আফগানিস্তানের হেরাতে পিকনিক স্পটে বন্দুকধারীদের নির্বিচার গুলি: নিহত ১১

আফগানিস্তানের হেরাতে পিকনিক স্পটে বন্দুকধারীদের নির্বিচার গুলি: নিহত ১১

আফগানিস্তানের পশ্চিমাঞ্চলীয় হেরাত প্রদেশে এক ভয়াবহ বন্দুক হামলায় অন্তত ১১ জন শিয়া মুসলিম নিহত হয়েছেন। গত শুক্রবার বিকেলে প্রদেশের এনজিল জেলার একটি জনপ্রিয় বিনোদন ও পিকনিক স্পটে এই রক্তক্ষয়ী ঘটনাটি ঘটে। শুরুতে চারজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেলেও পরবর্তীতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও সাতজনের মৃত্যু হওয়ায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে এগারোতে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে এই ঘটনায় পুরো এলাকা

আফগানিস্তানের পশ্চিমাঞ্চলীয় হেরাত প্রদেশে এক ভয়াবহ বন্দুক হামলায় অন্তত ১১ জন

শিয়া মুসলিম নিহত হয়েছেন। গত শুক্রবার বিকেলে প্রদেশের এনজিল জেলার একটি জনপ্রিয়

বিনোদন ও পিকনিক স্পটে এই রক্তক্ষয়ী ঘটনাটি ঘটে। শুরুতে চারজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া

গেলেও পরবর্তীতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও সাতজনের মৃত্যু হওয়ায় নিহতের

সংখ্যা বেড়ে এগারোতে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে এই ঘটনায় পুরো এলাকা জুড়ে শোকের ছায়া ও

তীব্র আতঙ্ক বিরাজ করছে।

প্রাদেশিক কর্মকর্তা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার ছুটির দিন

হওয়ায় ওই বিনোদনস্থলে স্থানীয় বাসিন্দাদের উপচে পড়া ভিড় ছিল। বিকেল আনুমানিক ৩টার

দিকে মোটরসাইকেলে করে আসা একদল অজ্ঞাত সশস্ত্র দুর্বৃত্ত এনজিল জেলার দেহ মেহরি

গ্রামের কাছে অবস্থানরত মানুষের ওপর অতর্কিত গুলিবর্ষণ শুরু করে। মূলত ওই গ্রামটি

শিয়া অধ্যুষিত এলাকা হিসেবে পরিচিত এবং সেখানে একটি প্রাচীন শিয়া মাজার রয়েছে।

মাজার সংলগ্ন এলাকায় পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা সাধারণ মানুষের ওপর দুর্বৃত্তরা কোনো

প্রকার উস্কানি ছাড়াই গুলি চালায়।

হেরাতে তালেবান সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতি বিভাগের প্রধান আহমাদুল্লাহ মুত্তাকি এই

ঘটনাকে একটি সুপরিকল্পিত ‘সন্ত্রাসী হামলা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। ব্রিটিশ

সংবাদমাধ্যম বিবিয়িকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, বিনোদনকেন্দ্রে ঘুরতে যাওয়া

নিরপরাধ স্থানীয় বাসিন্দাদের লক্ষ্য করে সশস্ত্র ব্যক্তিরা এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়ে

দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। অন্যদিকে, দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র

আবদুল মতিন কানি জানিয়েছেন, যে স্থানটিতে হামলা হয়েছে সেখানে প্রতিদিন অনেক মানুষ

নামাজ ও জিয়ারতের জন্য সমবেত হন। শিয়া ধর্মাবলম্বীদের ওপর এই আঘাত মূলত ধর্মীয়

বিদ্বেষের বহিঃপ্রকাশ বলেই মনে করা হচ্ছে।

আফগানিস্তানের শিয়া মুসলিমরা একটি সংখ্যালঘু সম্প্রদায় এবং অতীতেও তারা বিভিন্ন

উগ্রপন্থী গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে বারবার ভয়াবহ হামলার শিকার হয়েছেন। হেরাতের স্থানীয়

একজন চিকিৎসক নিশ্চিত করেছেন যে, নিহতদের সবাই শিয়া সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন

এবং তাঁরা ছুটির দিনে মাজারে সময় কাটাতে গিয়েছিলেন। আহতদের অনেকের অবস্থাই

আশঙ্কাজনক হওয়ায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে চিকিৎসকরা আশঙ্কা করছেন।

এখন পর্যন্ত বিশ্বের কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠী বা জঙ্গি সংগঠন এই বর্বরোচিত হামলার দায়

স্বীকার করেনি। তবে তালেবান সরকারের নিরাপত্তা বাহিনী পুরো এলাকাটি ঘিরে রেখেছে এবং

অপরাধীদের শনাক্ত করতে বিশেষ অভিযান শুরু করেছে। এই হামলার ফলে আফগানিস্তানের

সংখ্যালঘু শিয়া সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগের

সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও নিরাপত্তা জোরদারের দাবি

জানিয়েছেন।

Staff Reporter
ADMINISTRATOR
PROFILE

Posts Carousel

Latest Posts

Top Authors

Most Commented

Featured Videos