দেশের ক্রমবর্ধমান কৃষি উৎপাদন অব্যাহত রাখতে এবং খাদ্যনিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে মরক্কো, সৌদি আরব ও রাশিয়া থেকে মোট ১ লাখ ৮৫ হাজার মেট্রিক টন সার আমদানির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এই বিশাল পরিমাণ সার আমদানিতে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে মোট ব্যয় হবে ১ হাজার ৬৩৬ কোটি ৪২ লাখ ৩১ হাজার ৩২ টাকা। বুধবার (১৫ জুলাই) অর্থ মন্ত্রণালয়ের
দেশের ক্রমবর্ধমান কৃষি উৎপাদন অব্যাহত রাখতে এবং খাদ্যনিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে
মরক্কো, সৌদি আরব ও রাশিয়া থেকে মোট ১ লাখ ৮৫ হাজার মেট্রিক টন সার আমদানির চূড়ান্ত
সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এই বিশাল পরিমাণ সার আমদানিতে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে মোট
ব্যয় হবে ১ হাজার ৬৩৬ কোটি ৪২ লাখ ৩১ হাজার ৩২ টাকা। বুধবার (১৫ জুলাই) অর্থ
মন্ত্রণালয়ের অধীন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ
কমিটির (সিসিজিপি) এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এ সংক্রান্ত তিনটি পৃথক প্রস্তাবের
আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেওয়া হয়। অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বর্তমান
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এই আমদানির একটি বড় অংশ আসবে মরক্কো
থেকে। রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের (জি-টু-জি) চুক্তির আওতায় মরক্কোর প্রতিষ্ঠান ওসিপি
নিউট্রিক্রপস থেকে দুই ধাপে মোট ৬০ হাজার মেট্রিক টন ট্রিপল সুপার ফসফেট (টিএসপি)
সার আমদানি করা হবে। এর মধ্যে প্রথম লটে প্রায় ২৫৪ কোটি ৩৯ লাখ টাকা ব্যয়ে ৩০ হাজার
মেট্রিক টন (±১০ শতাংশ) টিএসপি সার কেনা হবে, যার প্রতি মেট্রিক টনের মূল্য
নির্ধারণ করা হয়েছে ৬৮৮ মার্কিন ডলার। অন্যদিকে, একই প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে দ্বিতীয়
লটে আরও ৩০ হাজার মেট্রিক টন (±১০ শতাংশ) টিএসপি সার দেশে আসবে। এই চালানের প্রতি
মেট্রিক টনের মূল্য ৭২৬ দশমিক ৩৩ মার্কিন ডলার হিসেবে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২৬৮ কোটি
৫৬ লাখ টাকা।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি শিল্প মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাব অনুযায়ী সৌদি আরব এবং
রাশিয়া থেকেও সার আমদানির সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়েছে। বিদ্যমান সরকার-টু-সরকার
(জি-টু-জি) চুক্তির আওতায় সৌদি আরবের সাবিক অ্যাগ্রি-নিউট্রিয়েন্টস কোম্পানি এবং
রাশিয়ার সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে মোট ১ লাখ ২৫ হাজার মেট্রিক টন
ইউরিয়া সার আমদানি করা হবে। এই দুই দেশ থেকে আসা ইউরিয়া সারের বিশাল চালান মিলিয়ে
বাংলাদেশ সরকারের মোট ব্যয় হবে প্রায় ১ হাজার ১১৩ কোটি টাকার বেশি। এর ফলে দেশের
বাজারে ইউরিয়া সারের কাঙ্ক্ষিত চাহিদা সহজেই মেটানো সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সরকারের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে, আসন্ন আমন ও রবি মৌসুমে
দেশের প্রান্তিক কৃষকদের জন্য পর্যাপ্ত সারের মজুত নিশ্চিত করতেই মূলত এই বৃহৎ
আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে সারের দামের ওঠানামা থাকা
সত্ত্বেও কৃষি উৎপাদন সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রাখা এবং দেশের সামগ্রিক খাদ্যনিরাপত্তা
বজায় রাখতে সরকার সময়মতো সার সংগ্রহ কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। কৃষি সংশ্লিষ্ট
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ রাসায়নিক সারের চাহিদা তৈরি
হয়, যার জন্য অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের পাশাপাশি অনেকাংশেই আমদানির ওপর নির্ভর করতে হয়।
তাই সময়মতো এই সার আমদানি নিশ্চিত করা গেলে কৃষকরা নির্ধারিত মৌসুমে নির্বিঘ্নে
তাদের চাষাবাদ চালিয়ে যেতে পারবেন এবং উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার কোনো আশঙ্কা থাকবে না।











