সুন্দরবনে আনুষ্ঠানিকভাবে মধু আহরণের মৌসুমের শুরু হলেও বনদস্যুদের আতঙ্কের কারণে কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে মধু সংগ্রহের কাজ। পহেলা এপ্রিল থেকে শুরু হওয়ার পরও শরণখোলা রেঞ্জের প্রথম দিনেই কোনো মৌয়াল বা নৌকা বনমুখী হননি। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, একাধিক দস্যু বাহিনী অগ্রিম চাঁদা দাবি করায় অনেক মৌয়ালই সাহস পাচ্ছেন না বনে যাওয়ার। জীবনের ঝুঁকি এবং সম্পদের
সুন্দরবনে আনুষ্ঠানিকভাবে মধু আহরণের মৌসুমের শুরু হলেও বনদস্যুদের আতঙ্কের কারণে কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে মধু সংগ্রহের কাজ। পহেলা এপ্রিল থেকে শুরু হওয়ার পরও শরণখোলা রেঞ্জের প্রথম দিনেই কোনো মৌয়াল বা নৌকা বনমুখী হননি। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, একাধিক দস্যু বাহিনী অগ্রিম চাঁদা দাবি করায় অনেক মৌয়ালই সাহস পাচ্ছেন না বনে যাওয়ার। জীবনের ঝুঁকি এবং সম্পদের সম্ভাব্য ক্ষতির ভয়ে তারা মৌসুমে অংশগ্রহণের থেকে বিরত থাকছেন। এর ফলে এই মৌসুমে কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ মধু ও মোম সংগ্রহ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। শরণখোলা স্টেশন কর্মকর্তা মো. খলিলুর রহমান জানান, এখন পর্যন্ত মাত্র ৮টি নৌকার বিএলসি ইস্যু হয়েছে, যেখানে গত বছর একই সময়ে প্রায় ৬০টি নৌকা ও দুই শতাধিক মৌয়াল বনমুখী হয়েছিল। এখন দস্যু আতঙ্কের কারণে কোনো নৌকা শরণখোলার বনে প্রবেশ করেনি। তিনি আরও বলেন, মৌয়ালদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বনবিভাগ বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। নির্দিষ্ট সময়ে পাস নিয়ে মৌয়ালদের নৌকাবহর বনরক্ষীদের escorted করে বনে প্রবেশের ব্যবস্থা হবে। অন্যদিকে, পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। সহকারী বন সংরক্ষক দীপন চন্দ্র দাস জানিয়েছেন, চাঁদপাই ও ঢাংমারী স্টেশন থেকে মোট ৩২টি নৌকার বিএলসি ইস্যু হয়েছে। প্রথম দিনে ১৭টি নৌকা ও দেড় শতাধিক মৌয়াল বনমুখী হয়েছেন। তাদের নিরাপত্তার জন্য টহল ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, বনদস্যুদের তৎপরতার কারণে এ বছর মৌয়ালদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। ঝুঁকি এড়াতে মৌয়ালদের দলবদ্ধভাবে মধু সংগ্রহের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, অগ্নিকাণ্ডপ্রবণ ভোলা নদীসংলগ্ন ২৪, ২৫ ও ২৬ নম্বর কমপার্টমেন্ট অঞ্চলে না যাওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বনবিভাগ সূত্র জানিয়েছেন, পূর্ব সুন্দরবনে প্রায় ১,৩০০ জন পেশাদার মৌয়াল রয়েছেন। প্রতিবছর তারা মধু সংগ্রহে অংশ নিলেও এই বছর দস্যু আতঙ্কে পরিস্থিতি ভিন্ন। চলতি মৌসুমে ৭০০ কুইন্টাল মধু ও ২০০ কুইন্টাল মোম আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এ খাতে প্রায় ২০ লাখ টাকার রাজস্ব আদায়ের প্রত্যাশা থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতি তা দারুণ হুমকির মুখে পড়ে গেছে। সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, পরিস্থিতি উন্নতি না হলে রাজস্বের ক্ষতি ছাড়াও মৌয়াল পরিবারগুলো বড় ধরনের আর্থিক সংকটে পড়তে পারে।











