নির্দিষ্ট ‘লাল রেখা’ মানার শর্তে বৈঠকে বসতে রাজি তেহরান

নির্দিষ্ট ‘লাল রেখা’ মানার শর্তে বৈঠকে বসতে রাজি তেহরান

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সাময়িক যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে আবারও আলোচনার টেবিলে বসতে যাচ্ছে চিরবৈরী দুই দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, দ্বিতীয় দফার এই উচ্চপর্যায়ের সংলাপে অংশ নিতে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্সের নেতৃত্বে একটি শক্তিশালী প্রতিনিধি দল ইতিমধ্যে পাকিস্তানের পথে রয়েছে। দীর্ঘ টানাপোড়েন শেষে তেহরানও এই বৈঠকে বসতে নীতিগতভাবে

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সাময়িক যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে আবারও

আলোচনার টেবিলে বসতে যাচ্ছে চিরবৈরী দুই দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। আন্তর্জাতিক

সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, দ্বিতীয় দফার এই উচ্চপর্যায়ের সংলাপে অংশ

নিতে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্সের নেতৃত্বে একটি শক্তিশালী প্রতিনিধি

দল ইতিমধ্যে পাকিস্তানের পথে রয়েছে। দীর্ঘ টানাপোড়েন শেষে তেহরানও এই বৈঠকে বসতে

নীতিগতভাবে সম্মতি জানিয়েছে, তবে এর বিনিময়ে তারা মার্কিন প্রশাসনের সামনে কিছু

কঠোর শর্ত বা ‘লাল রেখা’ নির্ধারণ করে দিয়েছে।

ইরানের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে যে, তারা সংলাপে বিশ্বাসী হলেও যেকোনো

মূল্যে বা শর্তহীনভাবে মাথা নত করবে না। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এক

প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির প্রধান ইব্রাহিম

আজিজি ওয়াশিংটনকে কড়া বার্তা দিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, তেহরানের আলোচনায় বসার

সিদ্ধান্তের অর্থ এই নয় যে তারা অপর পক্ষের যেকোনো পদ্ধতি বা অযৌক্তিক দাবি মেনে

নেবে। ইরান তাঁর জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কিছু সুনির্দিষ্ট ‘লাল রেখা’

বা সীমা নির্ধারণ করেছে, যা মার্কিন পক্ষকে অবশ্যই সম্মানের সাথে মেনে নিতে হবে।

অন্যথায় এই সংলাপ ফলপ্রসূ হওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।

ইসলামাবাদে ইরানের প্রতিনিধি দল পাঠানোর বিষয়টি এখনো শতভাগ নিশ্চিত না হলেও,

ইব্রাহিম আজিজি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে সবকিছু নির্ভর করছে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে আসা

‘ইতিবাচক সংকেতের’ ওপর। তিনি বলেন, ইরান কখনোই আলোচনার নীতিকে ভয় পায় না, তবে

মার্কিন আলোচনাকারী দল এবং তাদের পক্ষ থেকে আসা বার্তা কতটা গঠনমূলক ও ইতিবাচক হয়,

তার ওপর ভিত্তি করেই আজ বা আগামীকালের মধ্যে প্রতিনিধি পাঠানোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত

নেওয়া হবে। তেহরান বর্তমানে পরিস্থিতির গভীর মূল্যায়ন করছে এবং একটি সম্মানজনক

সমাধানের পথ খুঁজছে।

এদিকে মার্কিন প্রতিনিধি দলের আগমনকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ

এবং পার্শ্ববর্তী শহর রাওয়ালপিন্ডিতে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা

হয়েছে। তুরস্কের সংবাদ সংস্থা আনাদোলু জানিয়েছে, প্রথম দফার বৈঠক যেখানে অনুষ্ঠিত

হয়েছিল, সেই অভিজাত পাঁচ তারকা হোটেলের আশপাশের সকল সংযোগ সড়ক সাময়িকভাবে বন্ধ করে

দেওয়া হয়েছে। পুরো এলাকায় এক ধরণের ‘লকডাউন’ পরিস্থিতি বজায় রাখছে পাকিস্তান সরকার।

এই কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং মার্কিন প্রতিনিধি দলের যাত্রা নিশ্চিত করায়

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দুই দেশের মধ্যে অত্যন্ত গোপনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ কোনো চুক্তি

স্বাক্ষরের সম্ভাবনা রয়েছে।

উল্লেখ্য যে, গত ১১ ও ১২ এপ্রিল ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত প্রথম দফার ২১ ঘণ্টার ম্যারাথন

আলোচনা কোনো সুনির্দিষ্ট চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়েছিল। সেই ব্যর্থতার রেশ কাটিয়ে

দ্বিতীয় দফায় এই বৈঠকটি মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত

গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে। বিশ্ব সম্প্রদায় এখন নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে

যে, জে ডি ভ্যান্সের এই সফর এবং ইরানের দেওয়া ‘লাল রেখা’র মধ্যকার ভারসাম্য বজায়

রেখে একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তি সম্ভব হয় কি না। এই সংলাপের সফলতার ওপরই নির্ভর

করছে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের অবসান নাকি নতুন করে সংঘাতের সূত্রপাত হবে।

Staff Reporter
ADMINISTRATOR
PROFILE

Posts Carousel

Latest Posts

Top Authors

Most Commented

Featured Videos