উদ্বোধন করা হলো গুলিস্তান-যাত্রাবাড়ী ফ্লাইওভার

রাজধানীবাসীর দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্বোধন করলেন মেয়র মোহাম্মদ হানিফ (গুলিস্তান-যাত্রাবাড়ী) ফ্লাইওভার । শুক্রবার বিকেল ৪টার দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে ফিতা কেটে দেশের সবচেয়ে বড় এই ফ্লাইওভারের কুতুবখালী প্রান্তের ফলক উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি গুলিস্তান থেকে নিজের গাড়িবহর নিয়ে যাত্রাবাড়ীর কুতুবখালীতে যান। সেখানে গিয়ে তিনি টোল পরিশোধ করে আবার গুলিস্তান ফিরে আসেন। এই উড়ালসড়কটি

jatrabari_flyover

রাজধানীবাসীর দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্বোধন করলেন মেয়র মোহাম্মদ হানিফ (গুলিস্তান-যাত্রাবাড়ী) ফ্লাইওভার ।

শুক্রবার বিকেল ৪টার দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে ফিতা কেটে দেশের সবচেয়ে বড় এই ফ্লাইওভারের কুতুবখালী প্রান্তের ফলক উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি গুলিস্তান থেকে নিজের গাড়িবহর নিয়ে যাত্রাবাড়ীর কুতুবখালীতে যান। সেখানে গিয়ে তিনি টোল পরিশোধ করে আবার গুলিস্তান ফিরে আসেন। এই উড়ালসড়কটি টোল দেয়ার মাধ্যমে ব্যবহার করতে পারবেন সাধারণ জনগণ।

মেয়র মোহাম্মদ হানিফ ফ্লাইওভার নামের ৪ লেন বিশিষ্ট এই উড়াল সড়কে ৬টি প্রবেশপথ ও ৭টি বের হওয়ার পথসহ মোট ১৩টি ওঠানামার পথ রয়েছে।

এর মধ্য দিয়ৈ যাত্রাবাড়ীর দুঃসহ যানজটের কারণে বৃহত্তর চট্টগ্রাম, সিলেট আর ঢাকা বিভগের কয়েকটি জেলার মানুষের যাতায়াতের যন্ত্রণার অবসান হতে যাচ্ছে।

এর আগে বেলা সাড়ে তিনটায় প্রধানমন্ত্রী দক্ষিণ ঢাকার নগরভবন প্রাঙ্গনে সুধি সমাবেশে যোগ দেন। উদ্বোধনের পর গুলিস্তান, পলাশী, মতিঝিল ও শনির আখড়া পর্যন্ত পথটি খুলে দেওয়া হয় সবার জন্য।

ওরিয়ন ইনফ্রাস্টাকচার লিমিটেড এই ফ্লাইওভারের বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বে ২১০৮ কোটি টাকা ব্যয়ে এটি নির্মিত হচ্ছে।
ফ্লাইওভারটির নকশা করেছে কানাডার কোম্পানি লি কানাডা। এটি নির্মাণ করছে ভারতের সিমপ্লেক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচারাল লিমিটেড।  নির্মাণকাজের ব্যবস্থাপনা করছে লাসা নামে ভারতের আরেকটি কোম্পানি।

মেয়র হানিফ ফ্লাইওভার নির্মাণে জন্য বিশ্বব্যাংক ১৯৯৮ সালে ২৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ  দেয়। পরে চারদলীয় জোট সরকারের আমলে নির্মাণ প্রতিষ্ঠান ওরিয়ন গ্রুপের সঙ্গে ‘যাত্রাবাড়ী-গুলিস্তান’ ফ্লাইওভার নির্মাণের চুক্তি হয়। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর নির্মাণকাজ শুরু হয়। ২০১০ সালের ২২ জুন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই প্রকল্পের নির্মাণকাজ উদ্বোধন করেছিলেন। ফ্লাইওভারটির ধারণক্ষমতা ২০০ টন এবং স্থায়ীত্বকাল ১০০ বছর।

২০০৩ সালে চুক্তির সময় টোলের হার নির্ধারণ করা হয়েছিল হালকা যান ৩০ থেকে ৩৫ টাকা, থ্রি হুইলার পাঁচ টাকা এবং ভারী যানবাহনের জন্য ১০০ টাকা। তবে  টোলের হার পুনর্নির্ধারণ করা হবে বলে জানা গেছে।

উদ্বোধনের পর ওরিয়ন গ্রুপ নিজেই এর ব্যবস্থাপনা, টোল আদায় এবং রক্ষণাবেক্ষণ করবে। চালুর পর থেকে ২৪ বছর টোল আদায় করবে । টোল আদায় করেই তারা নির্মাণ ব্যয় তুলে নেবে। তারপরে এটি হস্তান্তর করবে সরকারের কাছে।

টোল আদায়েও থাকছে প্রযুক্তি নির্ভর আধুনিকতার ছোঁয়া। এই প্রথমবারের মতো টোল আদায়ে ব্যবহার করা হবে এভিসি (অটোমেটিক ভেহিকেল ক্লাসিভিকেশন) পদ্ধতি। সড়কটি ব্যবহারের আগেই টোল পরিশোধ করতে হবে। গাড়িতে লাগানো থাকবে একটি প্রি-পেইড স্টিকার। কোনো গাড়ি ফ্লাইওভার অতিক্রম করলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে টোল কেটে নেয়া হবে। পরিশোধিত টাকা শেষ হয়ে গেলে আবারও রিচার্জ করা যাবে। এছাড়াও থাকছে টোল প্লাজা। সেখানেও টোল পরিশোধ করা যাবে।

গত ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নির্মাণাধীন এই ফ্লাইওভারের মাত্র ৭০ ভাগ কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। গুলিস্তান  থেকে সরাসরি যাত্রাবাড়ী অংশের নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। বাকি কাজ উদ্বোধনের পর সম্পন্ন করা হবে।

ফ্লাইওভারের গুলিস্তান থেকে ডেমরা অংশ, যাত্রাবাড়ী থেকে সায়েদাবাদ বিশ্বরোডের অংশ ও যাত্রাবাড়ী  থেকে গুলিস্তান পার হয়ে আলুবাজার লেনের অংশে কাজ এখনো শুরু হয়নি।

Staff Reporter
ADMINISTRATOR
PROFILE

Posts Carousel

Latest Posts

Top Authors

Most Commented

Featured Videos