মার্কিন ভিসা বন্ড আরোপ: দুঃখজনক কিন্তু অস্বাভাবিক নয়, পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বললেন

মার্কিন ভিসা বন্ড আরোপ: দুঃখজনক কিন্তু অস্বাভাবিক নয়, পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বললেন

যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের জন্য বাংলাদেশের নাগরিকদের ওপর ‘ভিসা বন্ড’ বা মোটা অংকের জামানত ধার্য করার সিদ্ধান্তটি ওয়াশিংটন গ্রহণ করেছে, যা বাংলাদেশের জন্য দুঃখজনক ও কষ্টকর পদক্ষেপ। এটি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অন্তর্বর্তীকালীন উপদেষ্টা মো. তোয়াহিদ হোসেন বৃহস্পতিবার বিকেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন। তবে তিনি উল্লেখ করেন যে, বর্তমান বৈশ্বিক সংকট ও অভিবাসন সমস্যা বিবেচনায় দেখলে, যুক্তরাষ্ট্রের

যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের জন্য বাংলাদেশের নাগরিকদের ওপর ‘ভিসা বন্ড’ বা মোটা অংকের জামানত ধার্য করার সিদ্ধান্তটি ওয়াশিংটন গ্রহণ করেছে, যা বাংলাদেশের জন্য দুঃখজনক ও কষ্টকর পদক্ষেপ। এটি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অন্তর্বর্তীকালীন উপদেষ্টা মো. তোয়াহিদ হোসেন বৃহস্পতিবার বিকেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন। তবে তিনি উল্লেখ করেন যে, বর্তমান বৈশ্বিক সংকট ও অভিবাসন সমস্যা বিবেচনায় দেখলে, যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্ত খুবই অস্বাভাবিক নয়। তিনি জানান, এই নিয়ম শুধু বাংলাদেশিতেই নয়, বরং বিশ্বের আরও ৩৭টি দেশের ওপর কার্যকর করা হয়েছে। এই তালিকায় থাকা দেশের নাগরিকরা বেশিরভাগই অভিবাসনে দীর্ঘ মেয়াদে থাকতে বা ওভারস্টে করার ক্ষেত্রে ঝুঁকিতে থাকেন।

তৌহিদ হোসেন মার্কিন কৌশলের একটা গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেন, যেখানে তিনি বলেন, যারা যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা বা সরকারি সুবিধা ভোগ করেন, তাদের মধ্যে বাংলাদেশিরা সর্বাধিক। তাই, যখন মার্কিন প্রশাসন নির্দিষ্ট কিছু দেশের ওপর এই ধরনের কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে, তখন বাংলাদেশের নাম থাকাটা খুবই স্বাভাবিক। তিনি মনে করেন, এটি আমাদের জাতীয় স্বার্থ ও মর্যাদার জন্য একটা বড় বার্তা এবং নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে এই পরিস্থিতিকে বর্তমান সরকারকে দোষারোপ না করে, বরং দীর্ঘদিনের পুংখানুপংখ সমস্যাগুলোর ফল বলে তিনি উল্লেখ করেন।

উপদেষ্টা বলেন, যদি গত এক বছরেই অভিবাসনসংক্রান্ত নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা যেত, তবে বর্তমান সরকারের দায়বদ্ধতা নিরূপণ করা সম্ভব হতো। কিন্তু এই সমস্যা দীর্ঘদিন ধরেই তৈরি হয়েছে, পূর্ববর্তী সরকারগুলোর নীতিমালা ও জনশক্তি রপ্তানি প্রক্রিয়ায় ভুলের ফলস্বরূপ আজ বাংলাদেশিরা এই পরিস্থিতির শিকার হচ্ছেন। তার মতে, মানুষের বিদেশে যাওয়াটা বা অবৈধভাবে থাকাটা একটা কাঠামোগত সমস্যা, যা একদিনে সমাধান সম্ভব নয়। এটি বছর বছর জমে থাকা সমস্যা, যার শেকড় গভীর।

অন্যদিকে, তৌহিদ হোসেন সতর্ক করে বলেন, অবৈধ অভিবাসনের কুফল কি, তা উপলব্ধি করা জরুরি। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার প্রথম দিন থেকেই অবৈধ পথে বিদেশে যাওয়ার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। তাঁর মতে, এই ধরনের অবৈধ অভিবাসন বন্ধ করাই এর মূল সমাধান, কারণ এতে আন্তর্জাতিকভাবে দেশের সম্মান ও মর্যাদা রক্ষা হয়। প্রতিনিয়ত মিডিয়ায় বাংলাদেশের নাগরিকদের ভূমধ্যসাগরে মারা যাওয়া কিংবা উদ্ধার হওয়ার খবর খুবই দুঃখজনক, কিন্তু এটি আইন ভঙ্গের বিষয়। মানবিক দিক থেকে ভুক্তভোগীদের প্রতি সহানুভূতি থাকলেও, দেশের স্বার্থে ও আন্তর্জাতিক সম্মান ফিরিয়ে আনতে সবাইকে আইন-শৃঙ্খলার সঙ্গে মিলিয়ে সঠিক পথে বিদেশে যেতে অনুরোধ করেন তিনি। মূল লক্ষ্য এখন সঠিক অভিবাসন নীতির বাস্তবায়ন, যা এখন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রধান কর্তব্য।

Staff Reporter
ADMINISTRATOR
PROFILE

Posts Carousel

Latest Posts

Top Authors

Most Commented

Featured Videos