হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করতে ইরানকে ট্রাম্পের নতুন ‘ডেডলাইন’

হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করতে ইরানকে ট্রাম্পের নতুন ‘ডেডলাইন’

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক নৌপথ হরমুজ প্রণালি থেকে অবরোধ প্রত্যাহারের জন্য ইরানকে নতুন এক কঠোর সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত রোববার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ এক সংক্ষিপ্ত কিন্তু বার্তাবহ পোস্টে তিনি এই ডেডলাইন ঘোষণা করেন। ট্রাম্পের বেঁধে দেওয়া নতুন এই শর্ত অনুযায়ী, আগামী মঙ্গলবার স্থানীয় সময় রাত ৮টার মধ্যে হরমুজ প্রণালিকে

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক নৌপথ হরমুজ প্রণালি থেকে অবরোধ প্রত্যাহারের

জন্য ইরানকে নতুন এক কঠোর সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড

ট্রাম্প। গত রোববার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ এক সংক্ষিপ্ত

কিন্তু বার্তাবহ পোস্টে তিনি এই ডেডলাইন ঘোষণা করেন। ট্রাম্পের বেঁধে দেওয়া নতুন এই

শর্ত অনুযায়ী, আগামী মঙ্গলবার স্থানীয় সময় রাত ৮টার মধ্যে হরমুজ প্রণালিকে বিশ্বের

সব দেশের বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য সম্পূর্ণ উন্মুক্ত করে দিতে হবে। অন্যথায় ইরানকে

এক ভয়াবহ পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে বলে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

সময়সীমা ঘোষণার পাশাপাশি ইরানের অবকাঠামো ধ্বংস করার সরাসরি হুমকিও দিয়েছেন মার্কিন

প্রেসিডেন্ট। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে

ট্রাম্প অত্যন্ত কঠোর ভাষায় জানান, ইরান যদি আলোচনার টেবিলে এগিয়ে না আসে এবং এই

গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি অবরুদ্ধ করে রাখে, তবে দেশটিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র বলতে আর

কিছুই অবশিষ্ট রাখা হবে না। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, পুরো ইরানের প্রতিটি

বিদ্যুৎ কেন্দ্র বোমা মেরে গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে। এর আগে গত শনিবারও তিনি একই ধরণের

উস্কানিমূলক মন্তব্য করে বলেছিলেন যে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রণালি খুলে না দিলে

ইরানকে ‘জাহান্নামের’ স্বাদ পেতে হবে এবং মঙ্গলবার দিনটি হবে ইরানের সেতু ও বিদ্যুৎ

কেন্দ্র ধ্বংসের দিন।

উল্লেখ্য যে, আরব সাগর ও পারস্য উপসাগরকে সংযুক্তকারী এই হরমুজ প্রণালি বৈশ্বিক

জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য এক অতি-সংবেদনশীল পথ। বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল ও তরল

প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় ২০ শতাংশ এই সরু পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়। কৌশলগত অবস্থানের

কারণে একে বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের ‘প্রবেশদ্বার’ বলা হয়ে থাকে। মধ্যপ্রাচ্যের

প্রধান তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো এই রুটের ওপর সরাসরি নির্ভরশীল হওয়ায় হরমুজ প্রণালির

অচলাবস্থা সারা বিশ্বের অর্থনীতিতে গভীর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে সক্ষম।

বর্তমানের এই চরম উত্তেজনার সূত্রপাত ঘটেছিল গত ২৮ ফেব্রুয়ারি, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও

ইসরায়েলের সাথে ইরানের সরাসরি যুদ্ধ শুরু হয়। এর পরপরই ইরানের অভিজাত সামরিক বাহিনী

ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ জারি করে এবং

ঘোষণা দেয় যে, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল কিংবা তাদের কোনো মিত্র দেশের জাহাজ এই পথ

দিয়ে চলাচল করলে সেগুলোর ওপর হামলা চালানো হবে। যুক্তরাজ্যের বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল

নিরাপত্তা সংক্রান্ত সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত হরমুজ

প্রণালিতে ১২টিরও বেশি জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই নিরাপত্তা সংকটের ফলে

আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম হু হু করে বাড়ছে, যা মোকাবিলায় মিত্র

দেশগুলোর পক্ষ থেকে হোয়াইট হাউসের ওপর প্রবল চাপ তৈরি হয়েছে। এমতাবস্থায় ট্রাম্পের

এই নতুন ‘ডেডলাইন’ মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতকে এক চূড়ান্ত ও অনিশ্চিত পরিণতির দিকে নিয়ে

যাচ্ছে।

Staff Reporter
ADMINISTRATOR
PROFILE

Posts Carousel

Latest Posts

Top Authors

Most Commented

Featured Videos