আফগানিস্তানের ভূখণ্ড ব্যবহার করে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী হামলা চালানোর গুরুতর অভিযোগে কড়া নোটিস পাঠিয়েছে ইসলামাবাদ। পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রাদেশিক জেলা খাইবার পাখতুনখোয়ার বাজাউর এলাকায় সম্প্রতি ভয়াবহ এক আত্মঘাতী হামলায় ১১ জন সেনাসদস্য নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে, যার জের ধরে এই সংকটকালীন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তর থেকে বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত
আফগানিস্তানের ভূখণ্ড ব্যবহার করে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী হামলা চালানোর গুরুতর অভিযোগে কড়া নোটিস পাঠিয়েছে ইসলামাবাদ। পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রাদেশিক জেলা খাইবার পাখতুনখোয়ার বাজাউর এলাকায় সম্প্রতি ভয়াবহ এক আত্মঘাতী হামলায় ১১ জন সেনাসদস্য নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে, যার জের ধরে এই সংকটকালীন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তর থেকে বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়, যেখানে বলা হয়, আফগানিস্তানের বর্তমান ক্ষমতাসীন তালেবান সরকার যদি সন্ত্রাস দমনের ব্যাপারে কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়, তবে তার ফলাফল ভালো হবে না।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বোঝা যায় এই হামলার নেপথ্যে রয়েছে উগ্রবাদী গোষ্ঠী তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি), যাদের ইসলামাবাদ ‘ফিৎনা আল খারিজি’ হিসেবে অভিহিত করে আসছে। গত কয়েক দিন ধরেই এটি জানা গেছে, সন্ত্রাসীরা এক দ্রুতগামী বিস্ফোরকবোঝাই গাড়ি নিয়ে বাজাউরের একটি যৌথ নিরাপত্তা চৌকিকে শক্তি দিয়ে ধাক্কা দেয়। বিস্ফোরণের তীব্রতায় ঘটনাস্থলেই ১১ জন নিরাপত্তা সদস্য ও এক সাধারণ পথচারীর মৃত্যু ঘটে। এরপরই পাকিস্তান সেনাবাহিনী বড় ধরনের পাল্টা অভিযান চালায়, যাতে অন্তত ১২ জন প্রশিক্ষিত সন্ত্রাসী নিহত হওয়ার দাবি করা হয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, এই হামলায় অংশ নেওয়া আত্মঘাতী সন্ত্রাসীরা কেবল আফগানিস্তানের মাটি ব্যবহার করেনি, বরং তারা দেশের ভেতর দিয়েই দীর্ঘমেয়াদী প্রশিক্ষণ নিয়েছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে পাকিস্তান কাবুলের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে, দাবি জানিয়ে কূটনৈতিক চরমপত্রে বলা হয়েছে, আফগানিস্তানের ভূখণ্ড থেকে পরিচালিত সকল সন্ত্রাসী কার্যক্রম বন্ধ করতে কাবুলের নতুন অন্তর্বর্তী সরকারকে অবিলম্বে ‘তাৎক্ষণিক, সুনির্দিষ্ট এবং যাচাইযোগ্য’ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। পাকিস্তান মনে করে, প্রতিবেশী দেশের নমনীয় নীতির সুযোগ নিয়ে জঙ্গিগোষ্ঠীগুলো সীমান্তে বারবার রক্তক্ষয়ী হামলা চালাচ্ছে।
একই সঙ্গে, পাকিস্তান ভারতের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলে, দাবি করে, কিছু জঙ্গিগোষ্ঠী পাকিস্তানে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে ভারতের মদদ ও অর্থায়নে কাজ করছে। তবে এর বিরুদ্ধেই এমন অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও কাল্পনিক বলে প্রত্যাখ্যান করেছে দিল্লি। নয়া দিল্লি জানায়, নিজেদের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যর্থতা ঢাকতেই পাকিস্তান বারবার অন্য দেশের ওপর দোষারোপের চেষ্টা করছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই কূটনৈতিক চরমপত্র দুই দেশের মধ্যে বিরাজমান সম্পর্ককে আরও সংকটময় করে তুলতে পারে। দীর্ঘ সীমান্ত এলাকা ও ডুরান্ড লাইন কৌশলে দু’দেশের মধ্যে উত্তেজনা দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে। টিটিপির মতো সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর আশ্রয়দান ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্য ইতোমধ্যেই ইসলামাবাদের বিরুদ্ধে নানা ধরনের অভিযোগ ওঠে আসছে। এখন দেখা যাচ্ছে, তালেবান সরকারের প্রতিক্রিয়া কেমন হবে, তারা কতটা আন্তরিকভাবে সীমান্তে সন্ত্রাস দমন করে সহযোগিতা করে, সেটিই এখন নজরে। পাকিস্তানের অভ্যন্তরে ক্রমবর্ধমান সন্ত্রাসী তৎপরতা এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে, যা নতুন নির্বাচিত সরকারের জন্য বড় একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।











