বাস বন্ধ, চাপ বেড়েছে ট্রেনে

বাস বন্ধ, চাপ বেড়েছে ট্রেনে

নিরাপদ সড়কের দাবিতে ছাত্রদের বিক্ষোভ চলছে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে। আর নিরাপত্তার অভাবের কথা বলে মালিক-শ্রমিকরা বন্ধ করে দিয়েছেন বাস চালানো। এই পরিস্থিতিতে ট্রেনে বেড়েছে ভিড়। পাশাপাশি লঞ্চেও চাপ বেড়েছে। শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনে নিরাপত্তার কথা বলে শুক্রবার সকাল থেকে বাস চালানো বন্ধ করে দেয় পরিবহন মালিকরা। জরুরি কাজে যাদের বাইরে যাওয়া প্রয়োজন তাদের ভরসা শুধুই

নিরাপদ সড়কের দাবিতে ছাত্রদের বিক্ষোভ চলছে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে। আর নিরাপত্তার অভাবের কথা বলে মালিক-শ্রমিকরা বন্ধ করে দিয়েছেন বাস চালানো। এই পরিস্থিতিতে ট্রেনে বেড়েছে ভিড়। পাশাপাশি লঞ্চেও চাপ বেড়েছে। শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনে নিরাপত্তার কথা বলে শুক্রবার সকাল থেকে বাস চালানো বন্ধ করে দেয় পরিবহন মালিকরা। জরুরি কাজে যাদের বাইরে যাওয়া প্রয়োজন তাদের ভরসা শুধুই ট্রেন। ঢাকার বাইরে থেকে রাজধানীতে আসা বা রাজধানী থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যাওয়ার পাশাপাশি টঙ্গী ও উত্তরা থেকেও প্রচুর যাত্রী ট্রেনে চড়ে কমলাপুরে আসা-যাওয়া করছেন। 

কমলাপুর রেলস্টেশনের ম্যানেজার সীতাংশু চক্রবর্তী জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে স্বাভাবিক দিনের তুলনায় অনেক বেশি যাত্রী ট্রেনে। ঈদ মওসুমের মতো উপচে পড়া ভিড়। গতকাল কমলাপুর স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিটি ট্রেন আসছে যাত্রীতে ঠাসা হয়ে। যেসব ট্রেন ছেড়ে যাচ্ছে, সেগুলোর প্রতিটি বগি ভর্তি। এরপর বিমান বন্দর স্টেশন থেকে উঠবেন আরও যাত্রী। তাই সহজেই অনুমান করা যায়, ওই স্টেশনের যাত্রীরা ট্রেনে উঠতে কতটা ভোগান্তিতে পড়বে। রাজশাহী সিল্কসিটির যাত্রী আবুল কালাম বলেন, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাস্তায় বাস দেখাই যাচ্ছে না। বাধ্য হয়ে ট্রেনে ঝুলে, ছাদে চড়ে গন্তব্যে রওনা হতে হচ্ছে। 

টাঙ্গাইল থেকে ঢাকায় আবির হোসেন জানান, জরুরি প্রয়োজনে তিনি ঢাকায় এসেছেন। রাস্তায় কোনো বাস নেই, তাই ট্রেনে আসতে হলো। টাঙ্গাইল থেকে ট্রেনের প্রতিটি বগি যাত্রীতে ঠাসা। জয়দেবপুরে যাত্রীর ভিড়ে দম বন্ধ হওয়ার মতো অবস্থা হয়। তারপর কষ্ট করে ঢাকা পর্যন্ত আসতে পারলাম। গতকাল শনিবার সরকারি অফিস বন্ধ থাকলেও বেসরকারি বহু অফিস খোলা ছিল। পথে নানা যানবাহন বদলে বদলে অফিসে আসতে হয়েছে চাকরিজীবীদের। আর উত্তরা থেকে আসা যাত্রীরা যাদের ব্যক্তিগত গাড়ি ভাড়া করার সামর্থ্য নেই তারা বিমান বন্দর স্টেশন থেকে ট্রেনে চেপে কমলাপুরে এসে গন্তব্যে গেছেন। একইভাবে কমলাপুর থেকে বিমান বন্দর গন্তব্যের যাত্রীও দেখা গেছে প্রচুর। এই পরিস্থিতিতে বিমানেও ভিড় বেড়েছে। 

সপ্তম দিনের মতো চলছে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন। আর প্রেক্ষাপটে তৃতীয় দিনের মতো রাজধানীতে দেখা যায়নি কোনো গণপরিবহন। কোনো গণপরিবহন রাস্তায় নামেনি। বাস, ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহন ভাঙচুর ও শ্রমিকদের ওপর হামলার কারণ দেখিয়ে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অভ্যন্তরীণ এবং দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ রেখেছেন মালিক-শ্রমিকরা। অপর দিকে ঢাকা থেকে রাতে দূরপাল্লাগামী বাসও বন্ধ রাখা হয়েছে। 

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্যাহ বলেন, নিরাপত্তাহীনতায় শ্রমিক ও মালিকরা রাস্তায় বাস নামাচ্ছেন না। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে বাস নামাবেন। কখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে তাও বলতে পারেননি তিনি। 

পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা বলছেন, তারা চাইলেও রাস্তায় পরিবহন নামাতে পারছেন না। নামালেই নানা অজুহাতে ভাঙচুর করা হচ্ছে। এখনো তারা সড়ককে নিরাপদ মনে করছেন না। তাদের অভিযোগ, সঠিক কাগজপত্র থাকার পরেও অনেক পরিবহন ভাঙা হয়েছে। গত কয়েক দিনে অন্তত চার শতাধিক পরিবহন ভাঙা হয়েছে। পেট্রোল দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে আরও অন্তত ৮টি পরিবহন। হামলার শিকারও হয়েছেন অনেক শ্রমিক। এ অবস্থায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক এবং ভাঙচুর হবে না এই নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত তারা গাড়ি চলবেন না। 

ঢাকা জেলা শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি নুরুল আমিন বলছিলেন, ছাত্ররা যে দাবি করেছে সেটা যৌক্তিক। এখন তাদের দাবি পূরণ হয়েছে, ঘরে ফিরে পড়াশোনায় মনোনিবেশ করা উচিত।’ কোথাও কোথাও শ্রমিক আর শিক্ষার্থীরা মুখোমুখি হয়ে পড়েছেন— এমন প্রশ্নের জবাবে জনাব আমিন বলেন, ‘৬ দিন ধরে আমার শ্রমিকরা না খেয়ে আছে। ওরা দিন এনে দিন খেয়ে চলে। বাস না চলার কারণে ওদের পেটে ভাত নেই। এই পরিস্থিতিতে একজন অভুক্ত মানুষ কখন কি করে ফেলবে সেটা তো বলা যাবে না। তবে আমরা তাদের বুঝিয়ে শুনিয়ে রেখেছি। কতদিন রাখতে পারব জানি না।

Staff Reporter
ADMINISTRATOR
PROFILE

Posts Carousel

Latest Posts

Top Authors

Most Commented

Featured Videos