প্রতিকূল আবহাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে কোকোর মূল্যে রেকর্ড উল্লম্ফন

প্রতিকূল আবহাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে কোকোর মূল্যে রেকর্ড উল্লম্ফন

এল নিনোর প্রভাবে ২০২৬-২৭ মৌসুমে বিশ্বজুড়ে কোকো উৎপাদন বড় ধরনের বাধার মুখে পড়ার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে এই পণ্যের দাম গত পাঁচ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিজনেস রেকর্ডার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ইন্টারকন্টিনেন্টাল এক্সচেঞ্জে কোকোর দাম উল্লেখযোগ্য হারে বাড়লেও একই সময়ে কফি ও চিনির বাজারে উল্টো চিত্র দেখা গেছে। গত বৃহস্পতিবার লন্ডনের বাজারে কোকোর মূল্য ৩

এল নিনোর প্রভাবে ২০২৬-২৭ মৌসুমে বিশ্বজুড়ে কোকো উৎপাদন বড় ধরনের বাধার মুখে পড়ার

আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে এই পণ্যের দাম গত পাঁচ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে

পৌঁছেছে। বিজনেস রেকর্ডার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ইন্টারকন্টিনেন্টাল এক্সচেঞ্জে

কোকোর দাম উল্লেখযোগ্য হারে বাড়লেও একই সময়ে কফি ও চিনির বাজারে উল্টো চিত্র দেখা

গেছে। গত বৃহস্পতিবার লন্ডনের বাজারে কোকোর মূল্য ৩ দশমিক ৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে

প্রতি টন ৩ হাজার ৮৭৭ পাউন্ডে কেনাবেচা হয় এবং লেনদেনের এক পর্যায়ে তা ৩ হাজার ৯৫৪

পাউন্ডে উন্নীত হয়। বিশ্বের শীর্ষ কোকো উৎপাদনকারী দেশ আইভরি কোস্ট ও ঘানায় মূল ফসল

আহরণে বিলম্বের পূর্বাভাস এবং এল নিনোর উদ্বেগ এই মূল্যবৃদ্ধির প্রধান কারণ হিসেবে

চিহ্নিত হয়েছে। পাশাপাশি আইভরি কোস্টের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আগামী মৌসুমের আগাম কোকো

বিক্রি স্থগিত রাখায় বাজারে এক ধরনের কৃত্রিম সরবরাহ সংকট তৈরি হয়েছে, যা দামকে আরও

উসকে দিয়েছে।

লন্ডনের পাশাপাশি নিউইয়র্কের বাজারেও কোকোর দর ৩ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে প্রতি টন ৫

হাজার ১৫১ ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা দিনের শুরুতে সর্বোচ্চ ৫ হাজার ২৬০ ডলারে উঠেছিল।

তবে এই বাজার পরিস্থিতির স্থায়িত্ব নিয়ে ডাচ বহুজাতিক ব্যাংক রাবোব্যাংক কিছুটা

ভিন্ন মত পোষণ করেছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, আবহাওয়ার ঝুঁকির কারণে সাময়িকভাবে দাম

বাড়লেও ২০২৬-২৭ মৌসুমে কোকোর উদ্বৃত্ত উৎপাদন হতে পারে। ফলে বর্তমানের এ বাড়তি

দামকে তারা কিছুটা ‘অতিরিক্ত বা অতিরঞ্জিত’ বলে মনে করছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে,

স্টোনেক্সের তথ্য অনুযায়ী ফসল তোলার ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা না কাটলে সরবরাহ ব্যবস্থার

ওপর এই চাপ আরও কিছুদিন বজায় থাকতে পারে।

অন্যদিকে কোকোর বাজারে চাঙ্গাভাব থাকলেও আন্তর্জাতিক বাজারে অ্যারাবিকা কফির মূল্যে

বড় পতন লক্ষ্য করা গেছে। এক দিন আগেই ছয় সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ দরে পৌঁছানো কফির

মূল্য বৃহস্পতিবার ১ দশমিক ৯ শতাংশ কমে প্রতি পাউন্ড ২ হাজার ৭১৯ ডলারে নেমে আসে।

মূলত বিশ্বের শীর্ষ কফি উৎপাদনকারী দেশ ব্রাজিলে এল নিনোর প্রভাবে অতিরিক্ত

বৃষ্টিপাত হওয়ায় কফির গুণগত মান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং ফসল সংগ্রহের স্বাভাবিক

কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। দেশটির শীর্ষ কফি সমবায় সংস্থা কোওক্সুপে জানিয়েছে, গত

বছরের এই সময়ে যেখানে ২৪ দশমিক ৩ শতাংশ কফি সংগৃহীত হয়েছিল, সেখানে চলতি বছরের

জুনের মাঝামাঝি পর্যন্ত মাত্র ২০ দশমিক ১ শতাংশ কফি তোলা সম্ভব হয়েছে। বৈশ্বিক

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে আন্তর্জাতিক কৃষিপণ্য বাজারের অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তা

বর্তমানে চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে।

Staff Reporter
ADMINISTRATOR
PROFILE

Posts Carousel

Latest Posts

Top Authors

Most Commented

Featured Videos