সৌদি আরব ও আরব আমিরাতে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

সৌদি আরব ও আরব আমিরাতে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটিয়ে এবার সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের কৌশলগত বিমান ঘাঁটিতে একযোগে বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে ইরানের সামরিক বাহিনী। রোববার (১৫ মার্চ) সংঘটিত এই হামলায় ব্যবহৃত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রগুলো নিয়ে ওই অঞ্চলে চরম উত্তজনা দেখা দিলেও সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, তারা রিয়াদ মহানগরের আকাশে পৌঁছানোর আগেই লক্ষ্যভ্রষ্ট

মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটিয়ে এবার সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ

এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের কৌশলগত বিমান ঘাঁটিতে একযোগে বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে

ইরানের সামরিক বাহিনী। রোববার (১৫ মার্চ) সংঘটিত এই হামলায় ব্যবহৃত ড্রোন ও

ক্ষেপণাস্ত্রগুলো নিয়ে ওই অঞ্চলে চরম উত্তজনা দেখা দিলেও সৌদি প্রতিরক্ষা

মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, তারা রিয়াদ মহানগরের আকাশে পৌঁছানোর আগেই লক্ষ্যভ্রষ্ট করতে

চারটি ইরানি ড্রোন ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে। মূলত গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান,

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে ত্রিমুখী যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই সৌদি আরব

ক্রমাগতভাবে ইরানের নিশানায় পরিণত হচ্ছে।

তেহরান এই যুদ্ধে কেবল সামরিক লক্ষ্যবস্তুতেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং তারা সৌদি আরবের

গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামো, মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান এবং

জনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলোকেও হামলার জন্য বেছে নিয়েছে। রিয়াদের প্রতিরক্ষা

কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্যমতে, সাম্প্রতিক এই হামলাগুলোর জেরে সৌদি আরবে এ পর্যন্ত

অন্তত দু’জনের প্রাণহানি ঘটেছে এবং আরও ১২ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। ইরানের এমন

আক্রমণাত্মক কৌশলে আঞ্চলিক তেল রাজনীতি এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও বড় ধরণের প্রভাব

পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতেও একই ধরণের তাণ্ডব চালিয়েছে ইরান। দেশটির ইসলামিক বিপ্লবী

গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) আনুষ্ঠানিকভাবে দাবি করেছে যে, তারা আরব আমিরাতের

‘আল-ধাফরা’ বিমান ঘাঁটিতে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের লক্ষ্য করে বিধ্বংসী আক্রমণ

চালিয়েছে। অভিযানে তারা একযোগে ১০টি শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র এবং নাম প্রকাশ না করা

বেশ কিছু ড্রোন ব্যবহার করেছে। যদিও এই হামলায় আমেরিকান সৈন্যদের ঠিক কতটুকু

ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা এখনও রহস্যাবৃতই রয়ে গেছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন,

মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ইরানের এমন সরাসরি আঘাত যুদ্ধের গতিপ্রকৃতিকে আরও জটিল করে

তুলবে।

অন্যদিকে ইরানের ক্রমাগত ক্ষেপণাস্ত্র বর্ষণে পর্যুদস্ত হয়ে পড়েছে ইসরায়েলও। দেশটির

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে আল জাজিরা এবং এএফপি জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টার

ব্যবধানে সংঘাতের প্রভাবে ১০৮ জন ইসরায়েলিকে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা

হয়েছে। ইরানের সরাসরি মিসাইল এবং লেবানন থেকে আসা রকেটের আঘাতের পাশাপাশি নিরাপদ

আশ্রয়ে যাওয়ার জন্য মানুষের অতিরিক্ত ভিড় ও হুড়োহুড়ির ফলেই এই হতাহতের সংখ্যা

বাড়ছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে আজ পর্যন্ত ইসরায়েলে অন্তত

৩ হাজার ১৯৫ জন নাগরিক চিকিৎসা নিয়েছেন, যাদের একটি বড় অংশ বর্তমানেও হাসপাতালে

চিকিৎসাধীন। সব মিলিয়ে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং ইসরায়েলসহ পুরো

মধ্যপ্রাচ্য এখন ইরানের রকেট ও ড্রোনের গোঙানিতে এক ভয়াবহ ধ্বংসলীলার সাক্ষী হচ্ছে।

আঞ্চলিক পরাশক্তিগুলোর এমন সরাসরি সামরিক সংঘাতে আন্তর্জাতিক মহলে চরম উদ্বেগ বিরাজ

করছে।

Staff Reporter
ADMINISTRATOR
PROFILE

Posts Carousel

Latest Posts

Top Authors

Most Commented

Featured Videos