সাতম জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপির অন্যতম জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী রুমানা মোর্শেদ কনকচাঁপা নির্বাচন প্রার্থীর চেয়ে অনেক আগে থেকে মনোনয়ন চেয়েছিলেন। তবে দল তাকে মনোনীত করেনি। গতকাল, শনিবার (১১ এপ্রিল), দুপুরে নয়াপল্টনের বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার জন্য গেলে কিছু নারী নেত্রী তার ওপর অপ্রত্যাশিতভাবে আক্রমণ করে। তারা নানা অপ্রাসঙ্গিক স্লোগান
সাতম জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপির অন্যতম জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী রুমানা মোর্শেদ কনকচাঁপা নির্বাচন প্রার্থীর চেয়ে অনেক আগে থেকে মনোনয়ন চেয়েছিলেন। তবে দল তাকে মনোনীত করেনি। গতকাল, শনিবার (১১ এপ্রিল), দুপুরে নয়াপল্টনের বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার জন্য গেলে কিছু নারী নেত্রী তার ওপর অপ্রত্যাশিতভাবে আক্রমণ করে। তারা নানা অপ্রাসঙ্গিক স্লোগান দিয়ে কনকচাঁপাকে বিরক্ত করে রাখে। তবে অন্যান্য সহকর্মীদের সহযোগিতায় তিনি অবশেষে মনোনয়নপত্র জমা দিতে সক্ষম হন।
প্রচারপর্বের সময় এই অসদাচরণের প্রসঙ্গে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, যারা এই অশোভন আচরণ করেছে তাদের আচরণে সাংস্কৃতিক অন্ধকারের ছাপ স্পষ্ট। তিনি বলেন, এতদিন পৃথিবীর অন্য কোথাও এ ধরনের পরিস্থিতি দেখা যায় না। সবারই যে মাঠ পর্যায়ে কার্যক্রমে অংশগ্রহণের অধিকার আছে, তা স্পষ্ট করতে তিনি উল্লেখ করেন, একজন বড় শিল্পী যদি বিএনপির আন্দোলন ও সংগ্রামে একটির অস্তিত্বকে সমর্থন করেন, এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
রিজভী বলেন, একজন বড় কণ্ঠশিল্পী যদি দলকে সমর্থন করে, সেটাই বিশাল প্রভাব ফেলে। সবাই কি চায়, রাস্তায় নেমে রিক্সা চালাতে হবে? না, অবশ্যই না। কোনো শিল্পীর সাথে এ ধরণের অবমাননাকর আচরণ হওয়া উচিত নয়। তিনি আরো বলেন, যারা এ ধরণের বাজে আচরণ করেছে, তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
সম্প্রতি এক ফেসবুক পোস্টে কনকচাঁপা নিজের প্রতি অন্যায়ের কথা উল্লেখ করে বলেন, তিনি আল্লাহর উপর আস্থা রেখে দৃষ্টান্ত দেন। তিনি বলেন, “আমি বিশ্বাস করি, সব নিষ্পত্তির জন্য আল্লাহরই সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমি জনগণের পাশে থেকেছি, আমার রাজনৈতিক জীবন ২০১৩ সালে শুরু। তখন বিএনপির সাবেক নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আমাকে রাজনীতিতে আসার জন্য উদ্বুদ্ধ করেন। যার ফলশ্রুতিতে আমি ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে মনোনয়ন পেয়েছি।”
কনকচাঁপা জানান, তার সংগ্রাম ও সংগ্রবের মধ্যে দিয়ে দেশের বিভিন্ন নেতাকর্মীর মতো তিনি নিজেও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তিনি মানসিক ও অর্থনৈতিকভাবে নিঃস্ব হয়ে গেছেন। গান গাইতে না পারা, গৃহে ব্যস্ততা, পরিবারের খেয়াল-খুশি—সবকিছু সামাল দিতে গিয়ে তিনি জীবনের আরাম-আয়েশ ত্যাগ করেছেন। এখন, যখন আবার নির্বাচনী উত্তেজনা চলছে, সেই সময় দলের কাছ থেকে তার মনোনয়ন নয়, তবে দলের প্রতি তার আস্থা ও আনুগত্য অটুট।
তিনি বলেন, অবাঞ্ছিত অপপ্রচার, মিথ্যাচার ও অপমানের জন্য তিনি আল্লাহর কাছে নিরুপায়, তবে এই ঘটনাগুলোর বিরুদ্ধে তিনি মনোভাব প্রকাশ করেছেন। তিনি আরো উল্লেখ করেন, দলের সকল সদস্যের অধিকার রয়েছে নিজেকে যোগ্য প্রমাণ করার, এবং নিরপেক্ষভাবে সঠিক ব্যক্তি মনোনীত হয়। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দলের সম্মান ও ইমেজ ক্ষুণ্ণ হলে দলের স্বার্থে তারা যেন তৎপর। তবে, নিজের উপর ঘটে যাওয়া সকল অন্যায়ের বিচার তিনি আল্লাহর হাতে ছেড়ে দেন।











