অতীতের অপরাজিত রেকর্ডের চেয়েও বর্তমান নরওয়ে বেশি বিপজ্জনক ব্রাজিলের জন্য

অতীতের অপরাজিত রেকর্ডের চেয়েও বর্তমান নরওয়ে বেশি বিপজ্জনক ব্রাজিলের জন্য

ফিফা বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার হাইভোল্টেজ লড়াইয়ে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ইউরোপের দল নরওয়ে। তবে সেলেসাওদের জন্য শেষ ষোলোর এই বৈতরণী পার হতে হলে সবার আগে নিজেদের পুরোনো এক কালো ইতিহাস মুছে ফেলতে হবে, আর তা হলো আন্তর্জাতিক ফুটবলে নরওয়েকে হারানোর স্বাদ পাওয়া। বিশ্ব ফুটবলে নরওয়েই একমাত্র দল, যাদের নিজেদের ইতিহাসে কখনোই হারাতে

ফিফা বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার হাইভোল্টেজ লড়াইয়ে পাঁচবারের

বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ইউরোপের দল নরওয়ে। তবে সেলেসাওদের

জন্য শেষ ষোলোর এই বৈতরণী পার হতে হলে সবার আগে নিজেদের পুরোনো এক কালো ইতিহাস মুছে

ফেলতে হবে, আর তা হলো আন্তর্জাতিক ফুটবলে নরওয়েকে হারানোর স্বাদ পাওয়া। বিশ্ব

ফুটবলে নরওয়েই একমাত্র দল, যাদের নিজেদের ইতিহাসে কখনোই হারাতে পারেনি ব্রাজিল।

দুই দলের আগের চারবারের দেখায় দুটিতে হেরেছে ব্রাজিল এবং বাকি দুটি ম্যাচ ড্র

হয়েছে। তবে ব্রাজিলের নতুন হাইপ্রোফাইল কোচ কার্লো আনচেলত্তির দলের জন্য কেবল

অতীতের এই নেতিবাচক পরিসংখ্যানই একমাত্র চিন্তার কারণ নয়। অতীতের এই অজেয় রেকর্ডের

বাইরেও ব্রাজিলের জন্য সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো—১৯৯৮ বিশ্বকাপের পর নরওয়ে

ফুটবলের ইতিহাসের সর্বকালের সেরা ও প্রতিভাবান ‘স্বর্ণালী প্রজন্ম’-এর মুখোমুখি হতে

যাচ্ছে তারা।

পরিসংখ্যানের খাতিরে বলা যায়, ব্রাজিলিয়ানদের ওপর অতীতের রেকর্ড খুব বেশি

মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব ফেলার কথা নয়। কারণ, দুই দলের প্রথম ম্যাচটি হয়েছিল আজ থেকে

প্রায় ৩৮ বছর আগে এবং সর্বশেষ ২০০৬ সালের পর গত ২০ বছরে এই দুই দল আর কখনো

আন্তর্জাতিক ফুটবলে মুখোমুখিই হয়নি। তাই ব্রাজিল যে ধারাবাহিকভাবে নরওয়ের কাছে

হেরেছে, বিষয়টি তেমন নয়। ব্রাজিলের জন্য আসল চিন্তার কারণ হলো, ১৯৯৮ বিশ্বকাপের

গ্রুপ পর্বে নরওয়ের কাছে শেষবার হারের পর থেকে দীর্ঘ তিন দশক ধরে নর্ডিক দেশটির

ফুটবলে যে নীরব বিপ্লব ঘটেছে, তা এখন দৃশ্যমান। নরওয়ে ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন তাদের

ইতিহাসের সবচেয়ে প্রতিভাবান ও প্রতিজ্ঞাবদ্ধ এক ঝাঁক ফুটবলারকে একসাথে পেয়েছে, যার

কারণে বর্তমান দলটি ব্রাজিলের সামনে যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি ভয়ঙ্কর রূপে আবির্ভূত

হতে যাচ্ছে।

ব্রাজিলিয়ান বিখ্যাত সংবাদপত্র ‘ও গ্লোবো’-র বিশিষ্ট ফুটবল কলামিস্ট কার্লোস

এদুয়ার্দোর মতে, ৯০-এর দশকের রক্ষণাত্মক নরওয়েজিয়ান দলের চেয়েও বর্তমানের

আক্রমণাত্মক দল ফুটবলীয় সামর্থ্যে অনেক বেশি ক্ষিপ্র ও আধুনিক, যাদের অনায়াসে

আন্তর্জাতিক ফুটবলের অভিজাত তালিকায় রাখা যায়। এর আগে দুই দেশের মধ্যকার চার

ম্যাচের তিনটিই হয়েছিল ওসলোতে, নরওয়ের চেনা কন্ডিশনে। কিন্তু এবার আমেরিকার নিউ

জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামের আবহাওয়া সম্পূর্ণ ভিন্ন। আবহাওয়ার পূর্বাভাস বলছে,

ম্যাচের দিন তীব্র গরম ও উচ্চ তাপমাত্রা থাকবে, যা দুই দলের জন্যই বড় প্রতিপক্ষ হয়ে

দাঁড়াবে। কারণ, এর আগে ১৯৯৮ বিশ্বকাপের ম্যাচটি হয়েছিল ফরাসি গ্রীষ্মের মনোরম রাতে।

ইতিহাসের পাতায় ১৯৯৭ ও ১৯৯৮ সালের মাত্র ১৩ মাসের ব্যবধানে ব্রাজিলের বিরুদ্ধে

নরওয়ে যে দুটি জয় পেয়েছিল, তা এসেছিল কিংবদন্তি কোচ এগিল ‘ড্রিলো’র নিখুঁত রণকৌশলে।

তাঁর অধীনে নরওয়ে মূলত রক্ষণভাগ নিরেট রেখে ফরোয়ার্ডদের শারীরিক শক্তি ও গতিকে কাজে

লাগিয়ে উইং ধরে কাউন্টার অ্যাটাক খেলত। মজার ব্যাপার হলো, ২০২৬ সালের বর্তমান দলটিও

প্রায় একই কৌশলে খেলছে, তবে তাদের আক্রমণের ধার আগের চেয়ে বহুগুণ বেশি।

প্রায় ৩০ বছর আগে নরওয়েজিয়ান আক্রমণের মূল ভরসা ছিলেন টোরে আন্দ্রে ফ্লো, যিনি

ব্রাজিলের বিপক্ষে দুই ম্যাচে ৩টি গোল করেছিলেন। ১.৯৩ মিটার উচ্চতার ফ্লো গতি ও

শারীরিক শক্তিতে অনন্য হলেও, বর্তমান সময়ের আর্লিং হালান্ডের মতো গোল করার

অতিমানবীয় সহজাত প্রবৃত্তি তাঁর ছিল না। ম্যানচেস্টার সিটির গোলমেশিন হালান্ড নিজের

শেষ ১৪টি আন্তর্জাতিক ম্যাচেই করেছেন অবিশ্বাস্য ২৬টি গোল! মাত্র ৫৩ ম্যাচে দ্রুততম

৬০ গোলের জাতীয় রেকর্ড গড়া এই স্ট্রাইকার বিশ্বকাপ বাছাইপর্বেও করেছেন ১৬ গোল।

চলমান এই বিশ্বকাপেও ইতিমধ্যেই ৫টি গোল করে গোল্ডেন বুট পাওয়ার দৌড়ে শীর্ষস্থানে

রয়েছেন তিনি।

নাম্বার নাইন পজিশনে থাকা হালান্ডের শক্তির পাশাপাশি নরওয়েজিয়ান দলের বর্তমান ধার

বাড়াচ্ছেন মার্টিন ওডেগার্ড, আলেক্সান্ডার সোরলোথ, অ্যান্তনিও নুসা ও অস্কার ববের

মতো ইউরোপ কাঁপানো সব তারকা। দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে প্রতিভাবান এই আক্রমণভাগের

ড্রিবলিং বা ওয়ান-অন-ওয়ান পরিস্থিতিতে প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারকে ছিটকে দেওয়ার দক্ষতা

৯০-এর দশকের দলটির চেয়ে আকাশচুম্বী, যা ওই সময় কল্পনাও করা যেত না। ফুটবল বিশ্লেষক

মানসুরের মতে, বর্তমানে যেকোনো বিশ্বমানের ফুলব্যাককে ওয়ান-অন-ওয়ান পরিস্থিতিতে

ড্রিবলিংয়ের অস্ত্র দিয়ে অনায়াসে সামলাতে পারছে নরওয়ে।

২৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরে বাছাইপর্বে একচ্ছত্র আধিপত্য দেখানো এবং বিশ্বকাপ ইতিহাসে

প্রথমবার নকআউটের ম্যাচ জেতা নরওয়ে কেবল চার দশকের এক রেকর্ডের কারণে ব্রাজিলের

জন্য বিপজ্জনক নয়। বরং ইউরোপের শীর্ষ লিগগুলোতে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করা এক

অবিশ্বাস্য ঝাঁক নর্ডিক যোদ্ধার মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ব্রাজিল। কোয়ার্টার ফাইনালে

ওঠার এই মরণপণ লড়াইয়ে আনচেলত্তির সাম্বার জাদু নাকি হালান্ডের নর্ডিক ঝড়—কোনটি শেষ

পর্যন্ত জয়ী হয়, তা দেখতে মুখিয়ে আছে পুরো ফুটবল বিশ্ব।

Staff Reporter
ADMINISTRATOR
PROFILE

Posts Carousel

Latest Posts

Top Authors

Most Commented

Featured Videos