হরমুজ প্রণালিতে মালয়েশীয় জাহাজ চলাচলে ইরানের বিশেষ অনুমতি

হরমুজ প্রণালিতে মালয়েশীয় জাহাজ চলাচলে ইরানের বিশেষ অনুমতি

তেহরানের সাথে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের চলমান সংঘাতের জেরে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তার মধ্যেই মালয়েশীয় জাহাজগুলোকে হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের অনুমতি দিয়েছে ইরান। গতকাল বৃহস্পতিবার টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক বক্তব্যে এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। আনোয়ার ইব্রাহিম জানান, মালয়েশিয়ার জাহাজগুলোকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে যেতে “দ্রুত ছাড়পত্র” দিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ

তেহরানের সাথে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের চলমান সংঘাতের জেরে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি

সরবরাহে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তার মধ্যেই মালয়েশীয় জাহাজগুলোকে হরমুজ প্রণালি

অতিক্রমের অনুমতি দিয়েছে ইরান। গতকাল বৃহস্পতিবার টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক

বক্তব্যে এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার

ইব্রাহিম।

আনোয়ার ইব্রাহিম জানান, মালয়েশিয়ার জাহাজগুলোকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে যেতে “দ্রুত

ছাড়পত্র” দিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। এ জন্য তিনি ইরানের

প্রেসিডেন্টকে বিশেষ ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। তেহরানের কঠোর নিয়ন্ত্রণের কারণে

বর্তমানে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি দিয়ে সাধারণ জাহাজ চলাচল সীমিত হয়ে পড়েছে, যা

বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ

নিয়ন্ত্রণ করে।

মালয়েশীয় প্রধানমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, তাঁদের তেলবাহী ট্যাংকার ও সংশ্লিষ্ট

কর্মীদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনার বিষয়েও বর্তমানে কাজ চলছে। তবে ঠিক কতটি জাহাজ এই

প্রণালি অতিক্রম করার সুযোগ পেয়েছে বা এর পেছনে কোনো বিশেষ শর্ত ছিল কি না, সে

বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কোনো তথ্য দেননি। আন্তর্জাতিক বিষয়ে সাধারণত নিরপেক্ষ নীতি

অনুসরণকারী মালয়েশিয়া সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক

প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

জ্বালানি পরিস্থিতির প্রভাব নিয়ে আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, বৈশ্বিক সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায়

মালয়েশিয়াও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে রাষ্ট্রীয় তেল ও গ্যাস প্রতিষ্ঠান পেট্রোনাসের

শক্তিশালী অবস্থানের কারণে দেশটি অনেক রাষ্ট্রের তুলনায় “ভালো অবস্থায়” আছে।

উল্লেখ্য যে, বিশ্বের অন্যতম এলএনজি সরবরাহকারী দেশ হওয়া সত্ত্বেও মালয়েশিয়াকে

তাদের চাহিদার প্রায় ৭০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল আমদানির জন্য পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের

ওপর নির্ভর করতে হয়।

বর্তমান পরিস্থিতি সামাল দিতে মালয়েশিয়া সরকার ভর্তুকিযুক্ত পেট্রলের ব্যক্তিগত

বরাদ্দ হ্রাস এবং সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য পর্যায়ক্রমে বাসা থেকে কাজ

করার পদ্ধতি চালুর মতো প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবছে। আনোয়ার ইব্রাহিম আরও

বলেন, “খাদ্য সরবরাহেও এর প্রভাব পড়ছে, দাম বাড়বে সার ও জ্বালানিরও। তাই কিছু

পদক্ষেপ নিতে হবে। এমন অনেক দেশ আছে, যাদের ওপর এর প্রভাব মালয়েশিয়ার চেয়ে অনেক

বেশি। তবে তার অর্থ এই নয়, মালযেশিয়া পুরোপুরি প্রভাবমুক্ত।”

ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের সাথে সংশ্লিষ্টতা নেই

এমন জাহাজগুলোর জন্য এই পথ খোলা রাখা হয়েছে, যদিও জলপথটিতে নিজেদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ

বজায় রাখছে তেহরান। এদিকে ইরানের পার্লামেন্টে হরমুজ প্রণালিতে টোল ব্যবস্থা চালুর

একটি প্রস্তাবিত আইনও পর্যালোচনার অধীনে রয়েছে। গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী,

নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিতে কোনো কোনো জাহাজের কাছে বিপুল পরিমাণ অর্থ দাবির অভিযোগও

উঠেছে। সামুদ্রিক গোয়েন্দা সংস্থা উইন্ডওয়ার্ডের পরিসংখ্যান বলছে, সংঘাত শুরুর আগে

যেখানে প্রতিদিন গড়ে ১২০টি জাহাজ এই পথ দিয়ে চলাচল করত, বর্তমানে সেই সংখ্যাটি

আশঙ্কাজনকভাবে কমে এসেছে।

Staff Reporter
ADMINISTRATOR
PROFILE

Posts Carousel

Latest Posts

Top Authors

Most Commented

Featured Videos