ধ্বংস হলো আমেরিকার দুটি অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান, নিখোঁজ এক পাইলট

ধ্বংস হলো আমেরিকার দুটি অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান, নিখোঁজ এক পাইলট

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমায় চলমান সংঘাত এক ভয়াবহ মোড় নিয়েছে। ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনী দাবি করেছে যে, তারা গত ২৪ ঘণ্টায় মার্কিন সামরিক বাহিনীর অত্যন্ত আধুনিক দুটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়েছে। ধ্বংসপ্রাপ্ত বিমান দুটির একটি ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে এবং অন্যটি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির সন্নিকটে বিধ্বস্ত হয়েছে। এই ঘটনাটি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান সরাসরি যুদ্ধের তীব্রতা ও

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমায় চলমান সংঘাত এক ভয়াবহ মোড় নিয়েছে। ইরানের প্রতিরক্ষা

বাহিনী দাবি করেছে যে, তারা গত ২৪ ঘণ্টায় মার্কিন সামরিক বাহিনীর অত্যন্ত আধুনিক

দুটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়েছে। ধ্বংসপ্রাপ্ত বিমান দুটির একটি ইরানের

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে এবং অন্যটি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির সন্নিকটে

বিধ্বস্ত হয়েছে। এই ঘটনাটি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান সরাসরি যুদ্ধের

তীব্রতা ও সক্ষমতার এক নতুন সমীকরণ হাজির করেছে।

ইরানি সামরিক বাহিনীর ‘খাতাম আল-আম্বিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্স’-এর একজন

মুখপাত্র শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে জানান যে, তাঁদের শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা

ব্যবস্থা অত্যন্ত নিখুঁতভাবে একটি মার্কিন এফ-১৫ (F-15) যুদ্ধবিমানকে লক্ষ্যবস্তু

করে এবং সেটি সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেয়। এর কিছুক্ষণ পরেই পারস্য উপসাগরে আমেরিকার

আরেকটি এ-১০ (A-10) যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার খবর জানায় তেহরান। এ-১০ বিমানটি মূলত

ট্যাংক বিধ্বংসী ও নিচু দিয়ে ওড়ার জন্য বিশেষভাবে পরিচিত।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস অজ্ঞাত কর্মকর্তাদের বরাতে জানিয়েছে, এ-১০

বিমানটি পারস্য উপসাগরে বিধ্বস্ত হলেও এর পাইলট নিরাপদে বের হতে পেরেছেন এবং

বর্তমানে তিনি নিরাপদ আশ্রয়ে রয়েছেন। তবে এফ-১৫ বিমানটির ক্ষেত্রে পরিস্থিতি কিছুটা

জটিল। বিভিন্ন মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিধ্বস্ত এফ-১৫ বিমানের একজন

ক্রু সদস্যকে মার্কিন উদ্ধারকারী দল খুঁজে পেলেও অন্যজন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। তাঁর

সন্ধান পেতে জোর তৎপরতা চলছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয়

সংবাদমাধ্যমগুলো ভূপাতিত বিমানের ধ্বংসাবশেষ এবং প্যারাশুটসহ একটি ইজেকশন সিটের ছবি

প্রচার করছে, যা তেহরানের দাবিকে আরও জোরালো করেছে।

এই ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতির পরেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর অবস্থানে অনড়

রয়েছেন। এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, যুদ্ধবিমান

ভূপাতিত হওয়ার এই ঘটনা তেহরানের সঙ্গে চলমান বা সম্ভাব্য কোনো আলোচনার ওপর নেতিবাচক

প্রভাব ফেলবে না। ট্রাম্প বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি একটি যুদ্ধাবস্থা এবং যুদ্ধের

ময়দানে এমন ঘটনা অস্বাভাবিক নয়। তাঁর এই মন্তব্য থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে যে,

ওয়াশিংটন এই সামরিক ক্ষয়ক্ষতিকে মেনে নিয়েই তাদের অভিযান অব্যাহত রাখতে চায়।

অন্যদিকে, এই ঘটনায় উল্লাসে মেতেছে ইরান। দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার

মোহাম্মদ-বাঘের ঘালিবাফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে কড়া ভাষায়

উপহাস করেছেন। তিনি ট্রাম্পের পূর্ববর্তী ‘বিজয়’ এবং ‘শাসন পরিবর্তনের’ দাবিগুলোকে

কটাক্ষ করে লিখেছেন যে, এই যুদ্ধ এখন লক্ষ্যহীন হয়ে পড়েছে। ঘালিবাফ বিদ্রূপের সুরে

মার্কিন প্রশাসনের কাছে নিখোঁজ পাইলটের অবস্থান জানতে চান। ইরানের এই মারমুখী

অবস্থান মূলত তাঁদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সক্ষমতা প্রদর্শনের একটি বড়

প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন সামরিক বিশ্লেষকরা।

যদিও ইরানের পক্ষ থেকে ভিডিও এবং স্থিরচিত্র প্রকাশ করা হয়েছে, তবে মার্কিন

প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন কিংবা সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এখন পর্যন্ত এই

সুনির্দিষ্ট ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি। মধ্যপ্রাচ্যে

মোতায়েনকৃত হাজার হাজার মার্কিন সেনা ও অসংখ্য যুদ্ধবিমানের নিরাপত্তার প্রশ্নে এই

ঘটনাটি ওয়াশিংটনের জন্য বড় এক উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংঘাতের এই নতুন মাত্রা

কেবল আকাশ পথেই নয়, বরং পুরো অঞ্চলের ভূ-রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে এক গভীর সংকটের

মুখে ঠেলে দিয়েছে। বিশ্ববাসী এখন পরবর্তী বড় কোনো সামরিক পদক্ষেপের আশঙ্কায় দিন

গুনছে।

Staff Reporter
ADMINISTRATOR
PROFILE

Posts Carousel

Latest Posts

Top Authors

Most Commented

Featured Videos