দক্ষিণ কোরিয়ার ৭ বিলিয়ন ডলারের প্রণোদনা ঘোষণা

দক্ষিণ কোরিয়ার ৭ বিলিয়ন ডলারের প্রণোদনা ঘোষণা

ইরানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বহুমুখী যুদ্ধের নেতিবাচক প্রভাব থেকে দেশীয় অর্থনীতিকে রক্ষা করতে বড় ধরনের উদ্ধার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। উদ্ভূত অর্থনৈতিক ক্ষতি সামাল দিতে এবং বাজার স্থিতিশীল রাখতে দেশটির সরকার ৭.১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের (প্রায় ৮৫ হাজার কোটি টাকা) একটি বিশাল প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) দক্ষিণ

ইরানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বহুমুখী যুদ্ধের

নেতিবাচক প্রভাব থেকে দেশীয় অর্থনীতিকে রক্ষা করতে বড় ধরনের উদ্ধার পরিকল্পনা হাতে

নিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। উদ্ভূত অর্থনৈতিক ক্ষতি সামাল দিতে এবং বাজার স্থিতিশীল

রাখতে দেশটির সরকার ৭.১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের (প্রায় ৮৫ হাজার কোটি টাকা) একটি

বিশাল প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) দক্ষিণ কোরিয়ার

অর্থমন্ত্রী কু ইউন-চুল এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এই মেগা প্রকল্পের বিস্তারিত তুলে

ধরেন। দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইয়োনহাপ এই খবরটি নিশ্চিত করেছে।

সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী কু ইউন-চুল সতর্কবার্তা উচ্চারণ করে বলেন,

মধ্যপ্রাচ্যের এই দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত বর্তমানে ‘বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য সবচেয়ে বড়

ঝুঁকি’ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। এই পরিস্থিতির ফলে সাধারণ মানুষের জীবিকা এবং

আন্তর্জাতিক সরবরাহ শৃঙ্খল যেন ভেঙে না পড়ে, সে জন্য সিউল সরকার অত্যন্ত ‘সক্রিয়’ ও

‘দ্রুত’ পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। তিনি জানান, যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট সম্ভাব্য পণ্য ঘাটতি

মোকাবিলায় সরকার আগে থেকেই সতর্ক রয়েছে। বিশেষ করে শিল্প ও পরিবহন খাতে অপরিহার্য

উপাদান ইউরিয়া এবং ইউরিয়া সলিউশনের কোনো সংকট যেন তৈরি না হয়, সে লক্ষ্যে চলতি

মাসের শেষ নাগাদ সরকারি জরুরি মজুত বাজারে ছেড়ে দেওয়ার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা

হয়েছে।

অর্থনৈতিক এই চাপ মোকাবিলায় দক্ষিণ কোরিয়া সরকার প্রশাসনিক তৎপরতাও বহুগুণ বৃদ্ধি

করেছে। অর্থমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট সকল মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন যেন অনুমোদিত

সম্পূরক বাজেট অত্যন্ত দ্রুততার সাথে বাস্তবায়ন করা হয়। তিনি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে

জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের আকাশচুম্বী দামের কারণে যারা সরাসরি

ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, তাঁদের আর্থিক সহায়তা প্রদানের প্রক্রিয়া আগামী ২৭ এপ্রিল থেকে

আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে। সরকারের লক্ষ্য হলো, ঘোষিত এই বিশাল বাজেটের অন্তত ৮৫

শতাংশ বা তারও বেশি অর্থ চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসের মধ্যেই ছাড় করা, যাতে অর্থনীতির

চাকা সচল রাখা সম্ভব হয়।

জ্বালানি নিরাপত্তার বিষয়ে দক্ষিণ কোরিয়া সরকার এক সুদূরপ্রসারী কৌশল গ্রহণ করেছে।

অর্থমন্ত্রী কু ইউন-চুল জানান, আন্তর্জাতিক মিত্রদের সঙ্গে সমন্বয় জোরদারের মাধ্যমে

কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর

নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা হচ্ছে। অপরিশোধিত তেল এবং ন্যাফথার মতো জরুরি জ্বালানি

পণ্যের সরবরাহ যেন কোনোভাবেই বিঘ্নিত না হয়, সে বিষয়ে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে

নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ কোরিয়ার এই আগাম ও বিশাল অংকের

প্রণোদনা ঘোষণা প্রমাণ করে যে দেশটি মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের সম্ভাব্য ভয়াবহতা

সম্পর্কে কতটা সচেতন। এই পদক্ষেপ কেবল দক্ষিণ কোরিয়ার অভ্যন্তরীণ বাজারকেই সুরক্ষা

দেবে না, বরং বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল বজায় রাখতেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। আপাতত

সরকারের এই সময়োপযোগী সিদ্ধান্তের ফলে দেশটির ব্যবসায়িক মহল ও সাধারণ নাগরিকদের

মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে যুদ্ধের স্থায়িত্ব এবং

গতিপ্রকৃতির ওপর দক্ষিণ কোরিয়ার ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক গতিপথ অনেকাংশেই নির্ভর করবে।

Staff Reporter
ADMINISTRATOR
PROFILE

Posts Carousel

Latest Posts

Top Authors

Most Commented

Featured Videos