বিশ্ববাজারে কমলো জ্বালানি তেলের দাম

বিশ্ববাজারে কমলো জ্বালানি তেলের দাম

মধ্যপ্রাচ্যের অনিশ্চিত ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আসন্ন বেইজিং সফরকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। টানা তিন দিন ঊর্ধ্বমুখী থাকার পর বুধবার তেলের দরপতন লক্ষ্য করা যায়। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স সূত্রে জানা গেছে যে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি ১ দশমিক ৪ শতাংশ কমে ১০৬ দশমিক

মধ্যপ্রাচ্যের অনিশ্চিত ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড

ট্রাম্পের আসন্ন বেইজিং সফরকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামে

নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। টানা তিন দিন ঊর্ধ্বমুখী থাকার পর বুধবার তেলের দরপতন

লক্ষ্য করা যায়। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স সূত্রে জানা গেছে যে ব্রেন্ট

ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি ১ দশমিক ৪ শতাংশ কমে ১০৬ দশমিক ৩০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। একই

সাথে মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দামও সমহারে হ্রাস

পেয়ে ১০০ দশমিক ৭৭ ডলারে নেমে এসেছে।

ফেব্রুয়ারির শেষভাগ থেকে শুরু হওয়া ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালি

অবরুদ্ধ থাকার কারণে তেলের বাজার দীর্ঘদিন ধরেই ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলারের ওপরে

অবস্থান করছে। ফিলিপ নোভার জ্যেষ্ঠ বাজার বিশ্লেষক প্রিয়াঙ্কা সাচদেভা এই পরিস্থিতি

সম্পর্কে বলেন, ‘সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা এবং মধ্যপ্রাচ্য ঘিরে অনিশ্চয়তা তেলের

দামকে সমর্থন দিচ্ছে। তবে বাজার এখনো স্পষ্ট দিকনির্দেশনা খুঁজে পাচ্ছে না।’ তিনি

সতর্ক করে জানান যে সরবরাহ ব্যবস্থায় সামান্য কোনো নতুন হুমকি তৈরি হলেই তেলের দামে

আবারও শক্তিশালী ঊর্ধ্বগতি ফিরে আসতে পারে।

মঙ্গলবার তেলের দাম প্রায় ৩ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছিল, যার মূলে ছিল স্থায়ী

শান্তিচুক্তির সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে আসা এবং হরমুজ প্রণালি চালুর বিষয়ে ক্রমবর্ধমান

অনিশ্চয়তা। বিশ্বের মোট তেল ও এলএনজি সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ

দিয়ে সম্পন্ন হয়। এর মধ্যেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বেইজিং সফরে যাচ্ছেন, যেখানে ইরানি

তেলের প্রধান ক্রেতা হিসেবে চীনের ভূমিকা নিয়ে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সাথে

গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হতে পারে। যদিও ট্রাম্প ইতিপূর্বে মন্তব্য করেছিলেন যে, ইরান

সংকট সমাধানে বেইজিংয়ের সহায়তা তাঁর প্রয়োজন হবে না।

ইউরেশিয়া গ্রুপের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ১ বিলিয়ন ব্যারেলেরও বেশি সরবরাহ ঘাটতির কারণে

চলতি বছরজুড়ে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ৮০ ডলারের ওপরেই থাকার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে জ্বালানির উচ্চমূল্যের প্রভাবে মার্কিন অর্থনীতিতে ভোক্তা ব্যয় এবং

মূল্যস্ফীতি উভয়ই বৃদ্ধি পেয়েছে, যা গত তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর

ইঙ্গিত দিচ্ছে। এর ফলে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার কমানোর পরিবর্তে তা

অপরিবর্তিত রাখার পথে হাঁটতে পারে বলে বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। ক্যাপিটাল

ইকোনমিকস এক নোটে জানিয়েছে যে, উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও সুদের হার ভবিষ্যতে তেলের

চাহিদাকে সংকুচিত করে দিতে পারে। অন্যদিকে আমেরিকান পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউটের

তথ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেল ও অন্যান্য পরিশোধিত জ্বালানির মজুত ক্রমাগত

হ্রাস পাচ্ছে, যা বাজারের অস্থিরতাকে আরও বাড়িয়ে তুলছে।

Staff Reporter
ADMINISTRATOR
PROFILE

Posts Carousel

Latest Posts

Top Authors

Most Commented

Featured Videos