বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর বাঁচা-মরার লড়াইয়ে আজ মেক্সিকোর মুখোমুখি হচ্ছে ইংল্যান্ড। ঐতিহাসিক এস্তাদিও আজতেকা স্টেডিয়ামে কোচ থমাস টুখেলের দলের জন্য মাঠের প্রতিপক্ষের চেয়েও বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে মেক্সিকো সিটির ভৌগোলিক পরিবেশ। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২ হাজার ২০০ মিটারেরও বেশি উঁচুতে অবস্থিত এই স্টেডিয়ামের পাতলা বাতাস ও অক্সিজেনের স্বল্পতা ইংলিশ ফুটবলারদের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।
বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর বাঁচা-মরার লড়াইয়ে আজ মেক্সিকোর মুখোমুখি হচ্ছে ইংল্যান্ড।
ঐতিহাসিক এস্তাদিও আজতেকা স্টেডিয়ামে কোচ থমাস টুখেলের দলের জন্য মাঠের প্রতিপক্ষের
চেয়েও বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে মেক্সিকো সিটির ভৌগোলিক পরিবেশ। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে
প্রায় ২ হাজার ২০০ মিটারেরও বেশি উঁচুতে অবস্থিত এই স্টেডিয়ামের পাতলা বাতাস ও
অক্সিজেনের স্বল্পতা ইংলিশ ফুটবলারদের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।
উচ্চতার ধকল সামলাতে ‘ভায়াগ্রা’ কৌশল:
উচ্চতাজনিত কারণে অ্যাথলেটদের শ্বাসকষ্ট, মাথা ঘোরা এবং দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়ার
ঝুঁকি থাকে। এই প্রতিকূলতা সামলাতে চিকিৎসাগত বিকল্প হিসেবে হ্যারি কেইনদের সামনে
‘ভায়াগ্রা’ (সিলডেনাফিল) ব্যবহারের পথ খোলা রয়েছে। আন্তর্জাতিক ফুটবলের নিয়ন্ত্রক
সংস্থা ফিফা কিংবা বিশ্ব ডোপিং বিরোধী সংস্থা ওয়াডার (WADA) নিষিদ্ধ ওষুধের তালিকায়
এটি না থাকায় ব্যবহারে কোনো আইনি বাধা নেই। পর্তুগালের ক্রীড়া সাময়িকী ‘আ বোলা’ এবং
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য সান’ তাদের প্রতিবেদনে এই সম্ভাবনার কথা নিশ্চিত করেছে।
ক্রীড়া বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে ভায়াগ্রার ভূমিকা:
সাধারণত যৌন অক্ষমতার চিকিৎসায় ব্যবহৃত হলেও উঁচুতে খেলার ক্ষেত্রে এর বৈজ্ঞানিক
গুরুত্ব ভিন্ন। এর মূল উপাদান ‘সিলডেনাফিল’ ফুসফুসের রক্তনালীগুলোকে প্রসারিত করে
রক্ত সঞ্চালন বাড়ায়। ফলে পাতলা বাতাসেও ফুসফুসে অক্সিজেন সরবরাহের গতি বাড়ে এবং
অ্যাথলেটরা সহজে শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে পারেন।
চিকিৎসাবিজ্ঞান অনুযায়ী, কোনো প্রকার যৌন উদ্দীপনা ছাড়া কেবল শারীরিক পরিশ্রমের সময়
এই ওষুধ সেবন করলে কোনো বিব্রতকর বা অনাকাঙ্ক্ষিত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি থাকে
না। এর আগে ২০১৯ সালে আর্জেন্টিনার ঘরোয়া ক্লাব ‘ইউনিয়ন দে সান্তা ফে’ ইকুয়েডরের
২,৮৫০ মিটার উঁচুতে খেলার সময় সফলভাবে এই কৌশল ব্যবহার করেছিল।
আজতেকার অতীত ইতিহাস ও মেক্সিকোর দুর্গ:
শুধুমাত্র উচ্চতাই নয়, আজতেকা স্টেডিয়ামের অতীত ইতিহাসও ইংলিশদের ভীতি বাড়াচ্ছে। ৪০
বছর আগে এই মাঠেই বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে হেরে বিদায়
নিয়েছিল ইংল্যান্ড, যে ম্যাচে ডিয়েগো ম্যারাডোনা করেছিলেন ঐতিহাসিক ‘হ্যান্ড অফ গড’
গোল। চার দশক পর আজতেকার সেই পুরোনো ক্ষত সারানোর চ্যালেঞ্জ নিয়ে মাঠে নামবেন
হ্যারি কেইনরা।
অন্যদিকে, আজতেকা স্টেডিয়াম মেক্সিকোর জন্য এক দুর্ভেদ্য দুর্গ। এই মাঠে খেলা
নিজেদের শেষ ৮৯টি ম্যাচের মধ্যে মাত্র ২টিতে হেরেছে তারা, যার সর্বশেষটি ছিল ২০১৩
সালে।
সমর্থকদের উৎপাত ও টুখেলের মন্তব্য:
মাঠের লড়াইয়ের আগেই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছেন স্থানীয় মেক্সিকান
সমর্থকরা। বিশৃঙ্খলা এড়াতে ইংলিশ ফুটবল ফেডারেশন দলের হোটেলের নাম গোপন রাখতে
চেয়েছিল। কিন্তু মেক্সিকান সমর্থকরা ঠিকই হোটেল ও টিম বাস শনাক্ত করে তীব্র হট্টগোল
ও দুয়ো দেওয়া শুরু করে।
প্রতিপক্ষের সমর্থকদের এই উৎপাত ও মানসিক চাপ সামলাতে ইংলিশ কোচ থমাস টুখেল হালকা
ছলে রসিকতা করে বলেন, “মেক্সিকান সমর্থকরা যদি আমাদের রাতে ঘুমাতে না দেয়, তবে
খেলোয়াড়রা কানে প্লাগ গুঁজে ঘুমাবে!”
উচ্চতার প্রাকৃতিক বাধা, ইতিহাসের পুরোনো ভূত এবং স্বাগতিক সমর্থকদের তুমুল
উন্মাদনা সব প্রতিকূলতা জয় করে হ্যারি কেইনরা শেষ আটের টিকিট কাটতে পারেন কি না,
সেটাই এখন দেখার বিষয়।











