দেশে হাম পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। তবে শুধু বাংলাদেশেই নয়; ২০২৬ সালে বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশে নতুন করে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সতর্ক করে বলেছে, টিকাদানের হার কমে যাওয়ায় বিশ্বের কিছু অঞ্চলে আবার হাম রোগের পুনরুত্থান দেখা যাচ্ছে। বাংলাদেশে হামের প্রাদুর্ভাব সবচেয়ে প্রাণঘাতী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। এই সতর্কবার্তার মধ্যেই শনিবার (২৩
দেশে হাম পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। তবে শুধু বাংলাদেশেই নয়; ২০২৬ সালে
বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশে নতুন করে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য
সংস্থা সতর্ক করে বলেছে, টিকাদানের হার কমে যাওয়ায় বিশ্বের কিছু অঞ্চলে আবার হাম
রোগের পুনরুত্থান দেখা যাচ্ছে। বাংলাদেশে হামের প্রাদুর্ভাব সবচেয়ে প্রাণঘাতী
হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। এই সতর্কবার্তার মধ্যেই শনিবার (২৩ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তর
জানিয়েছে, দেশে হাম ও উপসর্গে আরও ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে হামের শুরু থেকে এ
পর্যন্ত ৭০ দিনে (১৫ মার্চ থেকে ২৩ মে) ৫১২ জনের মৃত্যু ঘটল; যা চলতি বছর বিশ্বে
হামে সর্বোচ্চ মৃত্যুর ঘটনা।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত একদিনে (শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল
৮টা) সারা দেশে আরও ১ হাজার ৯৬৭ শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। হাম শনাক্ত
হয়ে বরিশালে ১টি শিশু মারা গেছে। আর হামের উপসর্গে ঢাকায় ৪, চট্টগ্রামে ২, সিলেটে
৪, বরিশালে ১ ও ময়মনসিংহে ১ শিশু মারা গেছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে হামের উপসর্গে
দেশে ৪২৬ শিশুর মৃত্যুর তথ্য জানা গেছে। এ সময়ে হাম শনাক্তের পর মারা গেছে ৮৬ শিশু।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে হামের উপসর্গ দেখা
দিয়েছে ৬২ হাজার ৫০৭ শিশুর। এ সময় হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৪৯
হাজার ৩৮৯ শিশু। তবে এর মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ৪৫ হাজার ১১ শিশু বাড়ি
ফিরেছে।
প্রসঙ্গত, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালে ভারত, পাকিস্তান,
ইয়েমেন, মেক্সিকো, অ্যাঙ্গোলা, কাজাখস্তান, ইন্দোনেশিয়া, সুদান ও ক্যামেরুনসহ বহু
দেশে নতুন করে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র-কানাডার মতো উন্নত
দেশগুলোতেও হাম ফিরে আসার তথ্য পাওয়া গেছে। তবে মৃত্যুর সংখ্যার আধিক্যের কারণে
গুরুতর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বাংলাদেশকে ঘিরে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুসারে, দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৫৮টিতেই সংক্রমণ ছড়িয়েছে।
পরীক্ষাগারে একদিকে নিশ্চিত রোগী শনাক্ত হচ্ছে, অন্যদিকে উপসর্গ নিয়ে ভুগছে অনেক
শিশু। বিশেষ করে পাঁচ বছরের কম বয়সি শিশুদের মধ্যে আক্রান্তের হার সবচেয়ে বেশি।
আক্রান্তের তুলনায় বাংলাদেশে মৃত্যুহার বেশি হওয়ার পেছনে একাধিক কারণ কাজ করছে বলে
মনে করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। দেশে হামে এখন মৃত্যুহার দশমিক ৯৮ শতাংশ।
মৃত্যুহার বেশি হওয়ার কারণের মধ্যে রয়েছে নিয়মিত টিকাদানে ঘাটতি, দীর্ঘদিন এমআর
(হাম-রুবেলা) ক্যাম্পেইন বন্ধ থাকা, শিশুদের অপুষ্টি, দেরিতে হাসপাতালে আসা এবং
দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মধ্যে স্বাস্থ্যসেবার সীমিত সুযোগ। বিশেষ করে পাঁচ বছরের কম বয়সি
অপুষ্ট শিশুরা হামের জটিলতায় দ্রুত নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, শ্বাসকষ্ট ও মস্তিষ্কের
প্রদাহে আক্রান্ত হচ্ছে। বিগত কয়েক বছরে অনেক এলাকায় নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রম
দুর্বল হয়ে পড়েছিল। আবার কোথাও মাঠপর্যায়ে স্বাস্থ্যকর্মীর সংকট রয়েছে। অত্যন্ত
সংক্রামক হওয়ায় হাম দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আক্রান্তের
সংখ্যা তুলনামূলক কম হলেও জটিলতা ও মৃত্যুহার বেশি হওয়ায় বাংলাদেশ এখন হাম সংক্রমণে
বৈশ্বিক উদ্বেগের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।











