পল্লিকবি জসীমউদ্দীনের কালজয়ী লোকসংগীত ‘আমায় ভাসাইলি রে’ নতুন আঙ্গিকে গাইলেন বিশিষ্ট অভিনেতা ও সংগীতশিল্পী ফজলুর রহমান বাবু। মোহাম্মদ নূরুজ্জামান পরিচালিত ‘মাস্তুল’ চলচ্চিত্রের প্রমোশনাল গান হিসেবে এটি ব্যবহৃত হচ্ছে। গানটির নতুন করে সংগীতায়োজন করেছেন লাবিক কামাল গৌরব। আধুনিক বাদ্যযন্ত্র ও বাবু’র দরদী কণ্ঠের সংমিশ্রণে গানটি সিনেমার প্রচারণায় এক ভিন্ন মাত্রা যোগ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
পল্লিকবি জসীমউদ্দীনের কালজয়ী লোকসংগীত ‘আমায় ভাসাইলি রে’ নতুন আঙ্গিকে গাইলেন
বিশিষ্ট অভিনেতা ও সংগীতশিল্পী ফজলুর রহমান বাবু। মোহাম্মদ নূরুজ্জামান পরিচালিত
‘মাস্তুল’ চলচ্চিত্রের প্রমোশনাল গান হিসেবে এটি ব্যবহৃত হচ্ছে। গানটির নতুন করে
সংগীতায়োজন করেছেন লাবিক কামাল গৌরব। আধুনিক বাদ্যযন্ত্র ও বাবু’র দরদী কণ্ঠের
সংমিশ্রণে গানটি সিনেমার প্রচারণায় এক ভিন্ন মাত্রা যোগ করবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই
গানটি প্রকাশের মাধ্যমেই চলতি মাসের মাঝামাঝি সময়ে ছবিটির আনুষ্ঠানিক প্রচার
কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে।
‘মাস্তুল’ সিনেমাটির মূল উপজীব্য হলো নদী ও সাগরে ভাসমান জাহাজিদের বৈচিত্র্যময়
জীবন। মূলত পানির ওপর ভেসে থাকা মানুষের যাপিত জীবন ও তাঁদের বিচ্ছিন্ন বাস্তবতাকে
কেন্দ্র করেই এই চলচ্চিত্রের গল্প আবর্তিত হয়েছে। নির্মাতা মোহাম্মদ নূরুজ্জামান
জানান, সিনেমার ভাবনার সাথে মিল রেখে তাঁরা একটি শক্তিশালী নদীকেন্দ্রিক গান
ব্যবহারের পরিকল্পনা করেছিলেন। দীর্ঘ পর্যালোচনার পর তাঁরা কালজয়ী এই ফোক গানটিকেই
প্রচারের মোক্ষম মাধ্যম হিসেবে বেছে নেন, কারণ এটি বাংলার জনজীবনের এক অবিচ্ছেদ্য
সুর।
সিনেমার প্রচারণায় কেন ফজলুর রহমান বাবুকে বেছে নেওয়া হলো, তার ব্যাখ্যায় নির্মাতা
জানান যে বাবুর কণ্ঠে এক ধরনের সহজাত মায়া ও মাটির টান রয়েছে। এর আগেও তাঁর গাওয়া
বহু ফোক গান সাধারণ শ্রোতাদের মাঝে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। পরিচালক বলেন, গানটি
চূড়ান্ত করার পর ফজলুর রহমান বাবুর কণ্ঠের কথা সবার আগে মাথায় এসেছিল। তিনি কেবল এই
গানে কণ্ঠই দেননি, বরং ছবিটিতে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয়ও করেছেন।
তাঁর অভিনয় ও সংগীতের এই মেলবন্ধন সিনেমাটিকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।
‘মাস্তুল’ সিনেমায় ফজলুর রহমান বাবু ছাড়াও আরও অভিনয় করেছেন দীপক সুমন, আমিনুর
রহমান মুকুল, আরিফ হাসান এবং সিফাত বন্যার মতো দক্ষ শিল্পীরা। চলচ্চিত্রটি গত বছর
মস্কো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হয়ে আন্তর্জাতিক সমালোচকদের ব্যাপক
প্রশংসা কুড়িয়েছে। উৎসবে সফলতার পর এটি বাংলাদেশে সেন্সর ছাড়পত্র পায়। বর্তমানে
সিনেমাটি মুক্তির সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করে বড় পর্দার অপেক্ষায় রয়েছে। এই
আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি সিনেমাটির গুণগত মান সম্পর্কে ইতিবাচক ইঙ্গিত দেয়।
চলতি মাসের মাঝামাঝি সময়ে গানটি প্রকাশের মাধ্যমে দর্শকদের মাঝে সিনেমাটি নিয়ে
কৌতূহল তৈরির চেষ্টা করবে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ১৭ জুলাই
দেশের প্রেক্ষাগৃহগুলোতে মুক্তি পাবে চলচ্চিত্রটি। নির্মাতাদের প্রত্যাশা,
শেকড়সন্ধানী এই গান এবং বাস্তবধর্মী জীবনঘনিষ্ঠ গল্প দর্শকদের মনে বিশেষ জায়গা করে
নেবে। বিশেষ করে ফজলুর রহমান বাবুর গাওয়া গানটি সিনেমার প্রতি সাধারণ মানুষের আগ্রহ
বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।











