সরকারের ব্যয় সংকোচন এবং জ্বালানি সাশ্রয় নীতির ঘোষণা

সরকারের ব্যয় সংকোচন এবং জ্বালানি সাশ্রয় নীতির ঘোষণা

দেশটি বর্তমানে অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় কঠোর খরচ কাটা ও পরিচালন ব্যয় হ্রাসের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করছে। সরকারি ও বেসরকারি অফিসগুলোর কার্যক্রমের সময়সূচি পরিবর্তন, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের নির্দেশনা এবং ব্যয় কমানোর বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বাজেট সংকট সামলে বিদেশি সম্পদ সংরক্ষণ ও সামগ্রিক জনগণের জীবনমান উন্নত করার

দেশটি বর্তমানে অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় কঠোর খরচ কাটা ও পরিচালন ব্যয় হ্রাসের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করছে। সরকারি ও বেসরকারি অফিসগুলোর কার্যক্রমের সময়সূচি পরিবর্তন, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের নির্দেশনা এবং ব্যয় কমানোর বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বাজেট সংকট সামলে বিদেশি সম্পদ সংরক্ষণ ও সামগ্রিক জনগণের জীবনমান উন্নত করার লক্ষ্য রয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) জাতীয় সংসদ ভবনে প্রধানমন্ত্রী নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি সংবাদ সম্মেলনে এই সিদ্ধান্তের বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন।

উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে সরকারি অফিসদফতরগুলোর সময় সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টার মধ্যে সীমিত করা হয়েছে, যাতে সময় অপচয় এবং খরচ কমানো যায়। ব্যাংকগুলোও সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত খোলা থাকবে, তবে শেষ দিনের কাজ শেষ করে বিকেল ৪টায় বন্ধ হবে।

শপিংমল, বাজার ও দোকানপাট সন্ধ্যা ৬টার পর বন্ধ করতে বলা হয়েছে। তবে জরুরি প্রয়োজনীয় খাদ্য, ওষুধ ও কাঁচাবাজার এই নির্দেশের বাইরে থাকবে। এই নিয়ম কঠোরভাবে মানা হবে এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এর ওপর নজরদারি চালাবে।

সরকারের ব্যয় কমানোর জন্য প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের জ্বালানি ব্যবহারে ৩০ শতাংশ হ্রাসের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারি গাড়ি, অফিসে ব্যবহৃত জ্বালানি, বিদ্যুৎ, গ্যাসের খরচে ৩০ শতাংশ কমানো হবে। পাশাপাশি আবাসিক ভবনের শোভাবর্ধন খরচ ২০ শতাংশ, আর অভ্যন্তরীণ উন্নয়নে ৫০ শতাংশ কাটছাটের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

শিক্ষা ক্ষেত্রে, মন্ত্রণালয়বিশেষের নির্দেশনা অনুযায়ী, ছাত্র-শিক্ষকদের ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার কমাতে বলা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়েছেন, যানজট কমানোর জন্য আরেকটি উদ্যোগ হিসেবে শুল্কমুক্ত সুবিধায় ইলেকট্রিক বাস আমদানির সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হবে। এই সুবিধা শুধু নতুন বাসের জন্য থাকবে, পুরানো বাস আনা বন্ধ থাকবে।

অন্যদিকে, সরকারি খাতে নতুন গাড়ি, কম্পিউটার বা অন্য কোনো বড় সরঞ্জাম কেনা এখন থেকে তিন মাসের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিদেশ ভ্রমণ ও অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণও ৫০ শতাংশ কমানো হবে। সভা, সেমিনার ও আপ্যায়নের খরচও অর্ধেকে নামানো হয়েছে।

জ্বালানি সংকটের কারণে বিদেশ থেকে তেল আমদানির জন্য বিকল্প উৎস খোঁজা হচ্ছে। ইতোমধ্যে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও কাজাখস্তান থেকে তেল আমদানির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সহায়তা হিসেবে, সরকার সাধারণ মানুষের জন্য জ্বালানি ভর্তুকি বজায় রাখছে এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় সব ধরনের প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।

এছাড়া, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে তেলের সরবরাহের উপর কিছুটা অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে। এ কারণেই বিকল্প উৎসের খোঁজ চলছে, যাতে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।

গাড়ি কেনার জন্য সরকারি কর্মকর্তাদের সুদমুক্ত ঋণও আপাতত বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, যতক্ষণ না পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে, ততক্ষণ এই ধরনের ঋণ সেবা এবং বিদেশ ভ্রমণের পরিকল্পনা বন্ধ থাকবে। কর্মচারীদের জন্য গাড়ি, সেমিনার ও প্রশিক্ষণের ব্যয় কমানোর পাশাপাশি, সরকারি ও বেসরকারি খাতে অর্থ সাশ্রয়ে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, বিশিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত সুদমুক্ত ঋণ ও গাড়ি সুবিধা চালু থাকলেও, এখন তা বন্ধ থাকবে। এই সব উদ্যোগের মাধ্যমে সরকার খরচ কমিয়ে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার পথে কাজ করছে।

Staff Reporter
ADMINISTRATOR
PROFILE

Posts Carousel

Latest Posts

Top Authors

Most Commented

Featured Videos