স্বর্ণের বাজারে অদ্ভুত অস্থিরতা: ১২ ঘণ্টাও টেকেনি নতুন দাম, ভরি ২ লাখ ৫৯ হাজার ছাড়াল

স্বর্ণের বাজারে অদ্ভুত অস্থিরতা: ১২ ঘণ্টাও টেকেনি নতুন দাম, ভরি ২ লাখ ৫৯ হাজার ছাড়াল

২০২৬ সালের শুরু থেকেই বাংলাদেশের স্বর্ণের বাজারে ব্যাপক অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামের পরিবর্তনের সাথে তাল মিলিয়ে দেশের বাজারে দাম দ্রুত উঠানামা করছে, যা কিম্বা কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে পরিবর্তিত হচ্ছে। এ পরিস্থিতির কারণে ব্যবসায়ীরা স্বর্ণের দাম নির্ধারণ ও পরিবর্তনের ক্ষেত্রে ব্যাপক চাপের মুখে পড়েছেন। গত রবিবারের ঘটনাটি এরকমই এক নজির। সকাল

২০২৬ সালের শুরু থেকেই বাংলাদেশের স্বর্ণের বাজারে ব্যাপক অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামের পরিবর্তনের সাথে তাল মিলিয়ে দেশের বাজারে দাম দ্রুত উঠানামা করছে, যা কিম্বা কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে পরিবর্তিত হচ্ছে। এ পরিস্থিতির কারণে ব্যবসায়ীরা স্বর্ণের দাম নির্ধারণ ও পরিবর্তনের ক্ষেত্রে ব্যাপক চাপের মুখে পড়েছেন।

গত রবিবারের ঘটনাটি এরকমই এক নজির। সকাল থেকে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) স্বর্ণের ভরি মূল্য এক লাফে ৪ হাজার ৮২ টাকা বাড়ানোর ঘোষণা দেয়। কিন্তু সেই দিনটি শেষ হওয়ার আগেই বিশ্ববাজারে মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব কাটাতে রাত ৯:৩০ এর দিকে আবার মূল্য কমানোর ঘোষণা আসে। এই ধারাবাহিক পরিবর্তনের ফলে দেশের বাজারে বর্তমানে সবচেয়ে মানসম্পন্ন ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের ভরি দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৫৯ হাজার ৬৯৯ টাকায়। এই দাম আজ সোমবার পর্যন্ত কার্যকর এবং এই দরে অলঙ্কার বিক্রয় ও কেনাকাটা চলমান।

বাজুসের তথ্য অনুযায়ী, অন্য ক্যারেটের স্বর্ণের দাম প্রতি ভরি যথাক্রমে ২১ ক্যারেটের ২ লাখ ৪৬ হাজার ৫২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ২ লাখ ১০ হাজার ৮৮৫ টাকা ও সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের মূল্য ১ লাখ ৭২ হাজার ৫৬৯ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে ক্রেতাদের জন্য জানিয়ে রাখা জরুরী যে, এই মূল্যগুলোর সঙ্গে সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট ও বাজুসের নির্ধারিত ন্যূনতম ৬ শতাংশ মজুরি যোগ করতে হবে। তদ্ব্যতীত, গহনার কারুকাজ ও নকশা অনুযায়ী মজুরির হার আরও বাড়তে পারে।

বিশ্লেষণে দেখা যায়, চলতি বছরে মাত্র কিছু মাসের মধ্যে দেশের বাজারে মোট ২০ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৪ বার দাম বাড়ানো হয়েছে, আর ৬ বার কমানো হয়েছে। এই অস্থিরতার রূপ ধারণ করা বাজারের পরিস্থিতি ২০২৫ সালে আরও গুরুতর ছিল, যখন পুরো বছর জুড়ে মোট ৯৩ বার দাম পরিবর্তন হয়েছে। বাজুস জানিয়েছে যে, আন্তর্জাতিক বাজারের ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং বিশ্ববাজারে স্বর্ণের চাহিদার কারণে তারা দ্রুত দাম সমন্বয় করতে বাধ্য হচ্ছেন।

বিশ্বজুড়ে অস্থিরতা, নিরাপদ বিনিয়োগের মাধ্যম হিসেবে স্বর্ণের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়া এবং দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির প্রভাব এই অস্থিরতার জন্য দায়ী বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এই পরিস্থিতি সাধারণ ক্রেতাদের জন্য বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, কারণ স্বর্ণের মূল্যের এই ওঠানামা বাজারের স্থিতিশীলতা ও বিনিয়োগের জন্য নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

Staff Reporter
ADMINISTRATOR
PROFILE

Posts Carousel

Latest Posts

Top Authors

Most Commented

Featured Videos