ইউক্রেন-সৌদির প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর

ইউক্রেন-সৌদির প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর

বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতির এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে প্রতিরক্ষা খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষর করেছে ইউক্রেন ও সৌদি আরব। শুক্রবার (২৭ মার্চ) জেদ্দায় সৌদি আরবের প্রভাবশালী যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর এই চুক্তির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়। বর্তমান যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে এই চুক্তিকে দুই দেশের

বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতির এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে প্রতিরক্ষা খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা

বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষর করেছে ইউক্রেন ও সৌদি আরব। শুক্রবার

(২৭ মার্চ) জেদ্দায় সৌদি আরবের প্রভাবশালী যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন

সালমানের সঙ্গে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের

পর এই চুক্তির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়। বর্তমান যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে এই

চুক্তিকে দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি নতুন ও কৌশলগত মাইলফলক হিসেবে বিবেচনা

করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এসপিএ-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুবরাজ মোহাম্মদ

বিন সালমান ও প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির মধ্যকার এই বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান

সামরিক উত্তেজনা এবং ইউক্রেন সংকটের সাম্প্রতিক গতিপ্রকৃতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা

হয়েছে। দুই নেতা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সার্বিক দিক পর্যালোচনা করার পাশাপাশি

বিভিন্ন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে মতবিনিময় করেন। এই সফরের মূল

লক্ষ্য ছিল প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে দীর্ঘমেয়াদী অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করা, যা

উভয় দেশের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

বৈঠক শেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায়

প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি এই প্রতিরক্ষা চুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান,

সৌদি আরব সফরের অংশ হিসেবে যুবরাজের সঙ্গে বৈঠকের আগেই এই গুরুত্বপূর্ণ চুক্তিটি

স্বাক্ষরিত হয়। জেলেনস্কি তাঁর বার্তায় উল্লেখ করেন যে, ইউক্রেন বর্তমানে

যুদ্ধক্ষেত্রে অর্জিত সামরিক অভিজ্ঞতা এবং অত্যাধুনিক প্রযুক্তি সৌদি আরবের সঙ্গে

ভাগ করে নিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। মূলত দীর্ঘ সময় ধরে রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে

আসার ফলে ইউক্রেনের যে কারিগরি ও রণকৌশলগত অভিজ্ঞতা তৈরি হয়েছে, সেটিই এই চুক্তির

মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।

উল্লেখ্য যে, ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি মধ্যপ্রাচ্যের

দেশগুলোকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার ব্যাপারে বিশেষ আগ্রহ প্রকাশ করে আসছিলেন। বিশেষ

করে ইউক্রেনের আকাশসীমায় ইরানের তৈরি কামিকাজি ড্রোন সফলভাবে মোকাবিলা করার যে

অভিজ্ঞতা তাঁদের রয়েছে, সেটি এই অঞ্চলের দেশগুলোর জন্য অত্যন্ত মূল্যবান।

জেলেনস্কির এই প্রযুক্তিগত সহায়তার প্রস্তাব সৌদি আরবসহ কয়েকটি প্রতিবেশী রাষ্ট্র

ইতিমধ্যে গ্রহণ করেছে। বর্তমানে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ইউক্রেনের

প্রায় ২০০ জনেরও বেশি অভিজ্ঞ সামরিক প্রযুক্তিবিদ দায়িত্ব পালন করছেন, যা এই

চুক্তির কার্যকারিতাকে আরও জোরালো করেছে।

এই গুরুত্বপূর্ণ সফর শেষে শনিবার (২৮ মার্চ) প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির জেদ্দা ত্যাগ

করার কথা রয়েছে। জেদ্দার কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাঁকে রাজকীয়

মর্যাদায় বিদায় জানাবেন মক্কা অঞ্চলের উপ-গভর্নর প্রিন্স সৌদ বিন মিশআলসহ সৌদি

সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এই প্রতিরক্ষা চুক্তির ফলে কেবল ইউক্রেন ও সৌদি

আরবের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কই শক্তিশালী হবে না, বরং মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিরক্ষা

ব্যবস্থায় ইউক্রেনীয় প্রযুক্তির অন্তর্ভুক্তি এক নতুন কৌশলগত ভারসাম্য তৈরি করবে

বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে ড্রোন প্রযুক্তি এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায়

ইউক্রেনের অভিজ্ঞতা সৌদি আরবের সামরিক সক্ষমতাকে আরও আধুনিক করতে সহায়তা করবে।

Staff Reporter
ADMINISTRATOR
PROFILE

Posts Carousel

Latest Posts

Top Authors

Most Commented

Featured Videos