ভর্তুকির বাইরে জ্বালানি খাতে খরচ বাড়ছে ৩৬ হাজার কোটি টাকা

ভর্তুকির বাইরে জ্বালানি খাতে খরচ বাড়ছে ৩৬ হাজার কোটি টাকা

বাংলাদেশের অর্থনীতি বর্তমানে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির কঠিন প্রভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানির মূল্য অনিয়ন্ত্রিতভাবে বাড়ছে, যা দেশের ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করেছে। চলতি অর্থবছরের মার্চ থেকে জুন মাসের মধ্যে, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও এলএনজি খাতে নির্ধারিত ভর্তুকির বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৩৬ হাজার কোটি টাকা সরকারের খরচ হতে পারে বলে

বাংলাদেশের অর্থনীতি বর্তমানে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির কঠিন প্রভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানির মূল্য অনিয়ন্ত্রিতভাবে বাড়ছে, যা দেশের ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করেছে। চলতি অর্থবছরের মার্চ থেকে জুন মাসের মধ্যে, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও এলএনজি খাতে নির্ধারিত ভর্তুকির বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৩৬ হাজার কোটি টাকা সরকারের খরচ হতে পারে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এই অতিরিক্ত খরচের ফলে রাজস্ব ঘাটতি বাড়বে এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের উপর চাপ আরও বৃদ্ধি পাবে।

শুক্রবার (১০ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে ভাষণে অর্থমন্ত্রী এই পরিস্থিতির বিস্তারিত বিবরণ দেন। তিনি জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেল ও এলএনজির মূল্য দ্বিগুণেরও বেশি বৃদ্ধি পাওয়ায় এই অতিরিক্ত ভর্তুকির প্রয়োজন পড়ছে। এর ফলে সরকারের বাজেটের ঘাটতি বৃদ্ধি পাবে এবং প্রায় ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আমদানি ব্যয় বাড়বে, যা দেশের অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।

অর্থমন্ত্রী জানান, মাত্র ১০ দিনের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের সূচনা দেশের অর্থনীতিতে নতুন অস্থিরতা আনে। এই পরিস্থিতি বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ শৃঙ্খল ভেঙে দেয় এবং বাজারে অপ্রত্যাশিত অনিশ্চয়তার সৃষ্টি করে। তার মতে, এই পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহের জন্য সরকারের অতিরিক্ত খরচের প্রয়োজন পড়ে, যা চলতি অর্থবছরে সরকারকে প্রায় ৩৬ হাজার কোটি টাকা খরচ করতে হবে। এ ছাড়াও, এই অতিরিক্ত খরচ বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের উপর চাপ সৃষ্টি করবে এবং অর্থনীতির জন্য ঝুঁকি বাড়াবে।

অর্থমন্ত্রী জনগণের কষ্ট পালনের জন্য কিছু নীতিও ঘোষণা করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে, সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলো সন্ধ্যা ৫টার পরিবর্তে ৪টায় বন্ধ করা, ডেলাইট ব্যবহার করে বিদ্যুৎ সাশ্রয়, এসির তাপমাত্রা সামঞ্জস্য করা, বাজার-সুপার মার্কেটগুলো সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে বন্ধ করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া এবং আল্টারনেটিভ উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের মাধ্যমে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা। তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিতিশীলতা মোকাবিলায় সরকার সতর্কভাবে জ্বালানি ক্রয় এবং সরবরাহের জন্য পদক্ষেপ নিচ্ছে।

অর্থমন্ত্রী উল্লেখ করেছেন যে, বাংলাদেশ একটি দারিদ্র্য ও আমদানিনির্ভর দেশে, যেখানে বৈশ্বিক পরিস্থিতি সরাসরি প্রভাব ফেলে। দেশের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। তিনি বলেছিলেন, এই সেবায় দলগত ঐক্য ও স্বচ্ছতার সাথে কাজ করে দেশের উন্নয়নের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।

সর্বোপরি, তিনি নিশ্চিত করেন যে, জনগণের আস্থার মূল্যায়ন করে সরকার কঠোর পরিশ্রম করে চলেছে। তাদের বিশ্বাস ও সমর্থন বজায় থাকলে এই চ্যালেঞ্জগুলোর মোকাবিলা সম্ভব হবে, এবং দেশের অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করে সুস্থ পথে নিয়ে আসা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

Staff Reporter
ADMINISTRATOR
PROFILE

Posts Carousel

Latest Posts

Top Authors

Most Commented

Featured Videos