যুদ্ধ অবসানের চুক্তিটি যুক্তরাষ্ট্রের পরাজয়ের ঘোষণা: ইরান

যুদ্ধ অবসানের চুক্তিটি যুক্তরাষ্ট্রের পরাজয়ের ঘোষণা: ইরান

ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ অবসানের যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে সেটিকে ‌‌‘যুক্তরাষ্ট্রের পরাজয়ের ঘোষণা’ বলে অভিহিত করেছে ইরান। ইরানের চুক্তির আলোচক দলের প্রধান মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ ওই মন্তব্য করেছেন। বুধবার ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় চূড়ান্ত হওয়া চুক্তির বিষয়বস্তুর দিকে ইঙ্গিত করে গালিবাফ বলেন, ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা

ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ অবসানের যে চুক্তি

স্বাক্ষরিত হয়েছে সেটিকে ‌‌‘যুক্তরাষ্ট্রের পরাজয়ের ঘোষণা’ বলে অভিহিত করেছে ইরান।

ইরানের চুক্তির আলোচক দলের প্রধান মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ ওই মন্তব্য করেছেন।

বুধবার ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় চূড়ান্ত হওয়া চুক্তির বিষয়বস্তুর দিকে ইঙ্গিত করে

গালিবাফ বলেন, ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা কোনো চাপ বা জবরদস্তির ফল ছিল না, বরং এটি সাহসী

ইরানি জাতির প্রতিরোধ ও কর্তৃত্বের ফল।

তিনি বলেন, ‘আর এই কারণেই ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক আমেরিকার পরাজয়ের ঘোষণায় পরিণত

হয়েছে।’ মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা অবশ্যই ওই অঞ্চলের দেশগুলোকেই নিশ্চিত করতে হবে

বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করা গালিবাফ বলেন, ‘আমরা এই

অঞ্চল থেকে বিদেশি সামরিক বাহিনীর প্রত্যাহারকে একটি কৌশলগত লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা

করি। কারণ তারা কেবল টেকসই নিরাপত্তা তৈরিতেই ব্যর্থ নয়, বরং অস্থিতিশীলতারও উৎস।’

বুধবার আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে অনুষ্ঠিত এক সম্মেলনে দেওয়া বক্তৃতায় এসব

মন্তব্য করে বাঘের গালিবাফ। ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনে তার এই বক্তৃতা সরাসরি

সম্প্রচার করা হয়।

মধ্যপ্রাচ্যের প্রায় সব দেশেই সামরিক ঘাঁটি রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের। মার্কিন ও

ইসরায়েলি বাহিনীর ইরান বোমা হামলার প্রতিশোধ হিসেবে যুদ্ধের সময় এসব ঘাঁটি

পরিচালনাকারী দেশগুলো ইরানি হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছিল।

গালিবাফ বলেন, ‘আমরা এই অঞ্চলের ভবিষ্যৎকে দ্বন্দ্বে নয়, বরং মিথস্ক্রিয়ায় এবং

নির্মূলে নয়, বরং সহাবস্থানের মাধ্যমে দেখি।’ তিনি বলেন, ‘ওয়াশিংটনের সঙ্গে একটি

চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য লেবাননে শান্তি প্রতিষ্ঠা ছিল অন্যতম মূল শর্ত।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের কাছে লেবাননে যুদ্ধবিরতি ইরানের যুদ্ধবিরতির মতোই গুরুত্বপূর্ণ

ছিল এবং আছে। লেবাননে যুদ্ধের অবসান ইরানের যুদ্ধের অবসানের মতোই গুরুত্বপূর্ণ।’

‘ক্ষেপণাস্ত্র না থাকলে ইরানের পরিণতিও গাজার মতো হতো’

আমাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র না থাকলে ইরানকে গাজার মতো ধ্বংসস্তূপে পরিণত করত

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার গুরুত্ব তুলে ধরে এমন মন্তব্য

করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। গাজায় চলমান নির্মমতার কথা উল্লেখ করে

তিনি বলেন, ‘সামরিক শক্তি না থাকলে শত্রুরা ইরানের শিশু কিংবা বৃদ্ধ, কাউকেই রেহাই

দিত না।’

বুধবার সংবাদমাধ্যম আল-আরাবিয়া এক প্রতিবেদনে পাকিস্তান সফরকালে পেজেশকিয়ান এসব

কথা বলেন। তিনি আরও স্পষ্ট করে বলেন, ‘ইরানের আত্মরক্ষার সক্ষমতা নিয়ে আমরা কখনো

কোনো আপস করব না।’

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের আমন্ত্রণে সরকারি সফরে গত মঙ্গলবার

ইসলামাবাদে পৌঁছান ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।

রাওয়ালপিন্ডির নূর খান বিমানবন্দরে পৌঁছালে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানকে স্বাগত

জানান পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি, প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ,

উপপ্রধানমন্ত্রী ইসহাক দার, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি, পিপিপি চেয়ারম্যান

বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি, ইসলামাবাদে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত রেজা আমীরি

মোগাদ্দামসহ অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা।

এ ছাড়া পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিও ওমান থেকে এসে প্রেসিডেন্টকে স্বাগত জানান।

পেজেশকিয়ানের মতে, ক্ষেপণাস্ত্র ইরানের প্রধান প্রতিরক্ষা শক্তি। এটি না থাকলে

দেশটির অবস্থা গাজার চেয়েও খারাপ হতে পারত। তাই এই কর্মসূচি নিয়ে কোনো ধরনের আপস বা

ছাড় দেওয়া হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন তিনি।

Staff Reporter
ADMINISTRATOR
PROFILE

Posts Carousel

Latest Posts

Top Authors

Most Commented

Featured Videos