবদিহি করতে হবে। যদি

আমার ৪৬ জন ভাই-বোনের রক্ত ও ত্যাগের বিনিময়ে গঠিত সরকার নিয়ে কেউ প্রশ্ন তোলে,

তাহলে তার উত্তর হলো নৈতিকতা।’

গত সেপ্টেম্বরের ‘জেন জি’ আন্দোলনের অন্যতম প্রধান নেতা গুরুং। জেন জি আন্দোলনে

কেপি শর্মা অলি নেতৃত্বাধীন সরকারের পতনের ছয় মাস পর দেশটিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

এই নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া বালেন্দ্র শাহ নেতৃত্বাধীন রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র

পার্টির সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে গত ২৭ মার্চ শপথ নিয়েছিলেন তিনি।

৩৬ বছর বয়সি গুরুংয়ের এই আন্দোলনে অংশগ্রহণ নিয়ে আগেই প্রশ্ন উঠেছিল। কারণ তিনি

নিজে ‘মিলেনিয়াল’ প্রজন্মের হলেও আন্দোলন সংগঠিত করেছিল ‘জেন জি’ বা বর্তমান তরুণ

প্রজন্ম; যারা দুর্নীতি নির্মূল ও জবাবদিহিতার দাবি তুলেছিলেন।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে বড় ধরনের অভিযানের অংশ হিসেবে নেপালের পুলিশ সম্প্রতি মানি

লন্ডারিংয়ের অভিযোগে বিতর্কিত ব্যবসায়ী দীপক ভাটকে গ্রেপ্তার করে। স্থানীয়

সংবাদমাধ্যম গত কয়েকদিন ধরে দীপক ভাটের সঙ্গে গুরুংয়ের সম্পর্ক এবং অস্বাভাবিক

আর্থিক লেনদেন নিয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করে আসছিল।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে গুরুংয়ের নিয়োগ অনেককেই অবাক করেছিল। দায়িত্ব নেওয়ার

পরদিনই তিনি মারমুখী অবস্থানে যান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা অলি ও সাবেক

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখককে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন।

নতুন সরকার গঠনের একদিন পর ২৮ মার্চ ভোরে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ বলেছে, গত

৮ সেপ্টেম্বর ‘জেন জি’ আন্দোলনের প্রথম দিনে অবহেলাজনিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গঠিত

তদন্ত কমিশনের সুপারিশে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পরবর্তীতে তারা দুজনই মুক্তি

পান।

বালেন্দ্র শাহর সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার অঙ্গীকার করেছে। তবে

গুরুংয়ের এই বিতর্ক সরকারকে কিছুটা বিব্রতকর অবস্থায় ফেলেছে।

Staff Reporter
ADMINISTRATOR
PROFILE

Posts Carousel

Latest Posts

Top Authors

Most Commented

Featured Videos