ইরানে আবারও মার্কিন বিমান হামলা

ইরানে আবারও মার্কিন বিমান হামলা

ইরানের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী বন্দর আব্বাসের একটি সামরিক স্থাপনায় আবারও শক্তিশালী বিমান হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। বুধবার মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এই অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছে, তাদের মূল লক্ষ্য ছিল একটি স্থল নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র। সেন্টকমের দাবি অনুযায়ী, ওই কেন্দ্রটি থেকে একটি ড্রোন উৎক্ষেপণের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল, যা প্রতিহত করতেই এই সামরিক

ইরানের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী বন্দর আব্বাসের একটি সামরিক

স্থাপনায় আবারও শক্তিশালী বিমান হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। বুধবার

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এই অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছে,

তাদের মূল লক্ষ্য ছিল একটি স্থল নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র। সেন্টকমের দাবি অনুযায়ী, ওই

কেন্দ্রটি থেকে একটি ড্রোন উৎক্ষেপণের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল, যা প্রতিহত

করতেই এই সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। এই হামলার ফলে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমায়

দুই দেশের সামরিক উত্তেজনা নতুন করে বৃদ্ধি পেয়েছে।

সেন্টকমের বিস্তারিত বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, বন্দর আব্বাসের ওই কেন্দ্র থেকে পঞ্চম

ড্রোনটি উৎক্ষেপণের প্রস্তুতির সময় হামলাটি চালানো হয়। এর আগে হরমুজ প্রণালির

আশেপাশে টহলরত মার্কিন বাহিনীর জন্য হুমকি হয়ে ওঠা আরও চারটি ইরানি ড্রোন ভূপাতিত

করার দাবি করেছে তারা। অন্যদিকে, ইরানের স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো বন্দর আব্বাসের

পূর্বাঞ্চলে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনার কথা নিশ্চিত করেছে, যা ওই এলাকায় ব্যাপক

আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। তবে এই হামলায় কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি বা প্রাণহানি হয়েছে, সে

বিষয়ে তেহরানের পক্ষ থেকে এখনো বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

উল্লেখ্য, এটি গত তিন দিনের মধ্যে ইরানি ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় দফার বড়

ধরনের হামলা। এর আগে গত মঙ্গলবারও দক্ষিণ ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা

চালিয়েছিল মার্কিন বাহিনী। দীর্ঘ তিন মাস ধরে চলা সংঘাত নিরসনে যখন দুই দেশ একটি

কার্যকর যুদ্ধবিরতি ও স্থায়ী শান্তিচুক্তির জন্য আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে, ঠিক তখনই এই

ধরনের ধারাবাহিক সামরিক অভিযান কূটনৈতিক প্রক্রিয়াকে জটিল করে তুলছে। বিশ্লেষকদের

মতে, মাঠপর্যায়ের এই সংঘাত আলোচনার টেবিলে উভয় পক্ষের অবস্থানকে আরও অনমনীয় করে

তুলতে পারে।

এদিকে ওয়াশিংটনে বুধবার এক মন্ত্রিসভার বৈঠকে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে নিজের কঠোর

অবস্থান ব্যক্ত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন,

ইরান বর্তমানে সামরিক ও অর্থনৈতিকভাবে প্রায় নিঃশেষিত অবস্থায় রয়েছে এবং তারা

অনেকটা বাধ্য হয়েই আলোচনায় বসেছে। ট্রাম্প আরও স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, আগামী

নভেম্বরে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন তার বর্তমান যুদ্ধকৌশল বা

সামরিক সিদ্ধান্তে কোনো প্রভাব ফেলবে না। অর্থাৎ রাজনৈতিক চাপের মুখে তিনি ইরানের

ওপর থেকে সামরিক চাপ কমাতে রাজি নন।

বর্তমানে দোহায় দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে শান্তি আলোচনা চললেও মাঠপর্যায়ের

বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র তুলে ধরছে। একদিকে যুক্তরাষ্ট্র ‘আত্মরক্ষার’

অজুহাতে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে, অন্যদিকে ইরানও তাদের সামরিক সক্ষমতার জানান দিচ্ছে।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই সংঘাতের দ্রুত অবসান প্রত্যাশা করলেও ট্রাম্পের ‘বিগ ডিল’

বা বড় চুক্তির আকাঙ্ক্ষা এবং ইরানের সার্বভৌমত্বের লড়াই পরিস্থিতিকে এক অনিশ্চিত

গন্তব্যের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। সামনের দিনগুলোতে এই ধারাবাহিক হামলার প্রভাব শান্তি

আলোচনার ওপর কতটা পড়ে, সেদিকেই এখন নজর রাখছে বিশ্ববাসী।

Staff Reporter
ADMINISTRATOR
PROFILE

Posts Carousel

Latest Posts

Top Authors

Most Commented

Featured Videos