আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বরগুনার দুইটি আসনেই নির্বাচনী উত্তাপ দিন দিন বেড়ে চলছে। প্রতীক পাওয়ার পর থেকেই জেলা শহর থেকে শুরু করে গ্রাম, হাটবাজার ও চরাঞ্চল পর্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বীরা সক্রিয়ভাবে প্রচারণা চালাচ্ছেন। নির্বাচনী মাঠে যোগ হয়েছে অভিযোগ-প্রত্যাঘাতের উপাদান, আর মাঝে মাঝে চোখে পড়ছে পাল্টা অভিযোগের ধাক্কাধাক্কি। তবে, এই প্রাণচাঞ্চল্যপূর্ণ আবহের মধ্যেও সাধারণ ভোটার
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বরগুনার দুইটি আসনেই নির্বাচনী উত্তাপ দিন দিন বেড়ে চলছে। প্রতীক পাওয়ার পর থেকেই জেলা শহর থেকে শুরু করে গ্রাম, হাটবাজার ও চরাঞ্চল পর্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বীরা সক্রিয়ভাবে প্রচারণা চালাচ্ছেন। নির্বাচনী মাঠে যোগ হয়েছে অভিযোগ-প্রত্যাঘাতের উপাদান, আর মাঝে মাঝে চোখে পড়ছে পাল্টা অভিযোগের ধাক্কাধাক্কি। তবে, এই প্রাণচাঞ্চল্যপূর্ণ আবহের মধ্যেও সাধারণ ভোটার ও দলের কিছু নেতার মধ্যে আড়ালে থাকছে এক ধরনের নীরবতা। প্রকাশ্য রাস্তায় গলায় গামছা, চায়ের দোকানে কিংবা মিছিলের মাঝে সাধারণ ভোটাররা সরাসরি কথা বলছে কম, তবে তারা ভোটে তাদের আগ্রহের কথাও প্রকাশ করছে। স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সেই নীরব ভোটাররাই শেষ পর্যন্ত ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে, আর বেশিরভাগই মনে করছেন, এই বার বরগুনার দুই আসনে বিএনপি প্রার্থীরা এগিয়ে রয়েছেন।
জেলা মূলত ছয়টি উপজেলা ও চারটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত। এই জেলায় আগে ছিল তিনটি সংসদীয় আসন, তবে ভৌগলিক পরিবর্তনের কারণে এখন দুইটি। সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী কর্মকর্তাদের তথ্য মতে, এই দু’টি আসনের মোট ভোটার সংখ্যা মোট আট লাখ ৫১ হাজার ৭৯০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৪ লক্ষ ২৩ হাজার ১৯৬ জন, মহিলা ভোটার ৪ লক্ষ ২৮ হাজার ৫৭৯ জন এবং হিজরা ভোটার রয়েছে ১৫ জন। আসন্ন নির্বাচনে মোট ১৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যাদের মধ্যে বিএনপি, জামায়াত-ইসলামী আন্দোলন, ইসলামী আন্দোলনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা রয়েছেন।
১০৯, বরগুনা-১ আসন:
বাংলাদেশের দক্ষিণে অবস্থিত এই আসনটি গঠিত হয়েছে বরগুনা সদর, আমতলী ও তালতলী উপজেলার সমন্বয়ে। ২০০৮ সালে নতুন আসনের বিন্যাসের আগে এই আসনটি বরগুনা সদরের অংশ ছিল, যেখানে আমতলী ও তালতলী ছিল আলাদা। এই আসনে বর্তমানে ভোটার সংখ্যা পাঁচ লক্ষ ১৬ হাজার ৯৮৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লক্ষ ৫৬ হাজার ৮৯২ এবং মহিলা ভোটার ২ লক্ষ ৬০ হাজার ৮০৩। হিজরা ভোটার রয়েছেন ১১ জন। ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, ২০০১ সালে এই আসনে বিএনপি থেকে মো. নুরুল ইসলাম মনিকে নির্বাচিত করা হয়েছিল, পরে তিনি একাধিকবার আওয়ামী লীগ ও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবেও জয় লাভ করেন। ২০২৪ সালের নির্বাচনে তিনি আবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। এই আসনে এবারে চারজন প্রতিদ্বন্দ্বী রয়েছেন, যেমন—বিএনপি থেকে মো. নজরুল ইসলাম মোল্লা, জামায়াত-জোটের খেলাফত মজলিসের মো. জাহাঙ্গীর হোসাইন, ইসলামী আন্দোলনের মাহমুদুল হোসাইন অলি উল্লাহ, ও জাতীয় পার্টির মো. জামাল হোসেন। বিএনপি’s মো. নজরুল ইসলাম মোল্লা দলের জোরেশোরে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন, তবে অন্য প্রার্থীরাও নিজ নিজ এলাকায় সরব। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে বিএনপি ও ইসলামী আন্দোলনের মধ্যে। তাদের ধারনা, যেকোনো একজনই বিজয়ী হতে পারেন।
১০৯, বরগুনা-২ আসন:
এই আসনটি গঠিত হয়েছে পাথরঘাটা, বামনা ও বেতাগী উপজেলা নিয়ে। আগে ছিল অন্য সংজ্ঞা, পরে সীমানা পরিবর্তন করে বেতাগীও এই আসনের অংশ হয়েছে। মোট ভোটার সংখ্যা তিন লক্ষ ৩৪ হাজার ৮০৪। এর মধ্যে পুরুষ ১ লক্ষ ৬৬ হাজার ৩০৪, মহিলা ১ লক্ষ ৬৮ হাজার ৪৯৬। হিজরা রয়েছেন ৪ জন। এখানকার ইতিহাসে অন্যতম প্রভাবশালী প্রার্থী বিএনপি থেকে নূরুল ইসলাম মনিই, যিনি ২০০১ সালে প্রথম নির্বাচিত হন। এর মধ্যেও তিনি বহুবার নির্বাচিত হয়েছেন। বর্তমানে এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মোট নয়জন। তারা হলেন—বিএনপি থেকে নূরুল ইসলাম মনির, জামায়াত থেকে ডা. সুলতান আহমদ, ইসলামী আন্দোলনের মো. মিজানুর রহমান, জাতীয় পার্টির আব্দুল লতিফ ফরাজি, অন্যান্য স্বতন্ত্র ও দলের প্রার্থী। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই আসনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে হবে। নূরুল ইসলাম মনির জয় হলে ভবিষ্যতে সরকারের মন্ত্রীও হতে পারেন, যা এই এলাকার উন্নয়নের জন্য ইতিবাচক।
নির্বাচন বিশ্লেষকদের মতে, এই দু’টি আসনেই মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বিএনপি ও ইসলামী শক্তির মধ্যে। সাধারণ মানুষের কাছে এখন পছন্দের প্রার্থী কাউকে মনে করে বেশি ভোট দেবে, সেটাই মূল বিষয়। তরুণ ভোটাররাও খুবই আগ্রহী নিজের পছন্দ অনুযায়ী ভোট দেওয়ার জন্য। একদিকে নতুন চলমান পরিবর্তিত পরিস্থিতি, অন্যদিকে ভোটদানে অনুপ্রেরণা ও আশাবাদ তাদের মধ্যে জন্ম নিয়েছে। বিগত সময়ের মতো এবারও ভোটের অবাধতা, সুষ্ঠুতা ও গ্রহণযোগ্যতা জোরালোভাবে থাকবে—এমন প্রত্যাশাও দেখা যাচ্ছে।











