দীর্ঘ দেড় দশকের বিরতি কাটিয়ে আবারও রূপালী পর্দায় ফিরছে সি এস লিউইসের কালজয়ী উপন্যাস সিরিজ ‘দ্য ক্রনিকলস অব নার্নিয়া’। তবে এবার শুধু ওটিটি প্ল্যাটফর্মে নয়, বরং দর্শকদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে বড় আয়োজনে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে যাচ্ছে ফ্র্যাঞ্চাইজিটির চতুর্থ সিনেমা। ২০০৫ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে মুক্তি পাওয়া আগের তিনটি পর্ব বিশ্বজুড়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পাওয়ার পর
দীর্ঘ দেড় দশকের বিরতি কাটিয়ে আবারও রূপালী পর্দায় ফিরছে সি এস লিউইসের কালজয়ী
উপন্যাস সিরিজ ‘দ্য ক্রনিকলস অব নার্নিয়া’। তবে এবার শুধু ওটিটি প্ল্যাটফর্মে নয়,
বরং দর্শকদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে বড় আয়োজনে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে
যাচ্ছে ফ্র্যাঞ্চাইজিটির চতুর্থ সিনেমা। ২০০৫ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে মুক্তি পাওয়া
আগের তিনটি পর্ব বিশ্বজুড়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পাওয়ার পর এই নতুন কিস্তি নিয়ে
চলচ্চিত্র মহলে ব্যাপক উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। শুরুতে সিনেমাটি সরাসরি স্ট্রিমিং সাইট
নেটফ্লিক্সে আসার কথা থাকলেও, এর বিশাল ক্যানভাস আর শৈল্পিক মান বিবেচনা করে
নির্মাতারা এখন বিশ্বজুড়ে বড় পর্দায় মুক্তির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
নার্নিয়া সিরিজের এই নতুন কিস্তিটি মূলত উপন্যাসের ষষ্ঠ খণ্ড ‘দ্য ম্যাজিশিয়ানস
নেফিউ’-এর গল্পের ওপর ভিত্তি করে নির্মিত হচ্ছে। সিনেমাটি পরিচালনার দায়িত্ব
পেয়েছেন ‘বার্বি’ খ্যাত বর্তমান সময়ের অন্যতম সফল নির্মাতা গ্রেটা গারউইগ। ২০১৮
সালে নেটফ্লিক্স এই সিরিজের স্বত্ব কিনে নেওয়ার পর থেকেই অত্যন্ত গোপনীয়তা আর বিশাল
বাজেটে এর কাজ চালিয়ে আসছে। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানটি এই প্রজেক্টকে তাদের ইতিহাসের
অন্যতম ব্যয়বহুল এবং উচ্চাকাঙ্ক্ষী ফ্র্যাঞ্চাইজি হিসেবে দেখছে, যেখানে আধুনিক
প্রযুক্তির মাধ্যমে নার্নিয়ার সেই জাদুকরী জগতকে আগের চেয়ে আরও জীবন্ত করে তোলা
হবে।
চতুর্থ এই পর্বে অভিনয়শিল্পীদের তালিকায় যুক্ত হয়েছেন হলিউডের একঝাঁক মহাতারকা।
ব্রিটিশ অভিনেত্রী এমা ম্যাকি এবার দেখা দেবেন নার্নিয়ার প্রধান খলচরিত্র ‘সাদা
ডাইনি’ বা ‘হোয়াইট উইচ’ হিসেবে, যে চরিত্রে এর আগে টিল্ডা সুইন্টন অভিনয় করেছিলেন।
এ ছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে রয়েছেন ‘জেমস বন্ড’ খ্যাত ড্যানিয়েল ক্রেইগ, যিনি
অভিনয় করবেন প্রফেসর ডিগরি কির্কের ভূমিকায়। সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে কিংবদন্তি
অভিনেত্রী মেরিল স্ট্রিপ থাকছেন সিংহ ‘আসলান’-এর চরিত্রে এবং কেরি মালিগান যুক্ত
হয়েছেন মেবেল কার্কের ভূমিকায়। তারকাখচিত এই কাস্টিং সিনেমাটির প্রতি দর্শকদের
আগ্রহ কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
সিনেমার মূল কাহিনী মূলত নার্নিয়া রাজ্যের সৃষ্টি রহস্য আর জাদুর আদি আধিপত্যকে
ঘিরে আবর্তিত। উপন্যাসের প্রেক্ষাপট অনুযায়ী এটি একটি প্রিক্যুয়েল, যেখানে দেখানো
হবে কীভাবে এক জোড়া বালক-বালিকা জাদুকরী আংটির সাহায্যে ভিন্ন এক জগতে প্রবেশ করে
এবং শেষ পর্যন্ত নার্নিয়ার পত্তন ঘটে। সাদা ডাইনির উত্থান এবং নার্নিয়া রাজ্যকে
চিরশীতল বরফে ঢেকে দেওয়ার নেপথ্য কাহিনীও এই সিনেমায় নিপুণভাবে চিত্রায়িত হবে।
রূপকথার প্রাণীদের কথা বলা আর পৌরাণিক চরিত্রগুলোর বিচরণ এই পর্বেও দর্শকদের
জাদুকরী এক অভিজ্ঞতার স্বাদ দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ভ্যারাইটির তথ্য অনুযায়ী, নতুন পরিকল্পনা মাফিক ‘দ্য
ম্যাজিশিয়ানস নেফিউ’ প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে ২০২৭ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি। এর আগে
সিনেমাটি ২০২৬ সালের নভেম্বরে সরাসরি নেটফ্লিক্সে আসার কথা থাকলেও কারিগরি উৎকর্ষতা
আর বিশ্বব্যাপী বড় পরিসরে বিপণনের স্বার্থে মুক্তির সময়সূচিতে এই পরিবর্তন আনা
হয়েছে। তবে প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শনের প্রায় দুই মাস পর, অর্থাৎ ২০২৭ সালের ২ এপ্রিল
থেকে এটি নেটফ্লিক্সের গ্রাহকদের জন্য উন্মুক্ত করা হবে। বড় পর্দা আর ওটিটি—উভয়
মাধ্যমেই নার্নিয়ার এই রাজকীয় প্রত্যাবর্তন এখন টিনসেল টাউনের আলোচনার
কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।











