মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেছেন, নদী তীরবর্তী জমিতে তামাক চাষ করা মৎস্যসম্পদের জন্য একটি গুরুতর হুমকি। সম্প্রতি ফসলি জমিতে তামাক চাষ নিষিদ্ধের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার ফলে এই ক্ষতিকর প্রভাব থেকে কিছুটা সুরক্ষা লাভ সম্ভব হয়েছে। শনিবার রাজধানীর বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের (বিএআরসি) আয়োজনে এক কর্মশালা প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেছেন, নদী তীরবর্তী জমিতে তামাক চাষ করা মৎস্যসম্পদের জন্য একটি গুরুতর হুমকি। সম্প্রতি ফসলি জমিতে তামাক চাষ নিষিদ্ধের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার ফলে এই ক্ষতিকর প্রভাব থেকে কিছুটা সুরক্ষা লাভ সম্ভব হয়েছে। শনিবার রাজধানীর বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের (বিএআরসি) আয়োজনে এক কর্মশালা প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
উপদেষ্টা ফরিদা আরও বলেন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাত শুধু অর্থনীতি বা বিজ্ঞানের বিষয়ে নয়; এর সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত রয়েছে ধর্ম, সংস্কৃতি এবং সামাজিক মূল্যবোধ। আমরা যা মৎস্যসম্পদ নিয়ে কাজ করি তা আমাদের সার্বিক জীবনদর্শনের অঙ্গ। এই বিষয়গুলো কেবল অর্থনৈতিক বা প্রযুক্তিগত দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে পুরোপুরি বোঝা যায় না।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, হালদা নদী সাধারণ মানুষের সম্পদ। তাই গবেষণার ফলাফল এবং চূড়ান্ত প্রতিবেদন এমন ভাষায় হওয়া উচিত যাতে সাধারণ মানুষ সহজে বুঝতে পারে। যদিও প্রেজেন্টেশন ও শিরোনাম ইংরেজিতে থাকতে পারে, তবে চূড়ান্ত প্রতিবেদনের ভাষা অবশ্যই বাংলায় প্রকাশ করতে হবে।
সামাজিক ও অর্থনৈতিক গবেষণায় নারীদের অংশগ্রহণের গুরুত্বের ওপর জোর দিয়ে উপদেষ্টা বলেন, হালদা নদীর সাথে সম্পৃক্ত বাস্তবতা বোঝার জন্য নারীদের অভিজ্ঞতা ও স্থানীয় পরিস্থিতি বিবেচনা করা জরুরি। নারীদের অংশগ্রহণ ছাড়া কোনও সামাজিক-অর্থনৈতিক গবেষণা সম্পূর্ণ হয় না। গবেষণা পদ্ধতিতেও এই দিকটি স্পষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত করতে আহ্বান জানান তিনি।
নদীর বর্তমান পরিস্থিতির কথা বলতে গিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, মানুষের ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডই হালদা নদীর প্রধান হুমকি। ‘এনথ্রোপোজেনিক’ শব্দের ব্যবহার এড়িয়ে প্রকৃত চিত্র তুলে ধরতে তিনি বলেন, এটি মানুষের ভুলে veya ক্ষতিকর কর্মকাণ্ডকে প্রাধান্য দিয়ে স্পষ্ট করতে হবে। ভুজপুর রাবার ড্যাম ক্ষতিকর হলে তা দ্রুত সরিয়ে ফেলার প্রস্তাব দেন তিনি। যদিও গবেষণার কাজ চলমান থাকলেও, কিছু ক্ষেত্রে জরুরি ভিত্তিতে সংশোধনমূলক ব্যবস্থা নেওয়া আবশ্যক।
তামাক চাষের ক্ষতিকর প্রভাব তুলে ধরে তিনি বলেন, নদীতীরবর্তী তামাক চাষের ফলে মৎস্যসম্পদ মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়ছে। এ জন্য এই চাষ আবদ্ধ করে তোলার জন্য নীতিমালায় আরও কঠোর উদ্যোগ নেওয়া দরকার।
উপদেষ্টা আরও বলেন, স্লুইসগেট ব্যবস্থাপনা এবং ‘সাকার ফিস’ নামে আগ্রাসী প্রজাতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। এরূপ মাছের প্রজনন ও বিস্তার রোধ করতে হবে, যাতে এই ধরনের ক্ষতিকর মাছের প্রজনন সংরক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হয়। তিনি আরও যোগ করেন, এই ধরনের দুর্নীতিও যেন পার্লামেন্টে প্রবেশ না করে, তার জন্য সতর্ক ও সঠিক মানুষ নির্বাচনে মনোযোগ দিতে হবে।
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএফআরআই) মহাপরিচালক ড. অনুরাধা ভদ্রের সভাপতিত্বে এই কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশনের চেয়ারম্যান ও অতিরিক্ত সচিব মো. ইমাম উদ্দীন কবীর এবং মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. আবদুর রউফ।











