ইরানের ওপর আর্থিক চাপ সৃষ্টি করতে যুক্তরাষ্ট্র এখনও নৌ-অবরোধ চালিয়ে যাচ্ছে। তবে এর মধ্যেই পারস্য উপসাগরে ইরানের বিভিন্ন বন্দরক থেকে গত কয়েক দিনে পাঁচটি খালি ট্যাংকার ধীরে ধীরে দেশে প্রবেশ করছে। এসব জাহাজে লাখ লাখ ব্যারেল তেল ভরার কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক স্যাটেলাইট চিত্র ও বিশ্লেষকদের তথ্য থেকে জানা গেছে। হরমুজ প্রণালির অন্য প্রান্তে
ইরানের ওপর আর্থিক চাপ সৃষ্টি করতে যুক্তরাষ্ট্র এখনও নৌ-অবরোধ চালিয়ে যাচ্ছে। তবে এর মধ্যেই পারস্য উপসাগরে ইরানের বিভিন্ন বন্দরক থেকে গত কয়েক দিনে পাঁচটি খালি ট্যাংকার ধীরে ধীরে দেশে প্রবেশ করছে। এসব জাহাজে লাখ লাখ ব্যারেল তেল ভরার কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক স্যাটেলাইট চিত্র ও বিশ্লেষকদের তথ্য থেকে জানা গেছে।
হরমুজ প্রণালির অন্য প্রান্তে ওমানে অবস্থানরত এই ট্যাংকারগুলোকে চলতি সপ্তাহের শেষে স্যাটেলাইটের মাধ্যমে আর দেখা যায়নি। এই জাহাজগুলোতে প্রায় ৯০ লাখ ব্যারেল তেল থাকা বলে ধারণা করা হচ্ছে, তবে এখনো তারা কোথায় রয়েছে, তা অজানা। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, অবরোধ শুরুর পর থেকে এই জাহাজগুলো কোনোভাবেই এই বেড়াজাল অতিক্রম করতে পারেনি।
ওয়াশingtন পোস্টের বিশ্লেষকরা স্যাটেলাইট চিত্র, জাহাজের গতিবিধির তথ্য ও বিভিন্ন সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে একত্রিত করে জানাচ্ছেন যে, মার্কিন অবরোধের মধ্যেও ইরানের সামুদ্রিক কার্যকলাপ অব্যাহত রয়েছে। বিশ্লেষণে মোট ১০টি জাহাজের উল্লেখ রয়েছে, যেগুলোর চলাচল বোঝা যাচ্ছে অবরোধের আওতায় পড়েছে। এর ফলে স্পষ্ট হয় যে, ইরানের বিভিন্ন স্থাপনাগুলো থেকে তেল সরবরাহ বন্ধ হয়নি।
২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার পরে ইরান হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দিয়েছিল। তবে সম্প্রতি তারা ঘোষণা করেছে যে, এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথটি আবার খুলে দেওয়া হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যাল-এ পোস্ট করে বলেছেন, “প্রণালি খুলে দেওয়া হলেও, ইরানের সঙ্গে লেনদেন শতভাগ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত অবরোধ অব্যাহত থাকবে।”
সেন্ট্রাল কম্যান্ডের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই অবরোধের জন্য বিপুল পরিমাণ মার্কিন সেনা, ডজনড স naval যুদ্ধজাহাজ, বিমান এবং ড্রোন মোতায়েন করা হয়েছে। তারা আরও বলেছেন, এই অ্যাকশনের আওতায় ইরানের বন্দর বা উপকূল থেকে যেকোনো দেশের জাহাজের চলাচলেও কড়াকড়ি আরোপিত হবে। তবে, যেসব জাহাজের গন্তব্য বা উৎস ইরানের নয়, সেগুলোর ওপর এই অবরোধ কার্যকর হবে না।
বৃহস্পতিবার এক ব্রিফিংয়ে জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন একটি মানচিত্রপ্রদর্শন করে দেখান যেখানে ওমান উপসাগর জুড়ে একটি ‘অবরোধ রেখা’ চিহ্নিত করা হয়। এই রেখাটি উত্তর ইরান-পাকিস্তান সীমান্ত থেকে দক্ষিণে ওমানের রাস আল হাদ্দ উপদ্বীপ অবধি বিস্তৃত।
তবে একজন মার্কিন কর্মকর্তা স্বীকার করেছেন যে, এখনও ইরানের বন্দরগুলো আশেপাশে বেশ কিছু সন্দেহজনক জাহাজ রয়েছে। তাদের মতে, বেশ কিছু জাহাজ অবরোধের সীমার মধ্যেই রয়েছে, যাদের উপর নজর রাখছে মার্কিন সৈন্যরা। ইতোমধ্যে উপসাগরে বেশ কিছু ডেস্ট্রয়ার মোতায়েন করা হয়েছে, যারা প্রয়োজন বুঝলে সন্দেহভাজন জাহাজগুলোকে থামিয়ে দিতে সক্ষম।
ওমান উপসাগরকে অবরোধ করায় মার্কিন বাহিনী পারস্য উপসাগরের তুলনায় সহজভাবে সীমান্তে চলাচল করতে পারে। কারণ, যুদ্ধজাহাজগুলো ঘণ্টায় ৩০-৩৫ মাইল বেগে ছুটতে পারে, যা সাধারণ তেলের ট্যাংকারের চেয়ে অনেক দ্রুত। এই সুবিধা কাজে লাগিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়।
জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফের চেয়ারম্যান দাবি করেছেন, ইরানের জলসীমা ও আন্তর্জাতিক জলপথে এই অবরোধ চলমান থাকবে। মার্কিন বাহিনী এখন যে কোনও ইরানি জাহাজ বা তেহরানকে সাহায্যকারী জাহাজের গতিপথ পর্যবেক্ষণে থাকবেন।
অন্যদিকে, স্যাটেলাইট ছবি দেখাচ্ছে, খারগ দ্বীপে ‘হিলডা ১’, ‘সিলভিয়া ১’ এবং ‘আম্বার’ নামে তিনটি ইরানি ট্যাংকার অবস্থান করছে। এই দ্বীপ থেকেই দেশের মোট ৯০ শতাংশ তেল রপ্তানি হয়। এ ব্যাপারে ট্যাংকার ট্র্যাকার্স জানাচ্ছে, এই তিনটি জাহাজে মোট ৫০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ভরা রয়েছে।
ইরানের তেল পরিবহন অবকাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে পরিচিত খারগ। এটি মূল বন্দর থেকে অপরিশোধিত তেল সরবরাহে সহায়তা করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এই স্টোরেজ ও পরিবহন অব্যাহত রাখা খুবই জরুরি।
লন্ডনের একটি প্রভাবশালী থিঙ্কট্যাঙ্ক, রয়েল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের গবেষক পেট্রাস কাটিনাস বলেন, এই জাহাজগুলো মূলত ভাসমান স্টোরেজ হিসেবে কাজ করে। ফলে, দেশের মজুতাগারে অতিরিক্ত তেল জমে যাওয়ার ঝুঁকি কমে, পাশাপাশি উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনাও থাকে না।
এছাড়াও, ট্যাংকার ট্র্যাকার্সের তথ্যে জানা গেছে, পারস্য উপসাগরে প্রায় ১০০ মাইল দূরে, ইরানের সর্বউত্তরের বন্দর মাহশাহর একটি জাহাজকে জ্বালানি তেল দিয়ে বোঝাই করা হয়েছে। বৃহস্পতিবারের স্যাটেলাইট চিত্রে ‘আর্নিকা’ নামের ওই জাহাজটিকে দেখা গেছে। এছাড়া, বুধবার মাহশাহর দক্ষিণে আসালুয়েহ বন্দরের কাছেও চীনের মালিকানাধীন অন্য একটি জাহাজ রয়েছে। নাম ‘ইয়ং তাই’, যা ক্রুড পণ্যবাহী।
বিভিন্ন সূত্র বলছে, অতীতে ইরানের তেল পরিবহনকারী বেশ কিছু জাহাজ গত কয়েক দিনে হরমুজ প্রণালী পেরিয়ে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করেছে। যদিও জাহাজ চলাচলের বিশ্লেষণকারী সংস্থা কেপলার জানিয়েছে, এগুলো এখনও কোনো বন্দরে নোঙর করেনি। তবে, বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, জাহাজের অবস্থান সম্পর্কিত তথ্য বিকৃতি করা সম্ভব, যার মাধ্যমে তারা নিজেদের সত্যিকারের স্থান গোপন করতে পারে।











