কয়লার অভাবে দেশের বেশ কিছু বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র কার্যকরভাবে চালু থাকতে পারছে না। পটুয়াখালীর ১৩২০ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎকেন্দ্র দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে, যা দেশের বড় একটি জটিলতার ছবি দেখাচ্ছে। এর পাশাপাশি, মাতারবাড়ির আলট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল পাওয়ার প্ল্যান্ট গত কয়েকদিন ধরে পুরোপুরি কার্যক্ষমতা দিতে পারছে না, ফলে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। প্রসঙ্গত, সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের মধ্যে
কয়লার অভাবে দেশের বেশ কিছু বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র কার্যকরভাবে চালু থাকতে পারছে না। পটুয়াখালীর ১৩২০ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎকেন্দ্র দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে, যা দেশের বড় একটি জটিলতার ছবি দেখাচ্ছে। এর পাশাপাশি, মাতারবাড়ির আলট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল পাওয়ার প্ল্যান্ট গত কয়েকদিন ধরে পুরোপুরি কার্যক্ষমতা দিতে পারছে না, ফলে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
প্রসঙ্গত, সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের মধ্যে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। রামপাল এবং পায়রা কেন্দ্রের উৎপাদন যেখানে তুলনামূলকভাবে ভালো থাকলেও, কয়েকটি কেন্দ্রের উৎপাদন সীমিত থাকায় প্রয়োজনীয়তার তুলনায় খুব কমই বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। কক্সবাজারের কেন্দ্রটি এক হাজার ১৫০ মেগাওয়াটের মধ্যে মাত্র ৩১৫ মেগাওয়াট উৎপাদন করছে। গত কয়েক দিন ধরে তারা উৎপাদন কমিয়ে রেখেছে।
অন্যদিকে, পটুয়াখালীর কেন্দ্রটি বহু দিন ধরেই বন্ধ রয়েছে। এর কারণ হিসেবে জানা গেছে, কয়লার সরবরাহে জটিলতা, যেহেতু জোড়ে কাঁচামালের সংকট তৈরি হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক কে. এম. নঈম খান জানিয়েছেন, কত দিন তারা বন্ধ থাকবে সেটা নির্দিষ্ট করে বলতে পারছেন না।
আরএনপিএল তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আব্দুল হালিম বলেন, কয়লার দরপত্রে জটিলতা থাকায় নভেম্বর থেকে কেন্দ্রটি বন্ধ ছিল। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে, এবং তারা আশাবাদী যে, ৩০ এপ্রিলে এটি ফের চালু হতে যাচ্ছে।
শীতকালীন চাহিদা কম থাকলেও গ্রীষ্মের সময় বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে যায়, তাই এখন এই কেন্দ্রটি চালু হলে জনগণ সুবিধা পেত। তবে, বর্তমান অবস্থায় জলবায়ু পরিস্থিতি ও পরিস্থিতির সঙ্গে মিলিয়ে দেশের কয়লা আমদানিতে সমস্যা দেখা দিয়েছে। সাধারণত, ইন্দোনেশিয়া থেকে বাংলাদেশের বেশিরভাগ কয়লা আনা হয়। বিশ্বজুড়ে জ্বালানির সংকটের কারণে কয়লার দাম ও সরবরাহের জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। ইন্দোনেশিয়া তাদের নিজস্ব চাহিদা পূরণ করার পর বাইরে বিক্রি কমিয়ে দিয়েছে বা বন্ধ করে দিয়েছে, ফলে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি থাকা কেন্দ্রগুলোও বাধার সম্মুখীন।
একটি কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এই পরিস্থিতি পূর্বাভাসে ছিল। যারা পরিস্থিতি বুঝে আগে প্রস্তুতি নিয়েছিল, তারা সংকটে পড়েনি। কিন্তু আমরা এখন ঘাটতি ও পরিবেশ-সংক্রান্ত জটিলতায় পড়েছি।
আরেকজন প্রকৌশলী জানান, কয়লার সরবরাহ সংকটের কারণে তারা প্রতিদিন কমপক্ষে সাড়ে ১১ হাজার টন কয়লা প্রয়োজন হলেও, এখন পর্যাপ্ত কয়লা নেই। অনেকদিন থেকেই কেন্দ্রটি সর্বোচ্চ ৪৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে।
অন্য দিকে, চট্টগ্রাম অঞ্চলের বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো যেমন এসএস পাওয়ার, রামপাল, পায়রা, এবং পটুয়াখালীর কেন্দ্রগুলো অব্যাহতভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন চালিয়ে যাচ্ছে, যদিও উৎপাদন স্বাভাবিকের চেয়ে কমে গেছে। ভারতে আমদানি করা বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতেও দুর্বলতা দেখা দিয়েছে, বিশেষ করে আদানি গ্রুপের ইউনিটে কারিগরি ত্রুটি দেখা দেওয়ায় তারা হালকা অর্ধেক উৎপাদনে রয়েছে।
বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট ও কয়লার চাহিদা বেড়ে যাওয়ায়, সারা দেশে তীব্র লোডশেডিং দেখা দিয়েছে। ঢাকার বাইরে শহরগুলোতে লোডশেডিং এখন সাধারণ ঘটনা। আবহাওয়ার তাপমাত্রা বাড়তে থাকায়, পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। যদি বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রের জটিলতা দ্রুত নিরসন না হয়, তাহলে সাধারণ গ্রাহকদের ভোগান্তি আরো বাড়বে।











