বাংলাদেশে রেকর্ড দামে স্থির সোনার বাজার, রুপার দরও অপরিবর্তিত

বাংলাদেশে রেকর্ড দামে স্থির সোনার বাজার, রুপার দরও অপরিবর্তিত

দেশের বাজারে অসাধারণ উচ্চমূল্য স্পর্শ করার পরবর্তীতে এখন স্থিতিশীল রয়েছে মূল্যবান ধাতু সোনার দাম। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) কর্তৃক গত বুধবার নির্ধারিত নতুন মূল্য অনুযায়ী আজ শনিবার (১৮ এপ্রিল) দেশের সব জুয়েলারের দোকান থেকে সোনা কেনাবেচা চলছে। আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য বিশৃঙ্খলতা এবং দেশের বুলিয়ন মার্কেটে বিশুদ্ধ সোনার সরবরাহের সংকটের কারণে সম্প্রতি ভরিতে ২,২১৬ টাকা মূল্যবৃদ্ধি

দেশের বাজারে অসাধারণ উচ্চমূল্য স্পর্শ করার পরবর্তীতে এখন স্থিতিশীল রয়েছে মূল্যবান ধাতু সোনার দাম। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) কর্তৃক গত বুধবার নির্ধারিত নতুন মূল্য অনুযায়ী আজ শনিবার (১৮ এপ্রিল) দেশের সব জুয়েলারের দোকান থেকে সোনা কেনাবেচা চলছে। আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য বিশৃঙ্খলতা এবং দেশের বুলিয়ন মার্কেটে বিশুদ্ধ সোনার সরবরাহের সংকটের কারণে সম্প্রতি ভরিতে ২,২১৬ টাকা মূল্যবৃদ্ধি করা হয়। এর ফলে দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম অতিক্রম করেছে আড়াই লাখ টাকার মাইলফলক।

বাজুসের নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, আজ দেশের বাজারে সবচেয়ে চাহিদাজনক ২২ ক্যারেটের একটি ভরি সোনার অলঙ্কার কিনতে গ্রাহকদের গুণতে হচ্ছে ২,৫০,১৯৩ টাকা। পাশাপাশি, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ২,৩৮,৮২০ টাকা এবং ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২,০৪,৭০৩ টাকা নির্ধারিত হয়েছে। এছাড়াও, সনাতন পদ্ধতির পুরানো অলঙ্কার গলিয়ে তৈরি সোনার দাম প্রতি ভরি ১,৬৬,৭৩৭ টাকা। বিয়ে ও উৎসবের মৌসুমে সোনার চাহিদা থাকলেও এ অপ্রত্যাশিত মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে কিছুটা হতাশার সৃষ্টি করেছে।

সোনা ছাড়াও, রুপার বাজারও গত সপ্তাহের মূল্যে অপরিবর্তিত রয়েছে। সর্বশেষ পরিস্থিতিতে, ভরি প্রতি ৩৫০ টাকা বৃদ্ধির পরে এখন ২২ ক্যারেট রুপার দাম ৬,০৬৫ টাকা। অন্য ক্যাটাগরিগুলোতে, ২১ ক্যারেটের রুপার দাম ৫,৭৭৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ৪,৯৫৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম ৩,৭৩২ টাকা ভরি। সোনার মূল্য বৃদ্ধির কারণে সাধারণ মধ্যবিত্ত ক্রেতারা রুপার অলঙ্কারকেই বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করছে, যদিও সেখানে দামের কিছুটা বৃদ্ধি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

চলমান ২০২৬ সাল শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে সোনার দাম মোট ৫৫ বার সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩২ বার দাম বেড়েছে এবং ২৩ বার কমানো হয়েছে। ২০২৫ সালে, এক বছরে মোট ৯৩ বার দাম পরিবর্তনের ঘটনা ঘটেছিল, যেখানে ৬৪ বার দাম বাড়ানোর ঘোষণা আসছিল। অন্যদিকে, রুপার বাজারেও চলতি বছরের মধ্যে ৩৪ বার দামের পরিবর্তন আনা হয়েছে, যার মধ্যে ১৯ বার বৃদ্ধি হিসেবে রেকর্ড হয়েছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক রাজনীতি-অর্থনৈতিক উত্তেজনা এবং ডলারের বিপরীতে টাকার মানের অসংলগ্ন পরিবর্তনের ফলে দেশের বাজারে স্বর্ণ ও রুপার দর উঠানামা করছে। বিনিয়োগকারীরা সোনাকে নিরাপদ সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করায় আন্তর্জাতিক বাজারে এর চাহিদা ও মূল্য উভয়ই দ্রুত বাড়ছে। বাজুস জানিয়েছে, তারা নিয়মিতভাবে আন্তর্জাতিক বাজারের দিকনির্দেশনা পর্যবেক্ষণ করছে এবং ক্রেতা-বিক্রেতার স্বার্থ রক্ষার্থে প্রয়োজন অনুযায়ী মূল্য সমন্বয় করে। আপাতত, নতুন কোনো নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত দেশের সমস্ত জুয়েলারি দোকান এই নতুন মূল্যেই কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

Staff Reporter
ADMINISTRATOR
PROFILE

Posts Carousel

Latest Posts

Top Authors

Most Commented

Featured Videos