যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি দেশের স্বার্থের পরিপন্থি: আনু মুহাম্মদ

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি দেশের স্বার্থের পরিপন্থি: আনু মুহাম্মদ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত বাণিজ্যচুক্তি দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশের স্বার্থের পরিপন্থী। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, এই চুক্তির কারণে বাংলাদেশ দেশের রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের সঙ্গে সম্পর্কিত অন্যান্য দেশের সঙ্গে লাভজনক ও প্রয়োজনীয় সম্পর্ক স্থাপন করতে পারবে না। এটি কেবল একটি বাণিজ্য চুক্তি নয়; বরং দেশের অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীন নীতিনির্ধারণের ওপর সরাসরি

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত বাণিজ্যচুক্তি দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশের স্বার্থের পরিপন্থী। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, এই চুক্তির কারণে বাংলাদেশ দেশের রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের সঙ্গে সম্পর্কিত অন্যান্য দেশের সঙ্গে লাভজনক ও প্রয়োজনীয় সম্পর্ক স্থাপন করতে পারবে না। এটি কেবল একটি বাণিজ্য চুক্তি নয়; বরং দেশের অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীন নীতিনির্ধারণের ওপর সরাসরি হস্তক্ষেপের একটি প্রক্রিয়া হিসেবেও বিবেচনা করা হচ্ছে।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাজধানীর শাহবাগে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির উদ্যোগে মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি বাতিলের দাবিতে এক সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এইসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

অধিকারকর্মী মাহতাবউদ্দিন আহমেদের সঞ্চালনায় এবং গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির সদস্য অধ্যাপক আনু মুহাম্মদের সভাপতিত্বে এ সভায় বক্তব্য রাখেন, গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির ময়মনসিংহ জেলা প্রতিনিধি আবুল কালাম আল আজাদ, শিক্ষক ও গবেষক মাহা মির্জা, এবং ডা. হারুন-অর-রশীদ।

অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, এই ধরনের বাণিজ্য চুক্তির মাধ্যমে আমাদের উপর চাপ দেওয়া হবে এমন পণ্য আমদানির জন্য, যা বাস্তবে দেশের জন্য অপরিহার্য নয়। এমনকি, কিছু পণ্য আমরা অন্য দেশ থেকে কম দামে সংগ্রহ করতে পারলেও, এই চুক্তির মাধ্যমে ওই পণ্যগুলো বেশি দামে নির্দিষ্ট উৎস থেকে আমদানি করতে বাধ্য করা হবে। এর ফলে দেশের অর্থনীতি অযৌক্তিক ব্যয়বহুল হয়ে পড়বে এবং বাজারের স্বাভাবিক ব্যবস্থা বিকৃত হবে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই চুক্তির সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হলো, এর শর্ত অনুযায়ী বাংলাদেশের স্বাধীন বাণিজ্যিক সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা সংকুচিত হবে। কোন দেশের সঙ্গে কোন পণ্য বা পরিষেবা কেনাকাটা করা হবে, প্রতিরক্ষাসামগ্রী কেনার মতো সিদ্ধান্তগুলোও এখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব ও নির্দেশনার অধীনে চলে আসবে।

সমাবেশে ডা. হারুন-অর-রশীদ সতর্ক করে বলেন, এই বাণিজ্য চুক্তি দেশের ওষুধ صنعت জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করবে। বর্তমানে বাংলাদেশের জেনেরিক ওষুধ উৎপাদনের সক্ষমতা মূলত নমনীয় পেটেন্ট নীতির কারণে বিকশিত হয়েছে। তবে, চুক্তির শর্তে কোনও নতুন মেধাস্বত্বের শর্ত আরোপিত হলে দেশীয় কোম্পানিগুলো সহজে জেনেরিক ওষুধ তৈরি করতে পারবে না বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

গবেষক মাহা মির্জা আরও বলেন, এই চুক্তি স্থানীয় শিল্পকে ধ্বংস করবে এবং ছোট্ট করে তুলবে বাংলাদেশের পোল্ট্রি শিল্পকে। এটি গরীব মানুষের রুটিরুজির জন্য হুমকি সৃষ্টি করবে। জনস্বার্থের পরিপন্থী এই ধরনের চুক্তি করে কোনও সরকার দীর্ঘমেয়াদে ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারবে না। এর ফলে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের পাশাপাশি শ্রমজীবী মানুষও সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বিরোধী দলকেও এই বাস্তবতা বুঝতে হবে এবং জনস্বার্থে কাজ করতে হবে। মার্কিন পদলেহন করে জনগণের স্বার্থ রক্ষা সম্ভব নয় বলেও এসময়ে মন্তব্য করেন তারা।

Staff Reporter
ADMINISTRATOR
PROFILE

Posts Carousel

Latest Posts

Top Authors

Most Commented

Featured Videos