কলকাতা নাইট রাইডার্সের প্রথম জয়, ঘুচল দীর্ঘ জয়খরা

কলকাতা নাইট রাইডার্সের প্রথম জয়, ঘুচল দীর্ঘ জয়খরা

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) চলমান আসরে অবশেষে দীর্ঘ সময় ধরে পরাজয়ক্লিষ্ট কলকাতা নাইট রাইডার্সের মনোবল পুনরুদ্ধার হলো এবং তারা প্রথম জয় লাভ করেছে। টানা ছয় ম্যাচে হারের পর সপ্তম ম্যাচে এসে তাদের মানসিক শক্তি ফিরে পায় শাহরুখ খান পরিচালিত এই দল। রোববার রাতে নিজেদের ঘরের মাঠ ইডেন গার্ডেন্সে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বী রাজস্থান রয়্যালসকে ৪ উইকেটের ব্যবধানে

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) চলমান আসরে অবশেষে দীর্ঘ সময় ধরে পরাজয়ক্লিষ্ট কলকাতা নাইট রাইডার্সের মনোবল পুনরুদ্ধার হলো এবং তারা প্রথম জয় লাভ করেছে। টানা ছয় ম্যাচে হারের পর সপ্তম ম্যাচে এসে তাদের মানসিক শক্তি ফিরে পায় শাহরুখ খান পরিচালিত এই দল। রোববার রাতে নিজেদের ঘরের মাঠ ইডেন গার্ডেন্সে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বী রাজস্থান রয়্যালসকে ৪ উইকেটের ব্যবধানে হারিয়ে তারা প্রথম পয়েন্ট অর্জন করে। উল্লেখযোগ্যভাবে, কুপোকাত ৮৫ রানে ৬ উইকেট হারানো অবস্থায় প্রথমে পড়ে যাওয়ার পর মাঠে ফেরান রিঙ্কু সিং ও অনুকূল রায়। রিঙ্কুর অনবদ্য অর্ধশতক এবং বোলারদের দারুণ নিয়ন্ত্রিত পারফরম্যান্সের কারণে কলকাতা প্রথম ২ পয়েন্ট লাভ করে দলের জন্য এক নতুন আশার সঞ্চার করে।

ম্যাচের শুরুতেই টস জিতে ব্যাটিং নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন রাজস্থানের অধিনায়ক। ইডেনের সুবিধাজনক উইকেটে তারা দারুণ শুরু করে দুই ওপেনার বৈভব সূর্যবংশী ও যশস্বী জয়সওয়াল। এই দুজন মাত্র ৫১ বলে ৮১ রান যোগ করে দলের বড় সংগ্রহের আশা জাগান। তবে কলকাতার স্পিনার বরুণ চক্রবর্তী এই জুটি ভেঙে দেন, তাকে আউট করেন ২৮ বলে ৪৬ রান করা সূর্যবংশীকে। এরপর নিয়মিত উইকেট হারাতে থাকেন রাজস্থান। জয়সওয়াল ৩৯ রান করে আউট হওয়ার পরে মধ্যম অর্ডারে ধস নামে। কলকাতার বোলার কার্তিক তিয়াগী ২২ রানে ৩ উইকেট ইয়াঁশে নেন, অন্যদিকে বরুণ চক্রবর্তী ৪ ওভারে মাত্র ১৪ রানে ৩ উইকেট নিয়ে রাজস্থানের ইনিংস ৯ উইকেটে ১৫৫ রানে শেষ করে দেন।

১৫৬ রানের লক্ষ্য নিয়ে ব্যাট করতে নেমে কলকাতার শুরু ছিল ভয়ঙ্কর। প্রথম বলেই জোফরা আর্চারের বলে বোল্ড হয়ে যান টিম শেইফার্ট। এরপর অধিনায়ক আজিঙ্কা রাহানে ব্যক্তিগত শূন্য রানে ফিরে যান, যার ফলে মাত্র ৫ রানে ২ উইকেট পড়ে যায় কলকাতার। এটা ছিল রাহানের টানা দ্বিতীয় ম্যাচে শূন্য রানে আউট হওয়া ঘটনা। এরপর ক্যামেরন গ্রিন ১৩ বলে ২৭ ও রোভম্যান পাওয়েল ২০ বলে ২৩ রান করে পরিস্থিতি কিছুটা সামাল দেন, তবে বড় কোনো জুটি গড়তে পারেননি। একসময় ৮৫ রানে ৬ উইকেট পড়ে গেলে ম্যাচের পরিস্থিতি অধঃপতনে চলে যায়।

অবশ্য, তখনই দৃঢ়চিত্তে মঞ্চে উপস্থিত হন কলকাতার ‘ফিনিশার’ রিঙ্কু সিং। তাঁর সঙ্গে যোগ দেন অনুকূল রায়। জয়ের জন্য শেষ ৩৯ বলে ৭১ রানের কঠিন চ্যালেঞ্জে তারা অসাধারণ ধৈর্য্য ও সাহস দেখান। রিঙ্কু সিং তাঁর আক্রমণাত্মক ব্যাটিং ধরে রাখেন, ৩৪ বলে ৫৩ রান করে অপরাজিত থাকেন, যেখানে ৫টি চারের সঙ্গে ২টি ছক্কাও রয়েছে। অন্যদিকে, অনুকূল রায় ১৬ বলে ২৯ রান করেন। তাদের অবদানেই শেষ মুহূর্তে জয়ের প্রাথমিক লক্ষ্য ছাড়িয়ে যায় নাইট রাইডার্স। দুই বল হাতে রেখে তারা জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়ে।

এই জয়ের মাধ্যমে কলকাতা পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে উঠে আসে, তাদের সঙ্গে সমান পয়েন্টে রয়েছে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স, যাদের তিনটি ম্যাচ কম খেলা হলেও এই জয় তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। অন্যদিকে, রাজস্থানের অবস্থা এখনও কিছুটা Challenging, তাদের ৬ ম্যাচে ৮ পয়েন্ট। বোলাররা শুরুটা খুবই ভাল করলেও শেষের দিকে রিঙ্কু সিংয়ের ব্যাটিং দেখিয়ে তারা বাজি হারাতে পেরেছেন। কলকাতার এই নাটকীয় এবং উত্তেজনাপূর্ণ জয় আইপিএলের এবারের আসরকে আরও এক নতুন মাত্রা দিল, দর্শকদের মধ্যে নতুন উচ্ছ্বাসের সৃষ্টি করেছে।

Staff Reporter
ADMINISTRATOR
PROFILE

Posts Carousel

Latest Posts

Top Authors

Most Commented

Featured Videos