আমেরিকায় প্রতিদিন গড়ে তৈরি হয়েছে ১২শ নতুন কোটিপতি

আমেরিকায় প্রতিদিন গড়ে তৈরি হয়েছে ১২শ নতুন কোটিপতি

২০২৫ সালে বিশ্বব্যাপী যত মানুষ নতুন করে কোটিপতি হয়েছেন, তাদের প্রায় অর্ধেকই যুক্তরাষ্ট্রের বাসিন্দা। সুইজারল্যান্ডের সুপরিচিত সম্পদ ব্যবস্থাপনা সংস্থা ইউবিএস প্রকাশিত ‘বৈশ্বিক সম্পদ প্রতিবেদন’ থেকে জানা যায়, উক্ত সময়ে দেশটিতে ৪ লাখ ৪০ হাজারেরও বেশি মানুষ মিলিয়নিয়ার হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। এর অর্থ দাঁড়ায়, আমেরিকায় প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১২শ মানুষ এই তালিকায় প্রবেশ করেছেন। প্রতিবেদনটিতে আরও

২০২৫ সালে বিশ্বব্যাপী যত মানুষ নতুন করে কোটিপতি হয়েছেন, তাদের প্রায় অর্ধেকই

যুক্তরাষ্ট্রের বাসিন্দা। সুইজারল্যান্ডের সুপরিচিত সম্পদ ব্যবস্থাপনা সংস্থা

ইউবিএস প্রকাশিত ‘বৈশ্বিক সম্পদ প্রতিবেদন’ থেকে জানা যায়, উক্ত সময়ে দেশটিতে ৪ লাখ

৪০ হাজারেরও বেশি মানুষ মিলিয়নিয়ার হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। এর অর্থ দাঁড়ায়,

আমেরিকায় প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১২শ মানুষ এই তালিকায় প্রবেশ করেছেন।

প্রতিবেদনটিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, গত বছর বিশ্বজুড়ে ব্যক্তিগত সম্পদের পরিমাণ

১০ দশমিক ৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই বর্ধিত বিপুল সম্পদের অর্ধেকের বেশির অবস্থান

যুক্তরাষ্ট্র এবং মূল ভূখণ্ড চীনে।

তবে দেশটিতে সম্পদের এমন পাহাড় গড়লেও অর্থনৈতিক বৈষম্য প্রকট আকার ধারণ করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের

প্রথম প্রান্তিকে সেখানকার মোট সম্পদের ৩১ দশমিক ৬ শতাংশই কুক্ষিগত ছিল শীর্ষ এক

শতাংশ পরিবারের কাছে। এর ঠিক উল্টোদিকে, নিচের সারিতে থাকা ৫০ শতাংশ পরিবারের কাছে

সব মিলিয়ে মাত্র ২ দশমিক ৫ শতাংশ সম্পদ রয়েছে। এই প্রসঙ্গে গত জানুয়ারিতে সিবিএস

নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আর্থিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান মুডিস অ্যানালিটিকসের প্রধান

অর্থনীতিবিদ মার্ক জান্ডি মন্তব্য করেন যে, গুটি কয়েক মানুষের কাছে পরিবারের

সম্পদগুলো কেন্দ্রীভূত হয়ে আছে এবং সময়ের পরিক্রমায় এই বৈষম্য কেবল বৃদ্ধি পাচ্ছে।

শীর্ষ ধনীদের সম্পদ ফুলেফেঁপে ওঠার প্রমাণ মেলে সাম্প্রতিক কিছু ঘটনাতেও। গত মাসে

বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার হওয়ার রেকর্ড গড়েন ২০০২ সালে মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়া

দক্ষিণ আফ্রিকান বংশোদ্ভূত ইলন মাস্ক। রকেট নির্মাণকারী কোম্পানি স্পেসএক্স

শেয়ারবাজার নাসডাকে তালিকাভুক্ত হওয়ার পরই তিনি এই অভাবনীয় মাইলফলক অর্জন করেন।

যদিও স্পেসএক্স ও বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলার শেয়ার বিক্রির কারণে

সৃষ্ট চাপে দুই সপ্তাহেরও কম সময়ের ব্যবধানে তার সম্পদ এক ট্রিলিয়ন ডলারের নিচে

নেমে আসে। অন্যদিকে, গত মাসে প্রকাশিত আর্থিক তথ্য বিবরণীর বরাতে জানা যায়,

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত বছর অন্তত ২ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার আয় করেছেন, যার

প্রায় ১ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারই এসেছে ক্রিপ্টো মুদ্রা থেকে।

একশ্রেণির মানুষের এমন রমরমা অবস্থার বিপরীতে খাদ্য ও জ্বালানির মতো নিত্যপ্রয়োজনীয়

জিনিসপত্র কিনতে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মার্কিন নাগরিকরা। গত বছরের একই

সময়ের সাপেক্ষে মে মাসে মূল্যস্ফীতির হার ৪ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ২০২৩

সালের পর সর্বোচ্চ রেকর্ড। পণ্য ও সেবামূল্যের ওঠা-নামা পর্যবেক্ষণে সরকারের

ব্যবহৃত ভোক্তা মূল্যসূচকের তথ্য বলছে, গত এক বছরের ব্যবধানে যুক্তরাষ্ট্রে খাদ্যের

দাম ৩ দশমিক ১ শতাংশ এবং জ্বালানি খরচ ২৩ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে।

সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন এই সংগ্রামের প্রতিফলন দেখা গেছে গত জানুয়ারিতে প্রকাশিত

ইকোনমিস্ট ও ইউগভের যৌথভাবে পরিচালিত এক জনমত জরিপে। সেখানে অংশ নেওয়া সিংহভাগ

মার্কিন নাগরিকই সম্পদ বৈষম্যকে একটি বড় সংকট হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। জরিপের ফলাফল

অনুযায়ী, ধনী ও দরিদ্রের মধ্যকার এই ফারাককে ‘অত্যন্ত বড় সমস্যা’ বলে মনে করেন ৫২

শতাংশ মানুষ। ২৮ শতাংশ নাগরিক এটিকে ‘মোটামুটি বড় একটি সমস্যা’ হিসেবে মত দিয়েছেন।

এছাড়া ১৪ শতাংশের কাছে এটি ‘ছোটখাটো সমস্যা’ হলেও, জরিপে অংশগ্রহণকারীদের মাত্র ৬

শতাংশ মনে করেন যে সম্পদ বৈষম্য আসলে কোনো সমস্যাই নয়।

Staff Reporter
ADMINISTRATOR
PROFILE

Posts Carousel

Latest Posts

Top Authors

Most Commented

Featured Videos