বারিধারা সোসাইটির বর্ণিল আয়োজনে পহেলা বৈশাখের উচ্ছ্বাস, গান ও আবৃত্তির মাধ্যমে বাঙালিয়ানার উৎসব

বারিধারা সোসাইটির বর্ণিল আয়োজনে পহেলা বৈশাখের উচ্ছ্বাস, গান ও আবৃত্তির মাধ্যমে বাঙালিয়ানার উৎসব

ঢাকায় পহেলা বৈশাখের প্রাণবন্ত উৎসবের ধারাবাহিকতায়, রাজধানীর বারিধারা সোসাইটির উদ্যোগে অনুষ্ঠিত করা হয়েছে দিনব্যাপী এক বর্ণিল বৈশাখী অনুষ্ঠান। সকাল থেকেই লেক সাইড পার্কের প্রাঙ্গণে উৎসবের জামাকাপড়, লাল-সাদার আবহ এবং তালিত ঢোলের আওয়াজে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা, যেখানে মানুষ একসাথে মেতে ওঠে নববর্ষের আগমন উদযাপন করতে। প্রধান আকর্ষণ ছিল বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। স্থানীয় শিল্পীরা ও

ঢাকায় পহেলা বৈশাখের প্রাণবন্ত উৎসবের ধারাবাহিকতায়, রাজধানীর বারিধারা সোসাইটির উদ্যোগে অনুষ্ঠিত করা হয়েছে দিনব্যাপী এক বর্ণিল বৈশাখী অনুষ্ঠান। সকাল থেকেই লেক সাইড পার্কের প্রাঙ্গণে উৎসবের জামাকাপড়, লাল-সাদার আবহ এবং তালিত ঢোলের আওয়াজে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা, যেখানে মানুষ একসাথে মেতে ওঠে নববর্ষের আগমন উদযাপন করতে।

প্রধান আকর্ষণ ছিল বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। স্থানীয় শিল্পীরা ও বারিধারা সোসাইটির সদস্যরা দলগতভাবে বৈশাখী গান, কবিতা আবৃত্তি ও নাচের মাধ্যমে বাঙালির চিরন্তন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে জীবিত করে তুলেছিলেন। ‘এসো হে বৈশাখ, এসো এসো’ শিরোনামের গানের সুরে পুরো অনুষ্ঠান যেন এক পরিবারের মতো মিলেমিশে নতুন বছরের শুভেচ্ছা জানায়।

অতিথিদের মধ্যে শিশুদের ঢঙে আঁকা চিত্রকলা প্রতিযোগিতা ও গ্রামীণ বাংলার ঐতিহ্যবাহী ঢোলের আওয়াজ পরিবেশনায় উৎসবের প্রাণ বাড়ে। এর পাশাপাশি, দেশের বাইরে থেকে আসা ডেলিগেটরা ও প্রবাসী বাংলাদেশিরাও এই আয়োজনে অংশ নেন। বিশেষ করে, যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত তার মন্তব্যে বলেন, বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের এই প্রাণবন্ত প্রকাশ সত্যিই অনন্য এবং বিভিন্ন সংস্কৃতি বা ভিন্ন প্রান্তের মানুষদের মধ্যে সংযোগ সৃষ্টি করে।

প্রবাসীদের মধ্যে কানাডা থেকে আগত এক অতিথি জানান, তারা দেশীয় শেকড়ের টানে বারবার ফিরে আসেন। পহেলা বৈশাখের এই উৎসব তাদের জন্য শুধু আনন্দের বিষয় নয়, বরং তা আত্মপরিচয়ের একটা মহান অংশ। অনুষ্ঠানে প্রবীণ-নবীন সবাই স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করে, নতুন বছরটির জন্য দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও উন্নতির প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

দিনব্যাপী এই অনুষ্ঠানে ছিল দেশীয় ঐতিহ্যবাহী খাবার—পান্তা-ইলিশ, ভর্তা, পিঠাসহ নানা রকম লোভনীয় খাবার। সেই সঙ্গে অতিথিরা খাবার, আড্ডা ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপভোগ করেন। বৈশাখের এই আনন্দ প্রদর্শনী সত্যিই বাঙালিয়ানের এক অসাধারণ প্রকাশ।

অতিরিক্ত আয়োজকদের মতে, এই ধরনের কর্মসূচী নতুন প্রজন্মের মধ্যে দেশের সংস্কৃতি সম্বন্ধে জ্ঞান বাড়াতে এবং সামাজিক একতা ও সংস্কৃতিচর্চা আরও জোরদার করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এই উৎসব আসলেই বাঙালির প্রাণের স্পন্দনকে ফুটিয়ে তোলে এবং দেশের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে সহায়ক।

Staff Reporter
ADMINISTRATOR
PROFILE

Posts Carousel

Latest Posts

Top Authors

Most Commented

Featured Videos