ব্রিটেনে শিশু ধর্ষণের অভিযোগে বাংলাদেশির ১৫ বছর কারাদণ্ড

ব্রিটেনে শিশু ধর্ষণের অভিযোগে বাংলাদেশির ১৫ বছর কারাদণ্ড

ব্রিটেনে পোর্টসমাউথ ক্রাউন কোর্টে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এক যুবককে ১৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ২০ বছর বয়সি দণ্ডপ্রাপ্ত ওই যুবকের নাম তারেক মিয়া। তিনি ১২ বছর বয়সি প্রতিবন্ধী এক মেয়েশিশুকে ধর্ষণ ও ৯ বছর বয়সি আরেক শিশুকে অনলাইনে গ্রুমিং করার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। আদালত জানিয়েছেন, তারেক এখনো মেয়েশিশুদের জন্য ‘অত্যন্ত উচ্চঝুঁকি’ তৈরি করছেন। বৃহস্পতিবার (২৫

ব্রিটেনে পোর্টসমাউথ ক্রাউন কোর্টে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এক যুবককে ১৫ বছরের

কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ২০ বছর বয়সি দণ্ডপ্রাপ্ত ওই যুবকের নাম তারেক মিয়া। তিনি ১২

বছর বয়সি প্রতিবন্ধী এক মেয়েশিশুকে ধর্ষণ ও ৯ বছর বয়সি আরেক শিশুকে অনলাইনে গ্রুমিং

করার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। আদালত জানিয়েছেন, তারেক এখনো মেয়েশিশুদের জন্য

‘অত্যন্ত উচ্চঝুঁকি’ তৈরি করছেন।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) ডেইলি মেইল জানিয়েছে, তারেক মিয়া তিন বছর বয়সে বাংলাদেশ থেকে

যুক্তরাজ্যে গিয়েছিলেন। তিনি ওয়েস্ট সাসেক্সের ওয়ার্থিংয়ে বাস করতেন। ২০২৩ সালের

আগস্টে স্ন্যাপচ্যাট ও টিকটকের মাধ্যমে ১২ বছরের প্রতিবন্ধী মেয়েটির সঙ্গে তার

যোগাযোগ শুরু হয়। মেয়েটি নিজের বয়স জানালেও তারেক বারবার তাকে চাপ দিয়ে দেখা করতে

রাজি করান। তারেকের বয়স সে সময় ১৭ বছর ছিল।

প্রসিকিউশনের আইনজীবী স্টিভেন মলয় জানান, প্রথম দেখাতেই তারেক গাড়িতে করে মেয়েটিকে

এক বন্ধুর বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে ঘরের দরজা বন্ধ করে তাকে নির্যাতন করেন। বাড়িটির

ভেতরে, গাড়ির পেছনে ও অন্যান্য স্থানে মেয়েটিকে তিনি একাধিকবার ধর্ষণ করেন। ওই সময়ে

তারেক কোনো সুরক্ষাসামগ্রীও ব্যবহার করেননি। অন্যদিকে মেয়েটির কোনো যৌন অভিজ্ঞতা

ছিল না। ঘটনার পর সে অসুস্থ হয়ে পড়ে।

আদালতে ভুক্তভোগী বলেন, ‘আমার জীবন পুরোপুরি বদলে গেছে। স্কুলে থাকা অবস্থায় হঠাৎ

ওই ঘটনা মনে পড়ে যায়। স্কুলে যেতে ভয় লাগে। ছয় মাস ধরে মায়ের সঙ্গে ঘুমাতে হয়েছে।

দরজায় মাথা ঠেকিয়ে মেঝেতে শুয়েছি। আমি এখনো সেই ভয় কাটিয়ে উঠতে পারিনি। এটা আমার

শৈশব, শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ নষ্ট করে দিয়েছে।’

মেয়েটির মা বলেন, ‘আমার মেয়ের মানসিক ক্ষতি হয়েছে। সে এখন ভুল জিনিস দেখে ও শোনে।

আগের চেয়ে অনেক বেশি অন্তর্মুখী হয়ে গেছে।’ প্রবেশন রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে,

তারেকের সাংস্কৃতিক পটভূমি মেয়েশিশুদের প্রতি তার মনোভাবকে প্রভাবিত করতে পারে।

২০২৪ সালের মে মাসে তারেক দ্বিতীয় ভুক্তভোগীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন—যার বয়স ছিল তখন

মাত্র ৯ বছর। তারেক ওই শিশুকে নিজের হস্তমৈথুনের ভিডিও পাঠান এবং ওই শিশুকেও

যৌনকাজের ভিডিও পাঠাতে বাধ্য করেন। এই ঘটনার পর মেয়েটি খুব ‘উদ্বিগ্ন’ বোধ করতে

শুরু করে।

দ্বিতীয় ভুক্তভোগীর বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমি নাচের ক্লাস ছেড়ে দিয়েছি। স্কুলে মন বসে

না। মায়ের কাছে থাকতে চাই। তিনি আমার ইমোশনাল পার্টনার।’ তার মা বলেন, ‘ঘটনার পর

খুব ছোট বয়সেই আমাদের মেয়েকে যৌনতা সম্পর্কে ব্যাখ্যা করতে হয়েছে।’

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তারেক ঘটনাগুলোকে ‘সিলি মিসটেক’ ও ‘বয়সের দোষ’ বলে অস্বীকার

করার চেষ্টা করেন। কিন্তু জামিনে থাকার সময়ও তিনি অন্য শিশুদের সঙ্গে যোগাযোগের

চেষ্টা করেন। তার ডিভাইসে শিশু পর্নোগ্রাফিসংক্রান্ত উপাদানও পাওয়া গেছে।

Staff Reporter
ADMINISTRATOR
PROFILE

Posts Carousel

Latest Posts

Top Authors

Most Commented

Featured Videos