ডেম্বেলের রেকর্ড গড়া হ্যাটট্রিকে নরওয়েকে বিধ্বস্ত করে গ্রুপ সেরা ফ্রান্স

ডেম্বেলের রেকর্ড গড়া হ্যাটট্রিকে নরওয়েকে বিধ্বস্ত করে গ্রুপ সেরা ফ্রান্স

বিশ্বকাপের ইতিহাসে অন্যতম দ্রুততম হ্যাটট্রিক করে নরওয়েকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে ফ্রান্স। ওসমানে ডেম্বেলের এই বিধ্বংসী পারফরম্যান্সের ওপর ভর করেই দাপটের সাথে গ্রুপ পর্ব শেষ করল ফরাসিরা। ম্যাচটি ঘিরে কিলিয়ান এমবাপ্পে ও আর্লিং হালান্ডের দ্বৈরথ নিয়ে ব্যাপক উত্তেজনা থাকলেও, নরওয়েজিয়ান কোচ স্টেল সোলবাকেন সবাইকে চমকে দিয়ে ম্যানচেস্টার সিটি তারকা হালান্ডকে বদলি বেঞ্চে রাখার সিদ্ধান্ত নেন।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে অন্যতম দ্রুততম হ্যাটট্রিক করে নরওয়েকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে

ফ্রান্স। ওসমানে ডেম্বেলের এই বিধ্বংসী পারফরম্যান্সের ওপর ভর করেই দাপটের সাথে

গ্রুপ পর্ব শেষ করল ফরাসিরা।

ম্যাচটি ঘিরে কিলিয়ান এমবাপ্পে ও আর্লিং হালান্ডের দ্বৈরথ নিয়ে ব্যাপক উত্তেজনা

থাকলেও, নরওয়েজিয়ান কোচ স্টেল সোলবাকেন সবাইকে চমকে দিয়ে ম্যানচেস্টার সিটি তারকা

হালান্ডকে বদলি বেঞ্চে রাখার সিদ্ধান্ত নেন।

জিলেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে সপ্তম মিনিটেই ফ্রান্সকে লিড এনে দেন পিএসজি

ফরোয়ার্ড ডেম্বেলে। ২০ মিনিটে তিনি ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। ঠিক পরের মিনিটেই থেলো

আসাগার্ডের গোলে নরওয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিলেও, ৩২ মিনিটের মাথায় নিজের

হ্যাটট্রিক পূর্ণ করে তাদের সেই আশা ধূলিসাৎ করে দেন ডেম্বেলে।

এর আগে ১৯৫৪ সালে চেকোস্লোভাকিয়ার বিপক্ষে অস্ট্রিয়ার হয়ে এরিচ প্রোবোস্ট

বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম ২৪ মিনিটের মধ্যে হ্যাটট্রিক করেছিলেন, যা দ্রুততম

হ্যাটট্রিকের রেকর্ড হিসেবে আজও অম্লান।

ইরাকের বিপক্ষে আগের ম্যাচেও গোলের দেখা পেয়েছিলেন ডেম্বেলে; ফলে টুর্নামেন্টে তার

বর্তমান গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪-এ। তার এমন আগুনে ফর্মের কারণে ফরাসি অধিনায়ক ও দলের

প্রাণভোমরা কিলিয়ান এমবাপ্পের ওপর থেকে প্রত্যাশার চাপ অনেকটাই লাঘব হয়েছে।

ম্যাচের শেষ দিকে ডিসায়ার ডুয়ে আরও একটি গোল করলে বড় জয় নিশ্চিত হয়। এই জয়ে তিন

ম্যাচে পূর্ণ ৯ পয়েন্ট নিয়ে ‘গ্রুপ-আই’ এর শীর্ষ দল হিসেবে পরের রাউন্ডে পা রাখল

ফ্রান্স। গ্রুপ পর্বে ফরাসিরা প্রতিপক্ষের জালে মোট ১০টি গোল উৎসব করেছে।

আগামী বৃহস্পতিবার নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ‘সেরা তৃতীয়’ হওয়া একটি দলের

বিপক্ষে শেষ ৩২-এর লড়াইয়ে মাঠে নামবে ফ্রান্স।

মাঠের পারফরম্যান্স উজ্জ্বল হলেও ‘লেস ব্লুজ’দের জন্য সময়টা মানসিকভাবে কঠিন ছিল।

মায়ের মৃত্যুজনিত কারণে প্রধান কোচ দিদিয়ের দেশ্যম ফ্রান্সে ফিরে যাওয়ায় দলের

ডাগ-আউটের দায়িত্ব সামলান সহকারী কোচ গাই স্টিফান। বিশ্বকাপ শেষে ১৪ বছরের দীর্ঘ

পথচলা শেষ করতে যাওয়া দেশ্যম শনিবার পুনরায় দলের সাথে যোগ দেবেন।

ম্যাচের ৫০ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করার সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করেন নরওয়ের জর্জেন

স্ট্র্যান্ড লারসেন। তবে হারলেও তিন ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় দল হিসেবে নক-আউট

পর্বে পৌঁছেছে নরওয়ে। আগের দুই ম্যাচে ইরাক ও সেনেগালকে হারানোয়, এই ম্যাচে

পরীক্ষা-নিরীক্ষার অংশ হিসেবে ১০টি পরিবর্তন এনে একাদশ সাজিয়েছিলেন নরওয়েজিয়ান কোচ।

দলের সেরা তারকা হালান্ড ছাড়াও অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ড ও স্ট্রাইকার আলেক্সান্দার

সোরলোথকে এদিন বিশ্রামে রাখা হয়। আগামী মঙ্গলবার ডালাসে শেষ ৩২-এর ম্যাচে আইভরি

কোস্টের মুখোমুখি হবে নরওয়ে।

ফ্রান্স একাদশে এদিন উইলিয়াম সালিবার পরিবর্তে সুযোগ পান ক্রিস্টাল প্যালেসের

ম্যাক্সেন্স ল্যাক্রোয়িক্স। এছাড়া দলে ফেরানো হয় ডুয়ে, থিও হার্নান্দেজ ও অরেলিয়েন

টিচুয়ামেনিকে।

ম্যাচটি এমবাপ্পের ক্যারিয়ারের ১০১তম আন্তর্জাতিক ম্যাচ হলেও, মাঠের সবটুকু আলো

কেড়ে নিয়েছেন হ্যাটট্রিকম্যান ডেম্বেলে।

ম্যাচের শুরুতেই ডেম্বেলেকে গোলের চমৎকার সুযোগ তৈরি করে দেন এমবাপ্পে। ডান প্রান্ত

থেকে চমৎকার ড্রিবলিংয়ে ভেতরে ঢুকে নরওয়ের গোলরক্ষক এগিল সেলভিককে বোকা বানিয়ে বল

জালে জড়ান তিনি।

পিএসজিতে কোচ লুইস এনরিকের অধীনে উইং ছেড়ে সেন্ট্রাল ফরোয়ার্ড হিসেবে খেলা শুরু

করার পর থেকেই যেন নতুনরূপে আবির্ভূত হয়েছেন ডেম্বেলে, যা তাকে ব্যালন ডি’অর জয়ের

যোগ্য দাবিদার করে তুলেছে।

এদিনও ডান প্রান্ত ব্যবহার করে নরওয়ের রক্ষণভাগে ত্রাস সৃষ্টি করেন তিনি। তার

দ্বিতীয় গোলটি আসে বাঁ পায়ের নিখুঁত ও বাঁকানো শটে, যা পোস্টের কোণা দিয়ে জালের

ঠিকানা খুঁজে নেয়।

হাইড্রেশন বিরতির ঠিক পরেই রেঞ্জার্সের খেলোয়াড় আসগার্ড একটি গোল শোধ করে ব্যবধান

কমান। ফরাসি রক্ষণের সাময়িক অসতর্কতাকে কাজে লাগিয়ে নিচু শটে গোলরক্ষক মাইক

মেইগনানকে পরাস্ত করেন তিনি।

তবে ৩২ মিনিটের মাথায় আবারও সেই বাঁ পায়ের ম্যাজিক দেখান ডেম্বেলে। প্রায় একই

ভঙ্গিতে নিচের কর্নারে বল পাঠিয়ে নিজের হ্যাটট্রিক সম্পন্ন করেন তিনি।

এই হ্যাটট্রিকের মাধ্যমে ফরাসি ফুটবলের কিংবদন্তিদের কাতারে নাম লেখালেন ডেম্বেলে।

ফ্রান্সের হয়ে এর আগে বিশ্বকাপে হ্যাটট্রিক করার কৃতিত্ব ছিল কেবল জাস্ট ফন্টেইন

(১৯৫৮) এবং এমবাপ্পের (২০২২)।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই পেনাল্টি পেয়েছিল নরওয়ে। অস্কার ববকে বক্সের ভেতর

হার্নান্দেজ ফাউল করলে রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজান। কিন্তু স্ট্র্যান্ড লারসেনের

দুর্বল স্পট-কিকটি দুর্দান্ত দক্ষতায় প্রতিহত করেন ফরাসি গোলরক্ষক মাইক মেইগনান।

সবশেষে ম্যাচের যোগ করা সময়ে হেডের মাধ্যমে ফ্রান্সের চতুর্থ গোলটি করে নরওয়ের

কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন ডিসায়ার ডুয়ে।

Staff Reporter
ADMINISTRATOR
PROFILE

Posts Carousel

Latest Posts

Top Authors

Most Commented

Featured Videos