মালাক্কা প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে শুল্ক আরোপের উদ্যোগ ইন্দোনেশিয়ার

মালাক্কা প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে শুল্ক আরোপের উদ্যোগ ইন্দোনেশিয়ার

বিশ্বের অন্যতম কৌশলগত বাণিজ্যিক রুট মালাক্কা প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী সমুদ্রগামী নৌযানগুলোর ওপর শুল্ক বা টোল আরোপের সম্ভাব্যতা নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে ইন্দোনেশিয়া। বুধবার জাকার্তায় অনুষ্ঠিত এক সম্মেলনে দেশটির অর্থমন্ত্রী পুরবায়া ইউধি সাদেওয়া এই পরিকল্পনার কথা জানান। বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নিজেদের প্রভাব আরও সুসংহত করার লক্ষ্যে এই কৌশলগত রুটকে কাজে লাগানোর বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন তিনি। দেশটির প্রেসিডেন্ট

বিশ্বের অন্যতম কৌশলগত বাণিজ্যিক রুট মালাক্কা প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী সমুদ্রগামী

নৌযানগুলোর ওপর শুল্ক বা টোল আরোপের সম্ভাব্যতা নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে

ইন্দোনেশিয়া। বুধবার জাকার্তায় অনুষ্ঠিত এক সম্মেলনে দেশটির অর্থমন্ত্রী পুরবায়া

ইউধি সাদেওয়া এই পরিকল্পনার কথা জানান। বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নিজেদের প্রভাব আরও

সুসংহত করার লক্ষ্যে এই কৌশলগত রুটকে কাজে লাগানোর বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

দেশটির প্রেসিডেন্ট প্রবোও সুবিয়ান্তোর নির্দেশনার কথা উল্লেখ করে পুরবায়া জানান,

ইন্দোনেশিয়া এখন আর নিজেদের ‘প্রান্তিক দেশ’ হিসেবে দেখতে চায় না। তিনি বিস্ময়

প্রকাশ করে বলেন যে, বিশ্বের অন্যতম প্রধান বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনের পথ হওয়ার

পরও বর্তমানে মালাক্কা প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে কোনও শুল্ক নেওয়া হয় না।

এই প্রস্তাবের প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ইন্দোনেশিয়ার অর্থমন্ত্রী ইরানের

হরমুজ প্রণালি সংক্রান্ত পরিকল্পনার উদাহরণ টেনে আনেন। তার মতে, কৌশলগত অবস্থানের

সুবিধা নিয়ে ইন্দোনেশিয়াও বড় ধরনের অর্থনৈতিক মুনাফা অর্জন করতে পারে। তবে তিনি

বাস্তব পরিস্থিতি স্বীকার করে বলেন যে, এই রুটটির নিয়ন্ত্রণ ইন্দোনেশিয়া ছাড়াও

মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরের মধ্যে বিভক্ত থাকায় এককভাবে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব

নয়। তিনি আরও যোগ করেন, “আমাদের সম্পদ থাকা সত্ত্বেও রক্ষণাত্মক চিন্তা করলে চলবে

না, আক্রমণাত্মকভাবে চিন্তা করতে হবে।” তবে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আগে প্রতিবেশী

রাষ্ট্রগুলোর সাথে ঐকমত্য ও বৈশ্বিক বাণিজ্যে এর প্রভাব নিবিড়ভাবে পর্যালোচনার

প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

ইন্দোনেশিয়ার এই প্রাথমিক প্রস্তাবের বিপরীতে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে

সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়া। সিএনবিসি-র এক সাক্ষাৎকারে সিঙ্গাপুরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ভিভিয়ান বালাকৃষ্ণান সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, মালাক্কা ও সিঙ্গাপুর প্রণালি

আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের জন্য সবসময় উন্মুক্ত রাখতে হবে। কোনও ধরনের বিধি-নিষেধ বা

টোল আদায়ের প্রচেষ্টাকে তার দেশ সমর্থন করবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এখানে জাহাজ

চলাচলের অধিকার সবার আছে, এটি কোনও বিশেষ সুবিধা বা লাইসেন্স নয় যে এর জন্য টোল

দিতে হবে।” তিনি আরও স্মরণ করিয়ে দেন যে, এই নৌপথটি আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘের

সমুদ্র আইনবিষয়ক কনভেনশন দ্বারা স্বীকৃত, তাই এর মুক্ত চলাচলে বাধা সৃষ্টি করা সবার

স্বার্থের পরিপন্থী হবে।

মালয়েশিয়ার পক্ষ থেকেও এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করে নৌ চলাচলের স্বাধীনতার ওপর জোর

দেওয়া হয়েছে। সিএনএন ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সূত্রের বরাতে জানা যায়, মালয়েশিয়ার

পরিবহনমন্ত্রী অ্যান্থনি লোক আন্তর্জাতিক নিয়ম ও বৈশ্বিক বাণিজ্যের স্বার্থে এই রুট

উন্মুক্ত রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। সংশ্লিষ্ট দেশগুলো যেহেতু বাণিজ্যের

ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল, তাই এমন কোনও বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হতে

পারে যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটাতে পারে।

সূত্র: সিএনএ

Staff Reporter
ADMINISTRATOR
PROFILE

Posts Carousel

Latest Posts

Top Authors

Most Commented

Featured Videos