আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম-১ (মীরসরাই) আসনে প্রার্থীরা নিজেদের প্রচার-প্রচারণা শেষ করেছেন। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত তারা গ্রামে, বাজারে, পাড়া-মহল্লায় গিয়ে উঠান বৈঠক, পথসভা ও বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট প্রার্থনা করে চলেছেন। ধীরে ধীরে নির্বাচন ও গণভোটের দিগন্তে উত্তেজনা আরও বেড়ে যাচ্ছে। বিএনপি এই হারানো আসনটি
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম-১ (মীরসরাই) আসনে প্রার্থীরা নিজেদের প্রচার-প্রচারণা শেষ করেছেন। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত তারা গ্রামে, বাজারে, পাড়া-মহল্লায় গিয়ে উঠান বৈঠক, পথসভা ও বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট প্রার্থনা করে চলেছেন। ধীরে ধীরে নির্বাচন ও গণভোটের দিগন্তে উত্তেজনা আরও বেড়ে যাচ্ছে। বিএনপি এই হারানো আসনটি ফিরে পাওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠছে, জামায়াত ইসলামী নতুন ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন দেখছে, আর অন্যান্য দল তাদের ভোটারদের নিকট বিস্তারিত বার্তা পৌঁছে দিতে বিভিন্ন কার্যক্রম চালাচ্ছে।
এবারের নির্বাচনে মীরসরাইয়ে সোয়া লাখের বেশি তরুণ ভোটার তাদের ভবিষ্যৎ নির্ধারনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন। এদের অধিকাংশ এখনই প্রথমবারের মতো ভোট দিতে মুখিয়ে আছেন—এমন খবর নির্বাচনী মাঠে বেশ আলোচিত। উপজেলা নির্বাচন অফিসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই আসনে ১৮ থেকে ৩৩ বছর বয়সী ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ২৩ হাজার ৯৭২ জন ও নারী ভোটার ১ লাখ ৮৬ হাজার ৮১১ জন। নির্বাচনী বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই তরুণ এবং নারী ভোটাররা যেখানে ঝুঁকি নেবে, সেখানেই নির্ধারিত হবে জয় বা পরাজয়ের ফলাফল। এই কারণেই প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা এই অঙ্গিকে বেশ গুরুত্ব দিচ্ছেন। সোমবার শেষ দিনে প্রার্থীরা ব্যাপক গণসংযোগ ও গণমিছিল করেন, যা পুরো উপজেলাজুড়ে নজরকাড়া হয়ে উঠেছিল।
মীরসরাইয়ে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে ধানের শীষের প্রার্থী নুরুল আমিন ও দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী এডভোকেট মোহাম্মদ ছাইফুর রহমানের মধ্যে। তাদের সমর্থকেরা প্রতিনিয়ত নির্বাচনী কার্যক্রমের পরিকল্পনা করছে।
উপজন অনুযায়ী, এই আসনে মোট ৭ জন প্রার্থী নির্বাচনী লড়াইয়ে অংশ নিচ্ছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন: বিএনপি মনোনীত নুরুল আমিন, জামায়াতের মোহাম্মদ ছাইফুর রহমান, জাতীয় পার্টির সৈয়দ শাহাদাৎ হোসেন, ইসলামী আন্দোলনের ফেরদৌস আহমদ চৌধুরী, ইনসানিয়াত বিপ্লবের রেজাউল করিম, মুসলিম লীগ-বিএমএলের শেখ জুলফিকার বুলবুল চৌধুরি এবং জেএসডির এ.কে.এম আবু ইউছুপ।
প্রার্থীরা নির্বাচনী তাদের প্রতিশ্রুতিতে বলছেন, তারা নির্বাচিত হলে মীরসরাইকে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদক মুক্ত একটি মডেল উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলবেন। বিগত নির্বাচনে এই আসনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মাঝে তুমুল লড়াই হয়েছে, যেখানে জামায়াত ছিল অনেক পিছিয়ে। এবার যখন আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ না থাকলেও, দলের সমর্থকদের উপস্থিতি এই আসনের ফলাফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে, বর্তমানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কিছু সমর্থক ভোটাররা বেশ কিছুটা বিভ্রান্তিতে আছেন; এই সুযোগ কাজে লাগাতে মরিয়া প্রতিদ্বন্দ্বীরা।
বিরোধী শক্তির মধ্যে বিএনপি দীর্ঘ সময় বিরোধের পর ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাঠে নেমে আসছে, মানে তাদের আশা আবারো এই আসন দখলের জন্য। বিএনপি আশা করছে, এই বার তারা গোটাপূর্ণ ভোটের ব্যবধানে বিজয় লাভ করে মীরসরাই পুনরুদ্ধার করবে। দলের নেতাকর্মীরা ধানের শীষের জয় নিশ্চিত করতে একসাথে কাজ করছেন। অন্যদিকে, জামায়াতের সংগঠিত দল, মহিলাদের চালাও হাতে মাঠে নেমেছে। মনে হচ্ছে, এই নির্বাচনে বিএনপির প্রতিপক্ষ জামায়াত সার্বিকভাবে শক্তিশালী ভূমিকা রাখবে।
উপজেলা নির্বাচন অফিস বলছে, মীরসরাইয়ে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৮৬ হাজার ৬৭৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৯৯ হাজার ৮৫৯ জন, নারী ভোটার ১ লাখ ৮৬ হাজার ৮১১ জন এবং হিজড়া ভোটার ৪ জন। পোস্টাল ব্যালটের জন্য রেজিস্ট্রেশন করেছেন ৬ হাজার ৫৭২ জন। মোট ভোট কেন্দ্র সংখ্যা ১০৬টি, বুথের সংখ্যা ৭১৮টি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার সোমাইয়া আক্তার জানান, সব কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের কাজ চলছে। নির্বাচনের প্রাথমিক প্রস্তুতি হিসেবে, পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের তালিকা প্রস্তুত এবং ব্যবস্থাগুলি সম্পন্ন হয়েছে। চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সিরাজুল ইসলাম বলেন, জেলার সব নির্বাচন কেন্দ্রে ৯৯৯টি বডি ওয়র্ন ক্যামেরা ইতিমধ্যে সংগ্রহ করা হয়েছে, যা অনলাইন ও অফলাইন ব্যবস্থায় কাজ করবে। সকল প্রক্রিয়া মনিটরিংয়ে থাকবে।











