২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবলের আসর শুরু হতে মাত্র কয়েক দিন বাকি, ঠিক সেই মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরিতে ইংল্যান্ড জাতীয় দলের জন্য নির্ধারিত বেস ক্যাম্পের কাছে এক ভয়াবহ গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। শনিবার ভোররাতে কানসাস সিটির ট্রুস্ট অ্যাভিনিউ এলাকায় এই বন্দুক হামলায় অন্তত নয়জন আহত হয়েছেন। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ক্রীড়াঙ্গনে বড় ধরনের উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে এবং টুর্নামেন্ট চলাকালীন অংশগ্রহণকারী
২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবলের আসর শুরু হতে মাত্র কয়েক দিন বাকি, ঠিক সেই মুহূর্তে
যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরিতে ইংল্যান্ড জাতীয় দলের জন্য নির্ধারিত বেস ক্যাম্পের কাছে
এক ভয়াবহ গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। শনিবার ভোররাতে কানসাস সিটির ট্রুস্ট অ্যাভিনিউ
এলাকায় এই বন্দুক হামলায় অন্তত নয়জন আহত হয়েছেন। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি
ক্রীড়াঙ্গনে বড় ধরনের উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে এবং টুর্নামেন্ট চলাকালীন অংশগ্রহণকারী
দলগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
কানসাস সিটি পুলিশ বিভাগ জানিয়েছে, শনিবার ভোর চারটার দিকে তারা গোলাগুলির খবর পেয়ে
দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। আহতদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা বিবেচনায় তাদের তাৎক্ষণিকভাবে
নিকটস্থ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে পুলিশ নিশ্চিত করেছে
যে, বর্তমানে আহতদের সবাই আশঙ্কামুক্ত রয়েছেন। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো
সুনির্দিষ্ট অপরাধীকে শনাক্ত বা আটক করা সম্ভব হয়নি, যদিও তদন্তকারী কর্মকর্তারা
প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে আক্রমণকারীদের খুঁজে বের
করতে অভিযান অব্যাহত রেখেছেন।
এই সহিংসতাটি ইংল্যান্ড ফুটবল দলের মূল ঘাঁটি ‘সোয়াপ সকার ভিলেজ’ থেকে মাত্র চার
মাইল দূরত্বে ঘটেছে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, হ্যারি কেইনদের দল এখনও কানসাস সিটিতে
তাদের নির্ধারিত বেস ক্যাম্পে এসে পৌঁছায়নি। বর্তমানে ইংল্যান্ড দল ফ্লোরিডার
অরল্যান্ডোতে অবস্থান করছে, যেখানে আগামী বুধবার কোস্টারিকার বিপক্ষে তাদের একটি
প্রীতি ম্যাচ খেলার কথা রয়েছে। বিশ্বকাপ শুরুর আগমুহূর্তে এমন উত্তপ্ত পরিস্থিতির
সৃষ্টি হলেও ইংল্যান্ড ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এফএ) নিরাপত্তার বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক
মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রে বন্দুক সহিংসতার ক্রমবর্ধমান ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে বৈশ্বিক উদ্বেগের
অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ‘গান ভায়োলেন্স আর্কাইভ’-এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কেবল
২০২৫ সালেই দেশটিতে ৪০০টিরও বেশি বড় ধরনের গোলাগুলির ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।
বিশ্বকাপের মতো বড় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের সময় লাখ লাখ বিদেশি পর্যটক ও শত শত
খেলোয়াড়ের সুরক্ষা নিশ্চিত করা মার্কিন প্রশাসনের জন্য এখন বড় চ্যালেঞ্জ। কানসাস
সিটির এই সাম্প্রতিক হামলা সেই নিরাপত্তা ঝুঁকিকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।
আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই ইংল্যান্ড দলের খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফদের এই এলাকায়
পৌঁছানোর কথা রয়েছে। আয়োজক দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ফুটবল দলের নিরাপত্তা নিশ্চিতে
সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থান নেবে বলে ফিফা এবং স্থানীয় প্রশাসন পূর্বেই আশ্বস্ত করেছিল।
তবুও খোদ বেস ক্যাম্পের নিকটবর্তী স্থানে এমন সশস্ত্র হামলা খেলোয়াড়দের মানসিকতায়
নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বর্তমানে কানসাস সিটি কর্তৃপক্ষ
সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে টহল বাড়িয়েছে এবং টুর্নামেন্ট চলাকালীন নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা
বলয় তৈরির নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ করছে।











