চট্টগ্রাম বন্দরে আরও একটি ডিজেলবাহী ট্যাংকার পৌঁছেছে

চট্টগ্রাম বন্দরে আরও একটি ডিজেলবাহী ট্যাংকার পৌঁছেছে

বিশ্বের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা এবং মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবের মাঝেও বাংলাদেশে জ্বালানি সরবরাহের ওপর কোনো বড় ধরনের প্রভাব পড়েনি। দেশের বিভিন্ন বন্দরে এখন নিয়মিতভাবে বিভিন্ন দেশের কাছ থেকে ডিজেলবাহী জাহাজ এসে পৌঁছাচ্ছে, যার কারণে দেশের জ্বালানি রিজার্ভের অবস্থা মোটামুটিভাবে নিশ্চিত হচ্ছে। সম্প্রতি চট্টগ্রাম বন্দরে আরও একটি নতুন ট্যাংকার এসে পৌঁছেছে যেখানে স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, এটি হলো

বিশ্বের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা এবং মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবের মাঝেও বাংলাদেশে জ্বালানি সরবরাহের ওপর কোনো বড় ধরনের প্রভাব পড়েনি। দেশের বিভিন্ন বন্দরে এখন নিয়মিতভাবে বিভিন্ন দেশের কাছ থেকে ডিজেলবাহী জাহাজ এসে পৌঁছাচ্ছে, যার কারণে দেশের জ্বালানি রিজার্ভের অবস্থা মোটামুটিভাবে নিশ্চিত হচ্ছে। সম্প্রতি চট্টগ্রাম বন্দরে আরও একটি নতুন ট্যাংকার এসে পৌঁছেছে যেখানে স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, এটি হলো ‘লিয়ান হুয়ান হু’ নামের একটি জাহাজ, যা সিঙ্গাপুর থেকে প্রায় ২৭ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল নিয়ে এসেছে। এই জাহাজটি গত ১১ দিনের মধ্যে দ্বিতীয় ডিজেলবাহী জাহাজ হিসেবে চট্টগ্রাম বন্দরে এসেছে। দুই দিনের ব্যবধানে এটাই দ্বিতীয় চালান, যা দেশের জ্বালানি মজুতের জন্য বড় অংকের অবদান রাখছে। এর আগে সোমবার ‘শিউ চি’ নামে আরেকটি জাহাজ ২৭ হাজার ২০৪ মেট্রিক টন ডিজেল নিয়ে বন্দরে প্রবেশ করে। নতুন এই আমদানির কারণে দেশের জ্বালানি পরিস্থিতি আরও উন্নত হবে বলে ধারনা করা হচ্ছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) জানিয়েছে, আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে আরও তিনটি ডিজেলবাহী জাহাজ দেশের বন্দরে পৌঁছাবে। এর মধ্যে ১২ মার্চ আসবে ‘এসপিটি থেমিস’, যা ৩০ হাজার ৪৮৪ মেট্রিক টন ডিজেল বহন করছে। এছাড়াও ১৩ মার্চ ‘র‍্যাফেলস সামুরাই’ এবং ১৫ মার্চ ‘চাং হাং হং তু’ নামে আরও দুটি জাহাজ দেশের বন্দরে পৌঁছানোর জন্য প্রস্তুত। প্রত্যেকটি জাহাজে প্রায় ৩০ হাজার মেট্রিক টন করে ডিজেল রয়েছে। এসব ট্যাংকার বিভিন্ন এশিয়ার দেশের থেকে আসছে এবং এই পাঁচটি জাহাজের মোট ডিজেল আসা দেশের মোট চাহিদা পূরণে অবদান রাখবে ১ লাখ ৪৪ হাজার ২০৫ মেট্রিক টনের মতো। বিপিসির হিসাব অনুযায়ী, এই নতুন আসা জাহাজগুলো থেকে পাওয়া ডিজেল দিয়ে দেশের অন্তত ১২ দিনের ক্রমাগত চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে। তবে বিশ্ববাজারে অস্থিরতা থাকায় সরকার গত রোববার থেকে দৈনিক ডিজেল সরবরাহ কমিয়ে ৯ হাজার মেট্রিক টনে নামিয়েছে, যাতে দীর্ঘমেয়াদি মজুত নিশ্চিত করা যায়। এই সঞ্চয়দারীত্বের মাধ্যমে বা সংরক্ষণের কারণে নতুন আসা ডিজেল দিয়ে প্রায় ১৬ দিন পর্যন্ত দেশের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে। বর্তমানে দেশে যে পরিমাণ মজুত রয়েছে, তা দিয়ে আরও ১৬ থেকে ১৭ দিন দেশের জ্বালানি প্রয়োজন রক্ষা করা যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছে। বিপিসির কর্মকর্তারা বলছেন, ‘যুদ্ধ পরিস্থিতির মাঝেও সোমবার প্রথম জাহাজ এসে পৌঁছানোর পরই দ্রুত জ্বালানি খালাসের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘মঙ্গলবার দ্বিতীয় জাহাজটির খালাস প্রক্রিয়াও সচল রয়েছে এবং যদি পরবর্তী জাহাজগুলো সময়মতো আসে, তবে দেশের জ্বালানি পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে আসবে।’ এর ফলে দেশের চাহিদা মেটানোর জন্য খুব বেশি উদ্বেগ লাগবে না বলে মনোবল বাড়ছে। বিপিসি পক্ষের কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন, ধারাবাহিকভাবে জ্বালানি আমদানি অব্যাহত থাকায় বাজারে কৃত্রিম সংকট বা আতঙ্ক ধীরে ধীরে কমে আসবে। জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বন্দর কর্তৃপক্ষ ও বিপিসি নিবিড়ভাবে কাজ করছে, যাতে দেশের মানুষ যেন দীর্ঘ সময় অচলাবস্থায় না পড়ে।

Staff Reporter
ADMINISTRATOR
PROFILE

Posts Carousel

Latest Posts

Top Authors

Most Commented

Featured Videos